সম্পাদকীয় যা তুমি দেখাও তার চেয়ে বেশি তোমার থাকা উচিত, যা তুমি জানো তার চেয়ে তোমার কম কথা বলা উচিত। -শেক্সপিয়ার

জাগ্রত হোক মানবিক মূল্যবোধ

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৭-২০১৮ ইং ০১:০৩:১০ | সংবাদটি ৮৩ বার পঠিত

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে আবার ঘটলো অপ্রীতিকর ঘটনা। এবার চিকিৎসকের দ্বারা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলো রোগীর এটেনডেন্স। গত রোববার রাতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তের জন্য গঠন করা হয়েছে কমিটি। ঘটনার পর থেকে সাধারণ মানুষদের মধ্যে বিরাজ করছে ভয়-শঙ্কা। বিশেষ করে হাসপাতালের রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা অনেকটা ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছেন। সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রায় সময়ই নানা ধরনের ঘটনাবলী ঘটে চলেছে। রোগী ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ডাক্তার কিংবা অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খারাপ ব্যবহারের ঘটনা তো ঘটছে প্রায়ই। কখনও কখনও চিকিৎসক কিংবা ওয়ার্ডবয়সহ অন্যান্য কর্মচারীদের দ্বারা রোগী ও রোগীর স্বজনদের মারধোরের ঘটনাও ঘটে থাকে। সেই সঙ্গে ভুল চিকিৎসা কিংবা অপচিকিৎসায় রোগীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অপকর্মের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। বছর কয়েক আগে ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে প্রহৃত হয়েছেন সাংবাদিকরা। আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত সাংবাদিককে ভর্তি করতে হয়েছে হাসপাতালে। হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম অব্যবস্থাপনার খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সেদিন কেবল মারধোর করেই ক্ষান্ত হয়নি চিকিৎসকগণ, তারা পরবর্তীতে ধর্মঘট করে পুরো হাসপাতালের রোগীদের চরম দুর্ভোগে ফেলে দেয়। এবার চিকিৎসকের দ্বারা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলো রোগীর স্বজন। গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে যাতে সঠিক ঘটনাই বেরিয়ে আসে, সেটাই সবার প্রত্যাশা। এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রায় সময়ই দেখা যায় মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এখানে যেহেতু একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেহেতু আমরা আশাবাদী যে, প্রকৃত ঘটনাই বেরিয়ে আসবে এবং অপরাধী যথাযথ আইনের আওতায় আসবে।
আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য একটি অশনি সংকেত হিসেবেই বিবেচিত বিভিন্ন ঘটনাবলী ঘটে চলেছে শুধু সিলেট নয়, দেশের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেও। এইসব ঘটনাই পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরই মানুষের আস্থা কমে আসছে। তারপরেও একজন মানুষ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতাল-চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতেই হয়। অসুস্থ মানুষ কিংবা তার স্বজনেরা অনেকটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে যান। তখন তাদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তাদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই রোগী ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অশুভ আচরণ করে থাকে। সুতরাং এই মানবসেবার মতো মহৎ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের মানবিক মূল্যবোধটুকু জাগ্রত করাই সবচেয়ে জরুরি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT