শেষের পাতা সংলাপে নাগরিক অগ্রাধিকার অনুষ্ঠান

পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি মেয়র প্রার্থীদের

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৭-২০১৮ ইং ০৩:৫৯:২৯ | সংবাদটি ১০৮ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে ‘সংলাপে নাগরিক অগ্রাধিকার’ শীর্ষক টাউন হল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেটে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট মহানগরের নাগরিকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মেয়র প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সংলাপ আয়োজন করা হয়।
টাউনহল অনুষ্ঠানটিতে প্যানেল বক্তা হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর শাখা সদস্য বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিলেটের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সিলেট নগরীর প্রধান পাঁচটি নাগরিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে তাদের সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন এবং মেয়র পদপ্রার্থীদের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান। বিষয়গুলো ছিলো- ১. বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, সকলের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাথমিক স্কুল, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, ও কবরস্থান সহ ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন ২. জলাবদ্ধতার নিরসন ৩. যানজট নিরসন ৪. সকল বয়সের নাগরিকদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা ৫. নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দু’জন প্রধান মেয়র প্রার্থী এই বিষয়গুলোতে তাদের অতীত সাফল্য ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহাবস্থানে তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এই সংলাপ অনুষ্ঠানটি ইউএসএআইডি ও ইউকেএইড এর যৌথ অর্থায়নে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের বাস্তবায়নে ঝঃৎবহমঃযবহরহম চড়ষরঃরপধষ খধহফংপধঢ়ব রহ ইধহমষধফবংয প্রকল্পের ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইনের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আমিনুল আহসান। অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ,বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন। মুখোমুখি সংলাপে নাগরিক সমস্যা সমাধান এবং তাদের অতীত কর্মকান্ড তুলে ধরেন । অনুষ্ঠানে দুই মেয়র প্রার্থীই আগামী দিনগুলোতে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় নগরকে সাজানোর লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন। তারা নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত আধুনিক নগরী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন ।
মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ১৮৭৮ সালে সিলেট পৌরসভা গঠিত হয়। সে সময় মাত্র ৫টি ওয়ার্ড ছিল । ছোট্ট একটি শহর। প্রতিটি বাসায় পুকুর ছিল । ছড়া, দীঘিসহ পানি ধারণেরর স্থান ছিল। আজ এসব নেই। আমি ১৯৯৫ সালে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। পরে ২০০৩ সালে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হই । আজ সিটি কর্পোরেশনের যে ভবনটি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তি প্রস্তর ও উদ্বোধন করেছেন। আমি মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন কালে কুমুদিনী হাসপাতাল,কয়েকটি স্কুলের উন্নয়ন,১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে টুলটিকরে ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করেছি। যানজট নিরসনে আম্বর খানা বাসস্ট্যান্ড কুমার গাওয়ে স্থানান্তর, দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনাল জেলা পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এনে উন্নয়ন করেছি। ১১ কোটি টাকায় ৯টি ছড়া খাল জবর দখল মুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করি । বর্তমানে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সুরমা নদী খনন,ছড়া খাল দখল মুক্ত করা জরুরী। যানজট নিরসনে হকার মুক্ত ফুটপাত ও হকার পূনর্বাসন দরকার। নির্বাচিত হলে সুরমাকে টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলা হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ২০১৩ সালে মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর অধিকাংশ সময় আমি কারাগারে বন্দী ছিলাম। নগরীর একটি মাস্টার প্ল্যান ২০১০ সালে হয়। আমি পরিপূর্ণ একটি মাস্টার প্লান বাস্তবায়নে নগরীতে দেশ ও বিশ্ব বরেণ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সেমিনার করি। এতে সিলেটের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, দেশের বরেণ্য প্রকৌশলী ড. জামিলুর রেজাা চৌধুরীস্হ বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের পরামর্শে মাস্টার প্ল্যান রিভিউয়ে পাঠানো হয়। তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশনের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থার জন্য বিশ্ব ব্যাংক ৫০ কোটি টাকা আমাদেরকে বরাদ্দ দিয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ ইতো মধ্যে শুরু হয়েছে। হকার মুক্ত ফুটপাত, তাদের পূনর্বাসন,জলাবদ্ধতা নিরসন,ছড়া খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আধুকি ট্রাক টার্মিনাল, নগরীতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ৪৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সাইবার সিটির জন্য সরকারকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে সাইবার সিটি বাস্তবায়ন হবে।২৭টি ওয়ার্ডে হেলথ কার্ড ,রংমহলের পাশে জেলের জমিতে পার্কিং এর ব্যবস্থা হচ্ছে। ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বাস টার্মিনাল হবে। ৫শ কোটি টাকায় আন্ডার গ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন হবে। প্রবাসী তথ্য ও সেবা কেন্দ্র হবে। সিলেটে সম্প্রীতির রাজনীতি বজায় আছে। সম্মিলিত ভাবে তা বজায় থাকবে।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে সরকার: রিজভী
  • বিশ্বনাথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন হচ্ছে
  • আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ থাকবে জঙ্গি ও মাদকমুক্ত -----------------শফিক চৌধুরী
  • নগরীর সুরমা মার্কেট কেন্দ্রীক অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়েই চলেছে
  • নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে -----------------------মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী
  • দেশের অর্থনীতিতে ব্যবসায়ীদের অবদান সব থেকে বেশী
  • কমলগঞ্জে পলো বাওয়া উৎসব উদযাপিত
  • লাখাইয়ে জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ : আহত ১০
  • সিলেট সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জালিয়াতদের রক্ষায় তৎপর একটি চক্র
  • নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ
  • খাসোগি হত্যা ‘মারাত্মক ভুল’: সৌদি আরব
  • তফসিল ঘোষণার আগে সংলাপের দাবি অযৌক্তিক --------ওবায়দুল কাদের
  • কাল শিশু সহায়তায় ফোন ‘চাইল্ড হেল্পলাইন ২০৯৮’ সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশন
  • জগন্নাথপুরে হিজড়াদের প্রকাশ্য চাঁদাচাজি
  • সিলেটের মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ----- কাজী এমদাদুল ইসলাম
  • ‘আত্মার সিনান’ গীতি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান সুর ও সংগীতের ভেতর দিয়েই প্রকৃতি চলছে
  • জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ নিসচা ও জেলা পুলিশের কর্মসূচি
  •     জেলা ও মহানগর বিএনপির কালো পতাকা মিছিল রাজনীতি থেকে মাইনাস করতেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘ফরমায়েসী’ সাজা
  • জগন্নাথপুরে গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
  • মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুষার স্থায়ী বহিষ্কার
  • Developed by: Sparkle IT