ধর্ম ও জীবন

হজ্জ যাত্রা : প্রস্তুতি এবং করণীয়

আহমেদ আমিন চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৭-২০১৮ ইং ০০:৪৫:৫৩ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত

অতি. পুলিশ সুপার (অব.)
প্রতিটি মুসলমানের আমৃত্য সাধনা ও একটা সুপ্ত আকাক্সক্ষা থাকে অন্তত একবার পুণ্যভূমি মক্কা এবং মদিনা জেয়ারতের অর্থাৎ হজ্জ করার। মক্কা একটি দুরবর্তী মরুময় দেশ, ভাষার ভিন্নতা, পরিবেশের ভিন্নতা, সংস্কার ও সংস্কৃতির ভিন্নতা তদুপরি ব্যয়বহুল এবং ঝক্কি-ঝামেলা যুক্ত ভ্রমণ বলে যাব যাচ্ছি করে প্রায়শ যাত্রাটা দেরী হতে থাকে। বিশেষত বাংলাদেশের হাজিদের মধ্যে দেখা যায় বেশির ভাগই সংসারের পাঠ চুকে বৃদ্ধ বয়সে হজ্জে যায় অথচ ইন্দোনেশিয়ার হাজিরা প্রায় সবই অল্প বয়সী, তাদের এমন সামাজিক রেওয়াজ যে হাজী না হলে মেয়েদের বিয়ে হয় না। সে দেশের সামাজিকতায় এমনি হজ্জের তাগিদ এবং ধর্মীয় বিশ্বাস।
১। হজ্জে যেতে হলে প্রয়োজন আছে মানসিক, শারিরিক সামর্থ ও আর্থিক প্রস্তুতির। আমরা নি¤েœ সম্মানিত হাজিদের সুবিধার জন্য, জ্ঞাতব্যের জন্য, চেষ্টা করব হজ্জের প্রস্তুতির প্রতিটি পর্ব সম্বন্ধে যাত্রীদের সম্যক বাস্তব ধারনা দিতে যা আপনার পবিত্র হজ্জ সমাপনে অত্যন্ত সহায়ক হবে।
আরবী জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার তারিখ সাপেক্ষে হজ্জের তারিখ নির্ধারিত হয়। হজ্জ যাত্রীদের :
ক) স্বাস্থ্য পরীক্ষা। খ) টিকা দেওয়া। গ) স্বাস্থ্য সনদ সংগ্রহ করা। ঘ) হজ্জের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র/ পোশাক সংগ্রহ করা। ঙ) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আশকোনাস্ত হাজী ক্যাম্প থেকে হজ্জের যাবতীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা। চ) হজ্জ যাত্রী হাজী সাহেবদের মনবল হজ্জ প্রতিপালনে বিরাট সহায়ক ভূমিকা রাখে। তারা যেন যাত্রা পূর্বে তাঁদের মোনাযাতে ‘হে আল্লাহ তুমি আমার হজ্জ যাত্রা ও করণীয় যে কোনো কাজ সহজ করে দাও এবং আমার হজ্জ কবুল কর’ বলে করুণাময় আল্লাহর কাছে মোনাজাত করবেন।
২। যাত্রার পূর্বে করণীয় :
ক) আপনার প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করা। খ) বিমানের টিকেট সংগ্রহ করা। গ) হালাল রুজির টাকার পরিবর্তে বৈদেশিক মুদ্রা/রিয়াল সংগ্রহ করা। মনে রাখবেন আপনার হালাল রুজির টাকাই আপনার হজ্জ কবুলের পূর্বশর্ত। ঘ) ম্যানিনজাইটিস এর টিকা দিয়ে সনদ সংগ্রহ করে নিজ তত্ত্বাবধানে রাখা। ঙ) হজ্জের নিয়ম কানুন ও রীতি জানার জন্য বিভিন্ন বই পুস্তক পড়া ও আমল করা। চ) ধর্মীয় বিভিন্ন বই পুস্তক পড়ে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা যা আপনার এবাদতে সহায়ক হবে। ছ) প্রয়োজনে অভিজ্ঞ হাজী সাহেবদের সাথে আলোচনা করে হজ্জের বিভিন্ন করণীয় ও ঐদেশের আচার আচরণ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করা। জ) আপনার ধর্মমত বা ধর্মীয় আচরণ অন্য কাউকে আচরণ করার জন্য বাধ্য না করা বা এনিয়ে বাক বিতন্ডা না করা।
