স্বাস্থ্য কুশল

আমের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগুণ

মো. দিলশাদ মিয়া প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৭-২০১৮ ইং ০১:২৫:৩৩ | সংবাদটি ১৫৯ বার পঠিত

আম আমাদের দেশের জনপ্রিয় ও অতি পরিচিত ফল। আম গাছ বাংলাদেশের জাতীয় গাছ। পাকা আমের স্বাদ ও গন্ধের জন্য আমকে ফলের রাজা বলা হয়। আয়ুর্বেদ মতে, কাঁচা আম ত্রিদোষনাশক। যথাÑ বায়ু, পিত্ত ও কফ। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাস আমের সময়। আমাদের দেশে দু’বার আম পাওয়া যায়। ফাল্গুন মাসে যে আমের মুকুল আসে, জ্যৈষ্ঠ মাসে সে আম পাকে। আবার বৈশাকে যে বোল আসে আষাড় মাসে পাকে। একে আষাঢ়ে আম বলে। সম্প্রতি আশ্বিনে আম উৎপাদিত হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। বাংলাদেশে বৈশাখে কাঁচা আম ও জ্যৈষ্ঠে পাকা আম পাওয়া যায়। কাঁচা আম ও পাকা আমের উপকারিতা আছে। কাঁচা আম ডাল ও তরিতরকারিত দিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়। সালাদ বানিয়েও খাওয়া চলে। তবে কাঁচা আম বেশি খেলে ক্ষুধা কমে যায়। রক্তের দোষ ঘটে এবং অনেক সময় জ্বর এসে যায়। কাঁচা আম খোসা ফেলে দিয়ে টুকরো করে রোদে শুকিয়ে আমসি করে রাখা হয়। পরে টক মিষ্টি দিয়ে চাটনি করে রাখা হয়। আমচুর খেলে পেট পরিস্কার থাকে। এটি কফ ও কাশিনাশক। কাঁচা আমের সাথে চাঁপা কলা ও গরুর দুধ মিশিয়ে খেলে মেয়েদের প্রদর বা সাদা¯্রাব ভালো হয়। আমের আঁটির শাঁস খেলে ডায়াবেটিস কমে। কাঁচা আমের মোরব্বা উপকারি। কবিরাজের পরামর্শ মতে কাঁচা আম ব্যবহারে বমি, পেটের অসুখ, বুক জ্বালা ভালো হয়। আমাশয় সারে। অর্শরোগ উপশম হয়। কিডনি ও মূত্রথলির পাথর বেরিয়ে আসে। কাঁচা আমের মোরব্বা পাকস্থলীর ক্ষমতা বাড়ায়। তবে কাঁচা আমের আচার মুখরোচক হলেও অনেকের পেটে গ্যাস উৎপন্ন করে। কোষ্ঠ্যবদ্ধতা হয়। বুক জ্বলে। আমে আছে কুয়েরসেটিন, আইসোকুয়েরসেটিন, অ্যাস্ট্র্যগেলিন ফিসেটিন, ফলিক অ্যাসিড, মাথাইল গ্যালেট প্রভৃতি উপাদানগুলো কোলোন, ব্রেস্ট লিউকোমিয়া এবং প্রস্টেট নিউকোমিয়া/ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। গর্ভবতী নারীদের জন্য আম উপকারী। আমের মধ্যে থাকা আয়রণ, ভিটামিন এ, সি এবং বি৬ গর্ভবতী নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে গর্ভাবস্থায় কোনো ধরণের শারীরিক সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা কমে যায়। রক্তশূন্যতা কমায়। আমে প্রচুর পরিমাণ আয়রণ থাকার কারণে এটি রক্তে লোহিত রক্তক্ষণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে রক্তশূন্যতা রোগের প্রকোপ কামিয়ে দেয়। আম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমের মধ্যে থাকা বিটাÑক্যারোটিন এবং ক্যারেটেনয়েড শরীরে প্রবেশ করার পর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হজমে সহায়ক। আমে থাকে একটি বিশেষ ধরণের এনজাইম যা খাবার হজমে সহায়তা করে। আমের মধ্যে থাকা ফাইবারও বিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে। আম দৃষ্টি শক্তির উন্নয়ন উন্নতি ঘটায়। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।
পাকা আমের স্বাদ ও গন্ধের জন্য আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশের রাজশাহীতে সুন্দর সুন্দর নামে আম পাওয়া যায়। যেমনÑহিমসাগর, গোপালভোগ, আশ্বিনা, জামাইযষ্ঠী, রসময় আরো কতো নামে আম পাওয়া যায়। এগুলোর বৈশিষ্ট্যও আলাদা, কোনো কোনো আমের একদম আঁশ নেই। একেবারে পেপের মতো আবার কোনো কোনো আমের রস বেশি। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। পাকা আমে ঘুম হয়। কিন্তু অধিক খেলে হজমে গোলযোগ হয়। শুধু আম নয় আম পাতা, মুকুল ও আম গাছের ছালেরও অনেক ভেষজগুণ। কাঁচা ও পাকা আমের পুষ্টিগুণ রয়েছে। আমিষ ২০০ গ্রাম কাঁচা আমে .০৭ গ্রাম পাকা আমে ১.০ গ্রাম, শ্বেতসার ১০.০১ গ্রাম, পাকা আমে ২০.০ গ্রাম, চর্বি ০.০১ গ্রাম, পাকা আমে ৩.৭ গ্রাম লৌহ কাঁচা আমে ৫.৪ মি. গ্রা. পাকা আমে ১.৩ মি. গ্রাম, খাদ্যশক্তি কাঁচা আমে ৪৪.০ কি. ক্যালরি পাকা আমে ৯০.০ কি. ক্যালরি, ভিটামিন সি কাঁচা আমে প্রচুর পাকা আমে স্বল্প। আম অ্যাজমা প্রতিরোধ করে। শরীরে ভিটামিন সি এর মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অ্যাজমা প্রতিরোধে সহায়তা করে। আমে যেহেতু প্রচুর ভিটামিন সি আছে, তাই এটি খেলে অ্যাজমা রোগের প্রতিরোধ করে। রোগমুক্ত জীবনের জন্য তাই দৈনিক একটি করে আম খাওয়া উচিত।
আম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ও বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমাদের শরীরের জন্য প্রতিদিন অন্তত ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন, যা আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষা ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য জরুরি। ফল আমাদের মৌলিক চাহিদা খাদ্যের একটি বড় অংশ পূরণ করে। তাছাড়া ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন। বাংলাদেশে বিভিন্ন মওসুমে হরেক রকম ফলের সমাহার দেখা যায়। আমাদের দেশে ঋতু পরিবর্তনের সাথে বিভিন্ন রোগ হয়। কিন্তু পরম করুণাময় আল্লাহ এসব মওসুমি রোগ প্রতিরোধ করতে নানা প্রকার মওসুমি ফল দিয়েছেন। ফল বেশি খেলে ওই সব মওসুমি রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এসব ফল কখনো প্রতিরোধক আবার কখনও প্রতিষেধক। আমরা অনেকেই দেশি ফলের কদর বুঝি না। খাদ্য তালিকায় দেশি ফল অনেক ক্ষেত্রে রাখি না। তালিকায় রাখি বিদেশি ফল যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অনেক সময় স্বাস্থ্যসম্মত নয়। কার্বানাইট বা ইথানল দিয়ে পাকানো ফলের অধিকাংশ ফরমালিন মিশ্রিত। যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই সবার উচিত দেশি ফল খাওয়া।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT