সম্পাদকীয়

শতভাগ এলাকায় বিদ্যুতায়ন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৭-২০১৮ ইং ০১:৫৭:১৬ | সংবাদটি ৮১ বার পঠিত

সরকার ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অচিরেই আরও কয়েকটি উপজেলাকে বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসা হবে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আরইবি। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় বর্তমানে ৭৮টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে সরকার। নতুন এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো ও নতুন সংযোগ দেয়াসহ বিভিন্ন কাজে কালক্ষেপণের অভিযোগ রয়েছে, এসব সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে আছে দালালদের দৌরাত্ম্য। আর এই সব সমিতির কার্যালয়গুলোতে একইসঙ্গে চলছে ঘুষ লেনদেনের মহোৎসব। ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না। ঘুষ না দিলে হয়রানী করা হয় গ্রাহকদের। খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানের জরিপে এই চিত্র বেরিয়ে এসেছে। জরিপে আরও বেরিয়ে এসেছে সংযোগ নিতে প্রায় ৫০ শতাংশ গ্রাহককে নানাভাবে হয়রানীর শিকার হতে হয়। আর প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহককেই সংযোগ পেতে বাড়তি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংযোগ পেতে শতকরা কমপক্ষে দশজন গ্রাহককে নির্ধারিত অর্থের বাইরে ঘুষ দিতে হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন করা হয় ১৯৭৮ সালে। এর দু’বছর পর শুরু হয় এর কার্যক্রম। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে সমিতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮টি। ফলে প্রতিদিনই পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তি। বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট গ্রাহকরা। এতো কিছুর পরও লোকসান দিয়ে যাচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। গ্রাহকরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও বেশির ভাগ সমিতি বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। অথচ সমবায় পদ্ধতিতে ‘না লাভ না ক্ষতি’ এই ভিত্তিতেই সমিতিগুলো পরিচালিত হওয়ার কথা। অভিযোগ রয়েছে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিতরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণই হচ্ছে সমিতিগুলোর লোকসান দেয়ার প্রধান কারণ। আরইবি’র বিতরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের আগে কিছু শর্ত মেনে চলতে হয়। যেমন- সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরিপের মাধ্যমে বিতরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের ব্যয়, সম্ভাব্য গ্রাহকসংখ্যা নির্ণয়, সম্ভাব্য আয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ কী ভূমিকা রাখবে- এইসব ব্যাপারে ধারণা নিয়ে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ করার কথা। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই শর্ত অমান্য করেই যেনতেনভাবে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী লোকসানে পড়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বিশেষজ্ঞগণ এরকম ধারণা করছেন।
দেশের আশি ভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎসেবা পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানের সেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে আছে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। তাদের কার্যক্রমে গ্রাহকরা মোটেই সন্তুষ্ট নয়। সমিতিগুলো বছর বছর লোকসানও দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় দেশের পল্লী অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বিদ্যুতায়ন হচ্ছে। সরকার বলছে পল্লী অঞ্চলের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আসবে। সরকারের এই কার্যক্রম আরও সাবলীল হবে যদি অনিয়ম দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে মুক্ত করা যায় সমিতিগুলোকে। সেই সঙ্গে বন্ধ করতে হবে গ্রাহক হয়রানী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT