উপ সম্পাদকীয়

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রসঙ্গে

আবু মালিহা প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৭-২০১৮ ইং ০১:০০:৪০ | সংবাদটি ৪৪ বার পঠিত

নারীর প্রতি সহিংসতা আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। নানা বিড়ম্বনা ও যন্ত্রণার শিকার হচ্ছে নানাস্তরের নারীরা। ছোট্ট কোমলমতি মেয়ে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা নারী পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেনা এ ধরণের নির্যাতন থেকে। যে দেশের জনগণের অর্ধেকই নারী, সে দেশের নারীর প্রতি এমন জুলুম বা নারীর প্রতি অবজ্ঞা এবং নিগৃহীত করার মাধ্যমে সে সমাজের বৈশিষ্ট্য পতনোন্মুখ সমাজের চিত্র ছাড়া আর কী-ই বা হতে পারে। এটা চরম দুঃখজনক। তবে এর থেকে উত্তরণের উপায় কী! এ নিয়ে কী আমরা কেউ ভেবেছি। হ্যাঁ সমাজপতি বা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দিক থেকে হয়তোবা কখনো কখনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু তা কোন সুরাহাই করছেনা। কখনো কখনো তা আরো মারাত্মক হয়ে ওঠে। তার আগে একটি কথা স্পষ্ট বলা দরকার যে, নারীর প্রতি সহিংসতা আমরা দূর করতে চাই কিনা! এবং সেটা কীভাবে।
নৈতিক চরিত্রের এমন অবক্ষয় কেন হচ্ছে তা বর্তমান সময়ে বিশ্লেষণের দাবি রাখে। কেননা, সমাজকে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাই বা কি ভূমিকা পালন করছেন অথবা তারা নৈতিক চরিত্রের কোন মানে আছে তাও ভেবে দেখতে হবে।
প্রথমেই মহাগ্রন্থ আল কোরআনের উদ্ধৃতিগুলো লক্ষ করি : আল্লাহ কখনো সমাজের পরিবর্তন ঘটান না, যে পর্যন্ত না সমাজের লোকেরা পরিবর্তনের চেষ্টা করে। (সূরা রাদ-১১)। এ ব্যাপারে সমাজ কাঠামো পরিবর্তনের জন্য জনগণের নিরন্তর প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা ছাড়া সমাজ পরিবর্তন ঘটবে না বলেই উদ্ধৃত আয়াতটিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অপরদিকে মহান আল্লাহ সমাজে নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নৈতিক ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মূল নীতি কি হবে সে প্রসঙ্গেও উল্লেখ করেছেন।
অন্য আয়াতে মহান রাব্বুল আল আমীন বলেন, ‘তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে নামাজ কায়েম করে, যাকাত দিবে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে। আর সব বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর হাতে।’ (হজ্জ-৪১)
সমাজের যারা পরিচালক হবেন তাদের দক্ষতা ও নৈতিকতার ব্যাপারে মহান আল্লাহ আরো নির্দেশ দেন, ‘হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা সুবিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়াও। আল্লাহর জন্য স্বাক্ষ্যদাতা হয়ে দাঁড়াও (নিসা-১৩৫)। আদর্শ সমাজ গঠনের পূর্বে ঈমানদার লোকের নৈতিকভাবে দৃঢ়তার সাথে যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা হলো, মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের আনুগত্য কর। তোমাদের আমল সমূহ বরবাদ করোনা (মুহাম্মদ-৩৩)।
বস্তুত সারা বিশ্বেই নারীদের এখন নাজুক অবস্থা চলছে। একদিকে ডিজিটাল অগ্রগতি অপরদিকে নারীদের দুর্গতি বাড়ছে। নারীদের আধুনিকতার ¯্রােতে গা ভাসিয়ে দেয়ার জন্য এক শ্রেণীর তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা তথা প্রগতিশীলরা নারীদের ঘরের বাহিরে এনে শৈল্পিক নান্দনিকতার নামে উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার দিকে ধাবিত করছে। পাশাপাশি নারীদের সতিত্ব, সম্ভ্রম-ইজ্জত লুটে নিয়ে গোটা নারী সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে নারী জাতির মান সম্মান আজ হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারই ¯্রােতের ঢেউ আমাদের দেশেও লেগেছে। অথচ এ দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ছিল যে কোন দেশের চাইতে উন্নত, ভদ্র এবং মার্জিত ও রুচিশীল পরিবেশের পবিত্র সামাজিক ব্যবস্থা। যাতে ছিল নারী-পুরুষের উন্নত সামাজিক ব্যবস্থাপনার সুন্দর জীবনবোধ। সৌহার্দ্য ও মর্যাদাবোধের অনুভূতি এবং একে অন্যের সামাজিক সম্প্রীতি বন্ধনের সহযোগিতা পূর্ণ ও কল্যাণকামী।
আজ মন-মানসিকতা ও পবিত্র সামাজিক বন্ধনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। নীতি-নৈতিকতা দূরীভূত হচ্ছে এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধের অবক্ষয় চলছে। বিশেষ করে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও নারী নিগ্রহের খবর এখন প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য মনে হচ্ছে দেশে আইন-কানুন প্রণয়ন বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রশাসন যন্ত্র সহ সামাজিক বিভিন্ন সংস্থাগুলোও যেন তেমন কোন দায়-দায়িত্ব নিচ্ছে না। আমাদের জন্য এ এক চরম দুর্ভাগ্য। তবে একথাও সত্যি। যদি দেশের প্রশাসন বা সামাজিক দায়-দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ না থাকে বা সামাজিকভাবে যদি সে চেতনা লালন না করে, তবে কোনভাবেই এ ধরনের নৈতিক অবক্ষয় থেকে যুব সমাজ বা নারীদের মর্যাদা রক্ষা বা হেফাজতের নিরাপত্তা প্রদান করা কোনক্রমেই সম্ভবপর হবে না।
বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের যেখানে ৯২ শতাংশ জনগণ ইসলামের অনুসারী অর্থাৎ মুসলমান। এমন একটি দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির শিকার হবে তা যেমন কল্পনা করা যায় না আবার তেমনিভাবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে কোরআন-সুন্নাহর নৈতিক প্রভাবহীন মানুষ যদি প্রশাসন পরিচালনা করে তবে তাদের থেকেও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান এবং নৈতিক প্রভাবে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করাও সম্ভব হবে না। তাই এ ব্যাপারে প্রথমেই যে বিষয়টি নজর দিতে হবে, তা হচ্ছে, প্রশাসনে সেই মানের অর্থাৎ ইসলামী জীবনবোধ সম্পন্ন নৈতিক মানে উন্নত, দক্ষ ও আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের গুরুত্ব দিতে হবে। নতুবা যতই ডিজিটাল মানুষ দ্বারা প্রশাসন পরিচালনা হোক না কেন, কোরআন সুন্নাহর আদর্শে ও নৈতিক প্রভাবে উজ্জীবিত প্রশাসক ছাড়া কাক্সিক্ষত প্রশাসন বা সমাজ গঠন আশা করতে পারিনা।
লেখক : কলামিস্ট

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ইয়েমেন সংকট : কে কার সঙ্গে লড়াই করছে?
  • বৃটিশ আমলে সিলেটের প্রথম আইসিএস গুরুসদয় দত্ত
  • ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব
  • প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন কাম্য
  • ইতিহাসের একটি অধ্যায় : প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান
  • সড়কে মৃত্যুর মিছিল কি থামানো যাবে না?
  • স্বাস্থ্যসেবা : আমাদের নাগরিক অধিকার
  • কে. আর কাসেমী
  • আইনজীবী সহকারী কাউন্সিল আইন প্রসঙ্গ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • Developed by: Sparkle IT