ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ইতিহাস-ঐতিহ্যের লীলাভূমি সোনারগাঁও

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৭-২০১৮ ইং ০০:৫৭:৫৩ | সংবাদটি ১৭২ বার পঠিত

সোনারগাঁও ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ। এই অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে কত ঐতিহাসিক ঘটনা আর স্মৃতি-বিস্মৃতির উপাখ্যান। দীর্ঘ তিন দশকেরও অধিককাল ধরে সোনারগাঁও ছিল বাংলার মুসলিম শাসকদের রাজধানী। মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদ-নদী বিধৌত এই অঞ্চল যুগ যুগ ধরেই ছিল দুর্জেয় এবং দুর্লংঘেয়। প্রকৃতিগত কারণেই বহিঃশক্তির আক্রমণ থেকে সোনারগাঁও ছিল নিরাপদ এবং সুরক্ষিত। তাই স্বাধীন সুলতানগণ বাংলার রাজধানী হিসাবে সোনারগাঁওকে বেছে নিয়েছিলেন। মুঘল সেনাপতিগণ বার বার সোনারগাঁও আক্রমণ করতে এসে পরাজিত এবং পর্যুদস্ত হয়েছিলেন। ষোল শতকের শেষার্ধে বাংলার বার ভূইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে সোনারগাঁও গৌরব এবং সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে। ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ে এখন আর রাজপাট বা রাজত্ব কিছুই নেই। শুধু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নপ্রায় কিছু পুরানো অট্টালিকা, জরাজীর্ণ প্রাসাদ, মসজিদ, মিনার, সমাধি সৌধ ইত্যাদি অথচ এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘিরেই সুদূর অতীতে ঘটেছিল নানা জমজমাট ঘটনা, রচিত হয়েছিল বাংলার স্বাধীন শাসকদের শৌর্য-বীর্য আর প্রাচুর্যের উপাখ্যান। এক সময়কার ঐশ্বর্যমন্ডিত আজকের জীর্ণ-পরিত্যক্ত পানাম নগরীই তার অন্যতম স্মৃতি স্মারক। সোনারগাঁওয়ে আকাশে-বাতাসে, জরাজীর্ণ প্রতিটি অট্টালিকার ইটের পরতে পরতে আজও যেন ধ্বনিত হয় বাংলার গৌরবময় ইতিহাসের চাপা দীর্ঘশ্বাস।
সুবর্ণগ্রাম বা সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ হতে আট মাইল উত্তর-পূর্বে পুরাতন মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আজকের সোনারগাঁও বা সুবর্ণ গ্রাম। সোনারগাঁওয়ের মোগড়াপাড়া একসময় আন্তর্জাতিক নদী বন্দর হিসাবে পরিগণিত ছিল। এই কারণে মুসলিম শাসকদের আমলে সোনারগাঁও অত্যধিক বাণিজ্যিক গুরুত্ব লাভ করে। সে সময় এখানে সমুদ্রগামী জাহাজও ভিড় জমাতো। বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা, ফাহিয়েন এবং হিউয়েন স্যন বঙ্গদেশ সফরে এসে এই মোগড়াপাড়া ঘাটেই অবতরণ করেছিলেন। রাণী ১ম এলিজাবেথের দূত রালফ ফিস পনের শতকের শেষ দিকে সোনারগাঁওয়ে এসেছিলেন। তিনি সোনারগাঁওয়ের মসলিন বস্ত্রকে জগতের সর্বাপেক্ষা মিহি বলে অভিহিত করেন। পাল বংশ এবং সেন বংশের হিন্দু নৃপতিগণসহ সোনারগাঁও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মুসলিম শাসক এবং সুলতান কর্তৃক শাসিত হয়। তবে সোনারগাঁওয়ের সমৃদ্ধি এবং সুখ্যাতির শেষ নায়ক ছিলেন ঈশা খাঁ। তাই সোনারগাঁওয়ের সাথে ঈশা খাঁ নামটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