৩। হজ্জে যাত্রালগ্নে আপনার প্রয়োজনীয় মালপত্র :
ক) পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, টাকা ও ডকুমেন্ট রাখার জন্য গলায় ঝুলানো ছোট ব্যাগ সংগ্রহ করা। খ) পুরুষের জন্য এহরাম : কমপক্ষে ২ সেট এহরামের কাপড় সংগ্রহ করা। নিচের অংশ আড়াই হাত বহরের আড়াই গজ এক টুকরা এবং শরীরের উপরের অংশের জন্য আড়াই হাত বহরের তিন গজ এক টুকরা নিয়ে একটি সেট প্রস্তুত করা। এহরামে সুতি কাপড় হলে সবচেয়ে ভাল, এ কাপড়ে কোন সেলাই থাকবে না।
গ) নারীদের জন্য এহরাম : নারীদের জন্য আঁটসাট বিহীন সিলাই যুক্ত শরীরের নিষিদ্ধ অংশ দেখা যাবে না বা শরীরের ভাঁজ দৃশ্যমান হবে এমন স্বাভাবিক পোশাকই এহরাম হিসেবে গণ্য করা হবে। অবশ্যই ওড়না এবং বোরকা ব্যবহার করতে হবে। ঘ) নরম দুই ফিতাওয়ালা সেন্ডেল নেবেন, এহরাম পরার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনে বেল্ট সংগ্রহ করতে হবে। ঙ) গামছা/তোয়ালে, লুঙ্গী, গেঞ্জী, পায়জামা, পাঞ্জাবী, সার্ট, ছোট ছাতা নিতে হবে। চ) সাবান, টুথপেস্ট, ব্রাশ, মেশওয়াক, নেইল কাটার, সুঁই-সুতা, থালা-বাটি, গ্ল্যাস ইত্যাদি সঙ্গে নিতে হবে অথবা সেখানে গিয়ে সংগ্রহ করতে হবে। ছ) হজ্জ সংক্রান্ত বই, কোরআন শরীফ, ধর্মীয় পুস্তক, কাগজ কলম, প্রয়োজনীয় ঔষধ পত্র (ব্যবস্থাপত্রসহ) এবং অন্তত আপনার ব্যবহারের দুইটি চশমা নিতে হবে। জ) ফিরার পথে বিমান বন্দরে খরচের জন্য কিছু বাংলাদেশি টাকা সঙ্গে নিতে হবে। ঝ) নারীদের জন্য বোরখা নিতে হবে। ঞ) মোবাইল সেট নিয়ে যাবেন। সৌদিতে গিয়ে সিম কিনে নিতে হবে। মালপত্র নেওয়ার জন্য ৫৬ সে.মি. ২৫ সে.মি ৪৫ মাপের ব্যাগ এবং হাত ব্যাগ নিজ দায়িত্বে সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাগের উপরে নাম ঠিকানা, ফোন নাম্বার পাসর্পোট নাম্বার এবং বাংলাদেশ লিখতে হবে।
৪। ঢাকার হজ্জ ক্যাম্পে করণীয় :
ক) ঢাকার বিমান বন্দরের কাছাকাছি আশকোনা হাজি ক্যাম্পে তারিখ মতে হাজির হয়ে যে কয়দিন অবস্থান করবেন সেই কয়দিন আপনি অবশ্যই আপনার স্বাস্থ্যের প্রতি এবং নিজস্ব মালামাল এর প্রতি মনোযোগ রাখবেন। অবশ্যই হাজী ক্যাম্পে শিখানো মতে হজ্জের তালিম এর প্রতি মনযোগী হবেন। খ) আপনার কোন ভ্যাকসিন/টিকা দেওয়া বাকি থাকলে তা অবশ্যই এই সময়ের মধ্যে দিয়ে নিবেন এবং আপনার পরিমাণ মত বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে নিতে ভুলবেন না।
৫। ব্যাগেজ নিয়ম :
ক) বিমান উড্ডয়নকালে হাত ব্যাগে ছুরি, কাচি, কোন দড়ি নেওয়া যাবে না। আপনার ব্যাগেজে কোন মতেই ৪০ কেজির বেশি মালামাল বহন করা যাবে না। খ) চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোন ঔষধ বহন করবেন না। গ) চাল, ডাল, শুটকি, গুর, ইত্যাদিসহ পচনশীল কোন খাদ্যদ্রব্য বহন করা যাবেনা। ঘ) রান্না করা খাবার, তরি তরকারি, ফলমূল বহন করা যাবে না। ঙ) কোন অবস্থাতেই পান/ শুপারি বহন করা যাবে না। ইহা সৌদি আরবে জঘন্য অপরাধ বলে গণ্য হয়। ধরা পড়লে আপনার জেল জরিমানা হবে। সঙ্গে মান সম্মানও যাবে।
৬। জরুরী কাগজপত্র যা সঙ্গে নিবেন :
ক) ১০ কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ষ্ট্যাম্প আকারের ৬ কপি ছবি, পাসপোর্টের ২/৩ পাতার ফটোকপি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, টিকা কার্ড। নারী হজ্জযাত্রীর ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত মাহরামের সঙ্গে সম্পর্কের সনদ, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ। সরকারি চাকরিজীবী হলে অফিস আদেশ বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে দেখাতে হয় বিধায় এগুলো সঙ্গে রাখতে হবে। খ) প্রত্যেক হজ্জযাত্রীর ৭ সংখ্যার একটি পরিচিতি নম্বর থাকে। এর প্রথম ৪ সংখ্যা এজেন্সির নম্বর আর শেষ ৩ সংখ্যা হজ্জযাত্রীর পরিচিতি নম্বর। ১০ সংখ্যার ট্র্যাকিং নম্বরটি প্রাক নিবন্ধনের সময় কম্পিউটারে দেওয়া নম্বর যেমন ঘ১১৭০৯ঋ১ঊ২ঈ জানা থাকলে হজ্জযাত্রী ও তাঁর আত্মীয়-স্বজন ওয়েবসাইটে ওই হজ্জযাত্রীর তথ্য পেতে পারেন সহজে। গ) সৌদি সরকার হজ্জযাত্রীদের জন্য ই-ভিসা চালু করেছে। এই ভিসা পাসপোর্টের সঙ্গে লাগানো থাকে না। কাগজে প্রিন্ট করে দেবে। ফলে হজ্জযাত্রীদের এটি আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আগে পাসপোর্টের সঙ্গে ভিসা লাগানো থাকত বলে আলাদা করে ভিসা সংরক্ষণের প্রয়োজন হতো না।
৭। এহরাম :
ক) আপনার গন্তব্য ঢাকা থেকে যদি মদিনায় হয়, তাহলে এহরাম করা যাবে না; যখন মদিনা থেকে মক্কায় যাবেন, তখন এহরাম করতে হবে। খ) যদি মক্কায় যেতে হয়, তাহলে ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার আগে এহরামের নিয়ত করে এহরাম বেঁধে নেওয়া উত্তম। কারণ, জেদ্দা পৌঁছানোর আগেই মিকাত বা এহরাম বাঁধার নিদিষ্ট স্থান। গ) বিমানে যদিও এহরামের নিয়ত করার কথা বলা হয়, কিন্তু ওই সময় অনেকে ঘুমিয়ে থাকেন আর বিমানে পোশাক পরিবর্তন করাটা দৃৃষ্টিকটু। ঘ) বিনা এহরামে মিকাত পার হলে এ জন্য আপনাকে দম বা কাফফারা দিতে হবে। তদুপরি গুনাহগার হবেন। ঙ) এহরাম বাঁধার পর সাংসারিক কাজকর্ম নিষেধ। চ) এহরাম অবস্থায় পুরুষদের কোনো সেলাই করা জামা, পায়জামা ইত্যাদি পড়া বৈধ নয়। ছ) কথা ও কাজে কাউকে কষ্ট দেওয়া যাবে না, নখ, চুল, দাড়ি-গোঁফ ও শরীরের একটি পশমও কাটা বা ছেঁড়া যাবে না। জ) কোনো ধরনের সুগন্ধি লাগানো যাবে না, কোনো ধরনের শিকার করা যাবে না, ক্ষতিকারক সব প্রাণী মারা যাবে। ক্ষতি করে না এমন কোনো প্রাণী মারা যাবে না।
৮। মক্কায় পৌঁছানোর পর যা করতে হবে :
মক্কায় পৌঁছানোর পর আপনার থাকার জায়গায় মালপত্র রেখে ক্লান্ত থাকলে বিশ্রাম করুন। আর যদি নামাজের ওয়াক্ত হয়, নামাজ আদায় করুন। বিশ্রাম শেষে দলবদ্ধভাবে ওমরাহ পালন করুন।
মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) অনেক প্রবেশ পথ আছে। সব কটি দেখতে একই রকম। কিন্তু প্রতিটি প্রবেশ পথে আরবি ও ইংরেজিতে ১, ২, ও ৩ এভাবে প্রবেশ পথের নাম লিখা আছে। যেমন : বাদশা আব্দুল আজিজ প্রবেশ পথ, আপনি আগে থেকে ঠিক করবেন কোন প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকবেন বা বের হবেন। সফরসঙ্গীকেও স্থান চিনিয়ে দিন। তিনি যদি হারিয়ে যান, তাহলে নির্দিষ্ট নম্বরের গেটের সামনে থাকবেন। এতে ভেতরে ভিড়ে হারিয়ে গেলেও নির্দিষ্ট স্থানে এসে সঙ্গীকে খুঁজে পাবেন।
কাবা শরিফে স্যান্ডেল রাখার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকবেন, নির্দিষ্ট স্থানে স্যান্ডেল রাখুন। যেখানে-সেখানে স্যান্ডেল রাখলে পরে খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতিটি জুতা রাখার র‌্যাকেও নম্বর দেওয়া আছে। এই নম্বর মনে রাখুন। চাইলে জুতা বহন করার ব্যাগ সঙ্গে রাখতে পারেন।
কাবা ঘরের চারটি কোণের আলাদা নাম আছে: হাজরে আসওয়াদ, রুকনে ইরাকি, রুকনে শামি ও রুকনে ইয়ামেনি। হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোণ থেকে শুরু হয়ে কাবাঘরের পরবর্তী কোন রুকনে ইরাকি (দুই কোণের মাঝামাঝি স্থান মিজাবে রহমত ও হাতিম)। তারপর যথাক্রমে রুকনে শামি ও রুকনে ইয়ামেনি। এটা ঘুরে আবার হাজরে আসওয়াদ বরাবর এলে তাওয়াফের এক চক্কর পূর্ণ হয়। এভাবে একে একে সাত চক্কর দিতে হয়। নি¤েœ ছবি দেখুন এবং আমল করুন।
প্রতি চক্কর পূর্ণ হতে হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন সব সময় ওখানে প্রচন্ড ভীড় থাকে তাই দূর্ঘটনা এড়াতে ঐ বরাবর এসে নিজের ডান হাতের তালুতে হালকা চুমু দিয়ে পুনরায় পরবর্তী চক্কর আরম্ভ করুন।
তাওয়াফ শেষে পার্শ্ববর্তী সাফা-মারওয়া গিয়ে সাঈ করুন। সাঈ সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে শেষ হয়। সাফা থেকে মারওয়া প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন দৌড়। এভাবে সাতটি দৌড় সম্পূর্ণ হলে একটি সাঈ পূর্ণ হয় (মনে রাখার জন্য মারওয়াতে ১, ৩, ৫, ৭ নম্বর দৌড় বা চক্করগুলো হবে)।
ওমরাহর নিয়ম-কানুন আগে জেনে নেবেন। এসব কাজ সাত চক্কর, নামাজ আদায় করা, জমজমের পানি পান করা, সাঈ করা (সাফা-মারওয়া পাহাড়ে দৌঁড়ানো যদিও মসৃণ পথ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত), মাথা ন্যাড়া অথবা চুল ছোট করা। ওয়াক্তের নামাজের সময় হলে যতটুকু হয়েছে ওই সময় নামাজ পড়ে আবার বাকিটুকু শেষ করা।
৯। ওমরাহ :
হিল (কাবা শরিফের সীমানার বাইরে মিকাতের ভেতরের স্থান) থেকে অথবা মিকাত থেকে এহরাম বেঁধে বায়তুল্লাহ শরিফ তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া সাঈ করা এবং মাথার চুল ফেলে দেওয়া বা ছোট করাকে ওমরাহ বলে।
হজ্জ তিন প্রকার-তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ।
তামাত্তু : হজ্জের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ্জ) ওমরাহর নিয়তে এহরাম করে, ওমরাহ পালন করে, পরে হজ্জের নিয়ত করে হজ্জ পালন করাকে হজ্জে তামাত্তু বলে।
কিরান : হজ্জের মাসসমূহে একই সঙ্গে হজ্জ ও ওমরাহ পালনের নিয়তে এহরাম করে ওমরাহ ও হজ্জ করাকে হজ্জে কিরান বলে।
ইফরাদ : শুধু হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে এহরাম বেঁধে হজ্জ সম্পাদনকে হজ্জে ইফরাদ বলে।
১০। পরামর্শ :
দেশে থাকাকালীন আপনার প্যাকেজের সুবিধাদি যেমন মক্কা, মদিনায় থাকা, খাওয়া, স্থানান্তর করা ঐতিহাসিক স্থান পরিভ্রমন করা, কোরবানিসহ অন্য সুবিধার কথা হজ্জ এজেন্সির কাছ থেকে লিখিতসহ খুব ভালোভাবে বুঝে নিন। সৌদি আরব গিয়ে তা মিলিয়ে নিতে পারবেন।
কোরবানি বা দম দেওয়ার জন্য (৪৫৭ সৌদি রিয়াল) ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সৌদি সরকারের স্বীকৃতি ব্যবস্থা হারাম শরীফের প্রথম গেইটে এর অবস্থান। এতে সময় বাঁচে, নিরাপদ ও নিশ্চিত হবেন কোরবাণির ব্যাপারে। এতে হজ্জের অন্যান্য কাজ সহজে সারতে পারবেন। এর বাইরে কাউকে কোরবানীর দায়িত্ব দেওয়া হলে আপনি প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সৌদি আরবে অবস্থানকালে ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। সিগন্যাল পড়লে রাস্তা পার হতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার সময় অবশ্যই ডানে-বাঁয়ে দেখেশুনে সাবধানে পার হতে হবে। কখনো দৌড়ে রাস্তা পারাপার হবেন না। মনে রাখবেন সৌদি আরবে গাড়ি চলে হাতের ডান দিক থেকে অর্থাৎ যা আমাদের দেশের নিয়মের বিপরিত, তাই অতি সতর্কতা অবলম্বন করবেন। কাবা শরিফ ও মসজিদে নববির ভেতরে কিছুদূর পর পর জমজম পানি (স্বাভাবিক ও ঠান্ডা) খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাণভরে জমজম পানি পান করুন। কোনো ধরনের অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় পড়লে বাংলাদেশ হজ্জ মিশনের মেডিকেল সদস্যের (চিকিৎসক) সঙ্গে যোগাযোগ করুন। হজ্জযাত্রীদের তথ্য, হারানো হজ্জযাত্রীদের খুঁজে পাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ হজ্জ মিশনে অবস্থিত আইটি হেল্প ডেস্ক সাহায্য করে। তাওয়াফ, সাঈ করার সময় অহেতুক কথা বলা বা ছবি তোলা বা কোন বিতর্ক থেকে বিরত থাকুন। টাকাপয়সা নিরাপদে রাখুন। না হয় যে কোন মুহূর্তে আপনার টাকা খুতি নিচের দিক থেকে ব্লেইড দিয়ে কেটে নিয়ে যেতে পারে।
মাহরাম : যেসব পুরুষের সঙ্গে মহিলাদের দেখা দেওয়া জায়েজ। যেমন স্বামী, বাবা, আপন ভাই, আপন চাচা-মামা, ছেলে ইত্যাদি। এছাড়া নারী হজ্জযাত্রী এককভাবে হজ্জে গমনের যোগ্য বিবেচিত হন না বলে মাহরমের সনদ পত্র সঙ্গে রাখুন। হজ্জের সময় হজ্জযাত্রীদের যেন কোনো রকম কষ্ট না হয়, আপনার হজ্জ এজেন্সি আপনাকে যথাযথ সুবিধাদি দেশ থেকে আপনাকে থাকা, খাওয়া পরিবহনসহ অন্য যেসব সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছিল, তা না দিলে আপনি মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ হজ্জ মিশনকে জানাতে পারেন। এতেও আপনি সন্তুষ্ট না থাকলে সৌদির ওয়াজারাতুল হজ্জ্ব (হজ্জ মন্ত্রণালয়) বরাবর লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। এই অফিসগুলো মক্কা ও মদিনার হারাম শরীফের কাছাকাছিতে অবস্থিত।
