উপ সম্পাদকীয়

বিবেক দ্বারা হোক পথ চলা

সোহেল আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৭-২০১৮ ইং ০০:৪২:৩১ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

চলছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ ফুটবল। ফুটবল জ্বরে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। বুদ্ধি, শ্রম দ্বারা প্রতিপক্ষকে কপোকাত করে কে কত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকবে সে চেষ্টায় কোন ছাড় নেই। তার পরেও প্রতিযোগিতার চিরায়ত নিয়মানুযায়ী এক দলকে পরাজিত হতেই হয়। পরাজিত দলের সমর্থকগোষ্ঠী আবেগে আপ্লুত হন, চোখের নোনা জল ভাসান।
আবেগ মানুষের স্বভাবত প্রবৃত্তি। বিবেকের সাথে আবেগের বসবাস। মানুষের আবেগ কোন মন্দ গুণ নয়;বরং আবেগ দ্বারাই এ বিশ্বে রচিত হয়েছে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার। তাই বলে সকল কাজ আবেগের দৌড়ে সম্পন্ন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দেশ শাসনতো নয়ই। একটি দেশে নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন বসবাস করেন। আবেগের কোন সিদ্ধান্তে এসব মানুষের কোন এক শ্রেণির ক্ষতি হতেই পারে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হয় বিবেক দ্বারা। আমাদের জানা আছে, বিশ্বের সকল দেশই পরিচালিত হয় নিজ নিজ সংবিধান অনুযায়ী। দেশ শাসনে সংবিধান হলো পথ প্রদর্শক। আমাদের দেশ বহুদলীয় গণতন্ত্র পদ্ধতিতে পরিচালিত। আর গণতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হলো সংবিধান। সংবিধানে উল্লেখ আছে, ‘জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধ্য নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ এতে বুঝা যায়, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য দাবী আদায়ে সভা-সমাবেশ বা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতের অংশ নেয়ার রাজনৈতিক অধিকার আছে। এসব কর্মসূচিতে বাধাদান গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনা সরকারকে সমালোচিত করেছে। এর প্রতিবাদে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে ঐ সরকার দলীয় ছাত্র সংঘটনের লোকজন হামলা চালায়। বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থীকে হাতুড়ী পেটা করায় বিবেকবান মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে নির্যাতনে পুলিশের নীরব ভূমিকা এবং গত ৩ জুলাই শিক্ষক-অভিভাবকদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধাদান ও গ্রেফতারের ঘটনা কারো কাম্য ছিল না। গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এক দিকে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা, অন্য দিকে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে নানা আলোচনা-সমালোচনায় ছাত্র সমাজ কোটা বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান ছিল। তাদের সন্দেহের কারণ যথোপযুক্ত। যার প্রমান প্রজ্ঞাপনে গড়িমসি, হামলা মামলা যা আসলেই কোটা নিয়ে সরকারের স্বদিচ্ছাকে প্রশ্নের সম্মুখে দাঁড় করায়। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও কোটা আন্দোলনের প্রথম সারির ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের অভিযোগ ছিল তাদের চোখ বেঁধে রাখা হয়েছে। পুলিশ অবশ্য চোখ বেঁধে রাখার কথা অস্বীকার করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদুল খানকে গ্রেফতার ও তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এসবের লক্ষণ কোন মানুষের কাছেই ভালো মনে হয়নি। ইতিমধ্যে সরকার একটি পর্যালোচনা কমিটি করেছে। বলা হচ্ছে ৮ জুলাই এ কমিটি পর্যালোচনা বৈঠক করবে। সেখানে কোটা সংস্কার বা বাতিল বিষয়ে পর্যালোচনা হবে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এর প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। আমরা আশা করব অতিদ্রুতই এর আশু সমাধান হোক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবী আদায় হোক। নীরিহ শিক্ষার্থীদের হয়নারী ও নির্যাতন বন্ধ হোক। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক। গ্রেফতারদের মুক্তি এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর কথা
  • এই অপসংস্কৃতির অবসান হোক
  • সৈয়দ সুমন আহমদ
  • পানিশূন্য তিস্তা
  • বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারের গ্যাড়াকলে গ্রাহকরা : দায় কার?
  • পরিবহন ধর্মঘট এবং জনদুর্ভোগ
  • পানি সমস্যা সমাধানে নদী খনন জরুরি
  • শব্দসন্ত্রাস
  • মাধবপুর : যাতায়াত দুর্ভোগ
  •   তাফসীরুল কুরআন
  • ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহর পুরস্কার নির্ধারিত
  • প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রাহ.) ও সাদাকায়ে জারিয়া
  • আল্লাহ নামের তুলনা নেই
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও অমীমাংসিত কিছু প্রশ্ন
  • স্বীকৃতি, শোকরিয়া ও রাষ্ট্রের আদর্শ নাগরিক
  • ধর্মঘটের নামে মানুষকে জিম্মি করা মানবাধিকার পরিপন্থি
  • Developed by: Sparkle IT