স্বাস্থ্য কুশল

অর্জুনের এত্তো গুণ

সংকলনে : মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৭-২০১৮ ইং ০১:২৩:৫২ | সংবাদটি ৩৫৭ বার পঠিত

কোন গাছের একক ব্যবহারের উপর ঐ গাছের উপকারীতা নিরূপন করা হয়। ভেষজশাস্ত্রে অর্জুন গাছের ব্যবহার অগনিত। সেই প্রাচীন কাল থেকে অর্জুন গাছ অনেক রোগের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বলা হয়ে থাকে বাড়িতে একটি অর্জুন গাছ থাকা আর একজন চিকিৎসক থাকা সমান কথা। ঔষধে অর্জুন গাছের পাতা, ছাল ও ফল ব্যবহৃত হয়। ইউনানী, আয়ুর্বেদ ও হোমিও শাস্ত্রে অর্জুনের ব্যবহার লক্ষণীয়। নিম্নে অর্জুন গাছের বিভিন্ন উপকারীতা নিয়ে আলোচনা করা হল :
১। অর্জুনের বাকলে প্রচুর কো এনজাইম কিউ ১০ রয়েছে যা হৃদরোগ ও হার্ট এটাক (হৃদস্তম্ভন) প্রতিরোধ করে। অর্জুনের ছাল বেটে খেলে হৃৎপিন্ডের পেশী শক্তিশালী হয়। হৃৎপিন্ডের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তের কোলষ্টেরল কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
২। যাদের বুক ধড়ফড় করে অথচ রক্তচাপ নেই, তাদের পক্ষে অর্জুন ছাল কাঁচা হলে ১০-১২ গ্রাম, শুকনো হলে ৫-৬ গ্রাম একটু ছেঁচে ২৫০ মিলি দুধ ও ৫০০ মিলি পানির সাথে মিশিয়ে জ্বাল দিতে হবে। আনুমানিক ১২৫ মিলি থাকতে নামিয়ে ছেঁকে বিকাল বেলা খেলে বুক ধড়ফড়ানি কমে যাবে। খেয়াল রাখতে হবে পেটে যেন বায়ু না থাকে।
৩। কারো ব্রণ হলে বাকল চূর্ণ মধুর সাথে মিশিয়ে লাগালে দ্রুত ব্রণ ভাল হয়ে যায়।
৪। ফল চূর্ণ লিভার সিরোসিসে টনিক হিসাবে কাজ করে।
৫। ফল চূর্ণ রক্তচাপ কমায়, মূত্র বর্ধন করে,।
৬। অর্জুনের ছাল বেটে শরীরের ক্ষত, খোসপাঁচড়ায় লাগালে ভালো হয়ে যায়।
৭। অর্জুনের ছাল মুখ, জিহবা ও মাড়ির ব্যাথায় ব্যবহৃত হয়। এটি মাড়ির রক্তপড়া বন্ধ করে।
৮। অর্জুনের ছাল খাদ্য হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং খাদ্যতন্ত্রের ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
৯। অর্জুনের ছাল ক্যান্সার কোষের বর্ধন রোধ করে।
১০। চর্ম ও যৌন রোগে অর্জুন ব্যবহৃত হয়। যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে অর্জুন ছালের রস সাহায্য করে।
১১। অর্জুনের ছাল জ্বর নিবারক হিসেবেও কাজ করে।
১২। অর্জুনের ছাল হাপানী রোগেও উপকারী। ফলের শুকনো টুকরো কলকেতে নিয়ে তামাকের মত টানতে হয়।
১৪। অর্জুন ছালের রস পেট ফাঁপা, বদহজম, অগ্নিমন্দা জাতীয় অসুবিধায় ব্যবহার করা হলে বায়ু নাশ করে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
১৫। কাটা ঘায়ের রক্ত স্রাব বন্ধের জন্য ছাল বেটে প্রলেপ দিলে বা রস দিলে বা ফলের চুর্ণ ক্ষতস্থানে লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
১৬। হাড় ভেঙ্গে গেলে ছাল বেটে প্রলেপ দিলে ভাঙ্গা ভাল হয়ে যায়। অস্থি যৌগিক হলে অর্জুন ছাল, রসুন এবং হাড়জোড়া একত্রে বেটে প্রলেপ দিলে দ্রুত ভাল হয়ে যায়। তবে প্রলেপ দেওয়ার পূর্বে ভাঙ্গা অস্থিগুলোকে যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করে নিতে হবে।
১৭। শ্বেত বা রক্ত পদরে অর্জুনের ছাল ভিজানো পানি আধ চামচ কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে খেলে রোগ ভাল হয়।
১৮। ক্ষয় কাশে অর্জুনের ছালের গুড়া বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে ঘি ও মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১৯। হার্ণিয়া রোগে অর্জুনের ফল কোমরে বেঁধে রাখলে উপকার পাওয়া যায়।
২০। সাধারণ দুর্বলতা ও হৃদপিন্ডের দুর্বলতায় ৩-৪ গ্রাম অর্জুন ছাল চূর্ণ প্রতিদিন দুইবার একগ্লাস দুধ সহ সেব্য। একমাস সেবন করা আবশ্যক।
২১। কাঁচা অর্জুনের ছাল ৫ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে ভালভাবে পিষে ঠান্ডা পানি সহ দিনে ২ বার খেলে রক্ত আমাশয়ে উপকার হয়।
২২। ২০ গ্রাম আধাচূর্ণ অর্জুন ছাল নিয়ে ২ কাপ পরিমাণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরবর্তীতে জ্বাল দিয়ে এককাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে প্রতিদিন ২-৩ বার সেবন করলে প্রমেহ রোগ ভাল হয়।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
  • মুখের আলসার ও টুথপেস্টের রসায়ন
  • গলার স্বর বসে গেলে
  • মেছতার আধুনিক চিকিৎসা ডাঃ দিদারুল আহসান
  • স্ক্রিনে দীর্ঘসময় শিশুর মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে
  • প্রকৃতির মহৌষধ মধু
  • তাফসিরুল কুরআন
  • প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ
  • শ্বাসকষ্ট কোনো রোগ নয়!
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • শীতে বয়স্কদের সমস্যা
  • শিশু কিশোরদের মানসিক সমস্যা
  • এইচআইভি সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়
  • গর্ভবতীর পাইলস চিকিৎসা
  • কান পাকা : সচেতনতা জরুরি অধ্যাপক
  •  বাচ্চাদের স্থূলতা ও চিকিৎসা
  • লাউয়ের পুষ্টিগুণ
  • চিরতার যত গুণ
  • শীতের ত্বকের যত্নে করণীয়
  • শিশুর সুস্বাস্থ্য রক্ষার উপায়
  • Developed by: Sparkle IT