প্রথমে মদিনা হয়ে মক্কায় আসা হজ্জ যাত্রীদের জন্য :
মদিনা থেকে যদি মক্কায় আসেন, তাহলে এহরামের কাপড় সঙ্গে নিতে হবে। পথিমধ্যে ‘যুল হুলায়ফা’ নাকম স্থানে (মিকাত) এ এহরাম পরিধান করবেন এবং নফল নামাজ আদায় করবেন।
মসজিদে নববিতে নারীদের জন্য ভিন্ন প্রবেশপথ ও নামাজ পড়ার আলাদা জায়গা আছে। রিয়াজুল জান্নাতে নারীদের প্রবেশের সময়সূচি সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১:৩০টা, দুপুর ১টা থেকে বেলা ৩টা, রাত ৮ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। হজ্জযাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড়ে পথ হারানোর আশঙ্কা থাকে। তবে এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এ ব্যাপারে হজ্জযাত্রীদের সচেতন থাকতে হবে। মক্কা-মদিনায় প্রচুর বাংলাদেশি হোটেল আছে। মক্কার হোটেলগুলোর নাম ঢাকা হোটেল, এশিয়া হোটেল, চট্টগ্রাম হোটেল, হোটেল জমজম ইত্যাদি আরও কত কি বাহারী নাম। এসব হোটেলে ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, ডাল-সব রকমের বাঙালি খাবার পাওয়া যায়। হোটেল থেকে পার্সেলে একজনের খাবার কিনলে আপনার বাসায় বসে অনায়াসে দুজন খেতে পারেন। তাই বলে আপনি ভুঁড়ি ভোজন করে পেটের অসুখ বাধাবেন না। তাতে আপনার বহুল প্রতিক্ষিত-ইপ্সিত হজ্বের কার্যক্রম ব্যাহত হইতে পারে। মক্কা-মদিনায় অনেক বাংলাদেশি কাজ করেন, তাই ভাষাগত কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেনাকাটার সময় অবশ্যই দরদাম করে কিনবেন।
মক্কায় ঐতিহাসিক স্থান দর্শন :
হেরা গুহা, সাওর পর্বত, জান্নাতুল মা’আলা (কবরস্থান), মসজিদে জিন, মক্কা জাদুঘর, গিলাফ তৈরির কারখানা, লাইব্রেরি, মিনায় আল-খায়েফ মসজিদ, আরাফাতের ময়দান, নামিরা মসজিদ মুজদালিফা, জামারা (শয়তানের উদ্দেশে পাথর ছোড়ার স্থান) জেয়ারত করে আসতে পারেন।
মদিনার ঐতিহাসিক স্থান :
মদিনায় মসজিদে নববি (রিয়াজুল জান্নাহ), জান্নাতুল বাকি (কবরস্থান), ওহুদ পাহাড়, খন্দক, মসজিদে কুবা, মসজিদে কেবলাইতাইন, মসজিদে জুমআ, মসজিদে গামামাহ, মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাদশাহ ফাহাদ কোরআন শরিফ প্রিন্টিং কমপ্লেক্স জেয়ারত করে আসতে পারেন।
১১। হজ্জের সময় লক্ষ করুন :
হজের ৫ দিন মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা, মিনায় অবস্থান করবেন। তাই হাতবাগে এক সেট অতিরিক্ত এহরামের কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাবেন। ছোট বোতলে করে পানি নিয়ে যেতে ভুল

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT