উপ সম্পাদকীয়

সিলেটের ডাক

মো. আব্দুর রহিম প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৭-২০১৮ ইং ০১:০৪:১২ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত

১৮ জুলাই আমার প্রাণপ্রিয় পত্রিকা সিলেটের ডাক ৩৫ বছরে পদার্পণ করেছে। জেনে আনন্দে মনটা ভরে উঠছে। ৩৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ডাক পরিবারকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ডাকের সাফল্য কামনা করছি আগামী দিনের পথচলায়। সিলেটের ডাক পত্রিকা বৃহত্তর সিলেটের অগণিত মানুষের প্রাণের স্পন্দন। আমি ছাত্র জীবন থেকে ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকার পাঠক হিসেবে একাকার হয়ে আছি। মাঝখানে ২০১৭ সালে পত্রিকাটি বিশেষ আইনি জটিলতায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ ‘মিস’ করেছিলাম। অন্যান্য পত্রিকা পড়ার আগ্রহ প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম। কিছু দিন যেতে না যেতেই আবারও যখন প্রকাশনা শুরু হল, তখন আবার প্রতিদিন নিয়মিত হকার এসে সেই সকাল বেলায় বাসায় দিয়ে যায়। আমি ঘুম থেকে উঠে হাত, মুখ ধুয়ে চা নাস্তা খেতে বসার আগেই পত্রিকার প্রতি এক নজর চোখ না বুলালে চা, নাস্তা খাওয়াই হয়না। পত্রিকাটি চোখের সম্মুখে খোলার পরই নজরে আসে আমার বিভাগীয় শহর তথা প্রত্যন্ত অঞ্চলের তাজা তাজা খবর। সেই খবর পাঠ করে মনে আনন্দ ও তৃপ্তি পাই। জানতে পারি অনেক অজানা তথ্য।
বর্তমানে ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকাটি সিলেট বিভাগ ছাড়িয়ে ঢাকা সহ অন্যান্য শহরেও এর জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ‘সিলেটের ডাক’ অন্যান্য পত্রিকার চেয়ে আলাদা আঙ্গিকে আলাদা রসে ভরা পত্রিকা। যার মধ্যে খবর, প্রবন্ধ, গল্প, নিয়মিত কলাম, ছড়া, কবিতা বিনোদন আমার মনে অনেক প্রাণের সঞ্চার করে। পত্রিকাটির সাবেক সম্পাদক মরহুমা মহীয়সী নারী যার একনিষ্ঠ সম্পাদনায় অনেক সমৃদ্ধি লাভ করেছে। মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ‘সিলেটের ডাক’। মহীয়সী নারী রাবেয়া খাতুন এর প্রতি জানাই বিন¤্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। দোয়া করি আল্লাহপাক যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন। আজ তিনি আমাদের মধ্যে বেঁচে নেই, কিন্তু সিলেটের ডাক পত্রিকার সম্পাদনার মাধ্যমে রেখে গেছেন অসংখ্য গুণগ্রাহী অগণিত পাঠক। আমার মতো অনেক জ্ঞান পিপাসু রয়েছেন যারা ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকা একবার না পড়লে তাদের মনে যেন অতৃপ্ত কামনা থেকে যায়।
‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকা আমার কাছে অন্যান্য পত্রিকার চেয়েও আলাদা মানের, আনন্দের। বলতে গেলে ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকার যারা পৃষ্ঠপোষক, সম্পাদক সহ এর সাথে জড়িত কর্মকর্তা, কর্মচারী, কলা-কৌশলীগণ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরতে সচেষ্ট রয়েছেন, তাদের আন্তরিকতা সহনশীলতা, পাঠক সমাজকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।
বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক এই যুগে ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকাটি পাঠকদের জ্ঞান জিজ্ঞাসা মেটাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির এই ইন্টারনেটের যোগে আকাশ সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। বর্তমান ইন্টারনেটে অনলাইন পত্রিকার যুগেও সিলেটের ডাক পত্রিকাটির এক বিন্দুও জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়নি, এমনকি পাঠক সংখ্যাও কমেনি। ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকা শুধু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে থামেনি, গোটা দেশ, জাতি, সমাজ, সংস্কৃতিরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই আমি মনে করি ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকা আরও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করুক, পাঠক সমাজকে করুক আরও উৎসাহিত ও আনন্দময়। আমাদের মধ্যে ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকা চিরঞ্জীব হয়ে থাকুক এর জৌলুস এক বিন্দুও যেন ফুরিয়ে না যায়।
‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকা আরও দীর্ঘায়ু লাভ করুক এই কামনা করে শেষ করছি।
লেখক : সিলেটের ডাকের পাঠক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ইয়েমেন সংকট : কে কার সঙ্গে লড়াই করছে?
  • বৃটিশ আমলে সিলেটের প্রথম আইসিএস গুরুসদয় দত্ত
  • ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব
  • প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন কাম্য
  • ইতিহাসের একটি অধ্যায় : প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান
  • সড়কে মৃত্যুর মিছিল কি থামানো যাবে না?
  • স্বাস্থ্যসেবা : আমাদের নাগরিক অধিকার
  • কে. আর কাসেমী
  • আইনজীবী সহকারী কাউন্সিল আইন প্রসঙ্গ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • Developed by: Sparkle IT