বাংলার বার ভূইয়াদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ছিলেন ঈশা খাঁ। তার পিতা রাজপুত বংশোদ্ভূত কালিদাস গজদানী ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে সোলায়মান নাম ধারণপূর্বক সোনারগাঁওয়ের জমিদারি লাভ করেন। তার মৃত্যুর পর লোক শিল্প জাদুঘর (সর্দার বাড়ী) সুযোগ্য পুত্র ঈশা খাঁ উত্তরাধিকার সূত্রে সোনারগাঁওয়ের শাসনভার হাতে নেন। বর্তমানে ঢাকা, কুমিল¬া, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ এবং পাবনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল তার শাসনাধীনে ছিল। খিজিরপুর এগারসিন্ধু এবং ময়মনসিংয়ের জঙ্গলবাড়ীতে তিনি দুর্গ স্থাপন করেন। পূর্ব বাংলার ভাটি অঞ্চলের বিখ্যাত জমিদার ঈশা খাঁ দীর্ঘকাল ধরে মোগলদের আক্রমণ প্রতিহত করে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রেরিত বহু সুদক্ষ সেনাপতি তাঁকে দমন করতে ব্যর্থ হন। স্বয়ং রাজা মানসিংহ তার সাথে যুদ্ধে পর্যুদস্ত হন। মানসিংহের পুত্র দুর্জনসিংহ বিক্রমপুরের অনতি দূরে সংঘটিত এক যুদ্ধে ঈশা খাঁর হাতে পরাজিত ও বন্দী হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করেন। শেষ জীবনে ঈশা খাঁ মোগল সম্রাট আকবরের কর্তৃত্ব স্বীকার করে নেন। ১৫৯৯ খ্রিঃ ঈশা খাঁর মৃত্যু ঘটলে তার পুত্র মুসা খাঁ পিতার আসনে সমাসীন হন। তিনিও মোগলদের অনেক আক্রমণ বীরত্বের সাথে প্রতিহত করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১৬১০ খিস্ট্রাব্দের জুলাই মাসে সুবেদার ইসলাম খাঁয়ের হাতে তার পরাজয় ঘটে। ইসলাম খাঁয়ের সময় ঢাকার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকলে ধীরে ধীরে ঐতিহাসিক নগরী সোনারগাঁওয়ের পতন ঘটে। ইসলাম খাঁ পতনোন্মুখ সোনারগাঁওয়ের বদলে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন।
ভূবন মোহিনী মসলিন- অত্যন্ত মিহি সুতোর তৈরী মসলিন বস্ত্রের জন্য একসময় সারা বিশ্বের নজর ছিল সোনারগাঁওয়ের দিকে। এখান থেকে বিভিন্ন পণ্যাদি সে সময় বিশ্বের নানা দেশে রফতানী হত। পানাম নগরের অতি কাছে খাসনগর দিঘি আজও যেন হারিয়ে যাওয়া মসলিনের অনুশোচনায় বিদগ্ধ। এই দিঘির চারপাশে কারিগররা টানা দিত দীর্ঘ মসলিন সুতা। এই সুতা কখনো কখনো ১৭৫ হাত পর্যন্ত লম্বা হতো। বহিরাগত বণিক, লেখক এবং পরিব্রাজকগণ মসলিন সম্পর্কে অনেক প্রসংশনীয় মন্তব্য করেছেন। সে আমলে বাংলার সুবেদারগণ মোগল বাদশাহদের কাছে উপঢৌকন হিসাবে মসলিন বস্ত্র পাঠাতেন। সম্রাজ্ঞী নুরজাহান মসলিনের একজন মুগ্ধ অনুরাগী ছিলেন। পানাম নগর ছিল মসলিন শিল্পের প্রসিদ্ধ বাজার। এখান থেকে এশিয়া, ইউরোপ এমনকি সুদূর আফ্রিকাতেও মসলিন রফতানী হত। অতীতের গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলো হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী মসলিনও। যেখানে মসলিন শিল্প আন্তর্জাতিক বাজার পেয়েছিল; সে শিল্পের অপমৃত্যু-সত্যি ভাবলে অবাক লাগে। ইংরেজ আমলের শেষ দিকেই মসলিন শিল্প নিঃশেষ হয়ে যায়। জনশ্রুতি আছে মসলিন শিল্পের ক্রমবিকাশে ঈর্ষান্বিত হয়ে ইংরেজ সরকার তাদের পতনের পূর্বে মসলিন কারিগরদের আঙুলের অগ্রভাগ কেটে দিয়েছিল যাতে তারা আর মসলিন বুনতে না পারে। তাই ইংরেজ রাজত্বের অবসানের সাথে সাথেই মসলিনের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যায়।
প্রাচ্যের ব্যবিলন পানাম নগরী-পানাম ছিল সোনারগাঁওয়ের অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী নগরী। বাংলার ঐতিহ্য মসলিন শিল্পকে ঘিরে এই নগরী গড়ে উঠেছিল। ঐতিহ্যবাহী পানাম নগরের কারুকার্যমন্ডিত ইমারতগুলোর অধিকাংশ অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। কালের স্মৃতি চিহ্ন হিসাবে যে কয়েকটি ইমারত এখনো অবশিষ্ট আছে, সেগুলো থেকে ক্রমেই খসে পড়ছে ইট, চুন, সুরকি ও পলেস্তরা। প্রায়ই ধসে পড়ছে কোন না কোন প্রাসাদ, মুখ থুবড়ে পড়ছে ভবনের ছাদ। চুরি হয়ে যাচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পুরাকীর্তি গুঁড়িয়ে ফেলে গড়ে উঠছে বসতি। পাচার হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান পাথর, সমাধিস্থলের দুর্লভ স্মৃতিফলক। কিছু কিছু পরিত্যক্ত ভবন ইতিমধ্যেই বেদখল হয়ে গেছে। অতীত ঐতিহ্য এবং কারুকাজ নষ্ট করে দখলদাররা পুনঃসংস্কার করে দিব্যি বসবাস করছে এইসব ঐতিহাসিক স্থাপনায়। অথচ এসব দেখার জন্য যেন কেউ নেই। শত শত বছরের পুরোনো পানাম নগর অত্র অঞ্চলের সমৃদ্ধির শেষ নিদর্শন। ঐতিহ্যমন্ডিত এবং ঐতিহাসিক এই স্থাপনাগুলো অনতিবিলম্বে সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সেই সাথে এই পুরাকীর্তিগুলো তার পুরোনো আদলেই সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন। নয়তো যে কয়েকটি স্থাপনা এখনো অবশিষ্ট আছে একসময় তার শেষ চিহ্নটুকুও কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সেই সাথে হারিয়ে যাবে এক ঐতিহ্যবাহী সমৃদ্ধ নগরের ইতিহাস। পানাম ছাড়াও অত্র জনপদে আরও অনেক প্রাচীন স্থাপনা ছিল, তার বেশির ভাগেই কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
কদমরসুল-শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে নবীগঞ্জ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী কদরসুল দরগাহ। প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো এ দরগাহ রসুলপাক (স.)-এর কদম মোবারক সংবলিত একটি কালো পাথর রাখা আছে। রসুল (স.)-এর এই পবিত্র কদম সংগ্রহকারী সাধক হাজী নূর মোহাম্মদ ও তার স্ত্রীর সমাধিও এখানে আছে। কথিত আছে সাধক হাজী নূর মোহাম্মদ রসূলের পদচিহ্ন সংবলিত এ পাথরটি আরবের এক বণিকের কাছ থেকে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে লাভ করেন। পরে তিনি এখানে এসে সস্ত্রীক গভীর জঙ্গলে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে বাংলার তৎকালীন জমিদার ঈশা খাঁ এখানে ৬০ ফুট উচ্চ মাটির টিলা তৈরী করে তার ওপর নির্মিত একটি সুন্দর ঘরে কদম মোবারক স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীকালে ঈশা খাঁর পৌত্র মনোয়ার খাঁ এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মির্জা নাথান নামক জনৈক ঐতিহাসিক তার গ্রন্থে লিখেছেন যে, সম্রাট শাহজাহান জাহাঙ্গীরনগরে (ঢাকা) আসার পথে কদমরসুল পরিদর্শন করেছিলেন। সম্ভবত রসুল (স.) এর পাক পদচিহ্ন এখানে স্থাপনের পর হতেই জায়গাটির নামকরণ করা হয় কদমরসূল। ১৭৭৭ খৃঃ ঢাকার জমিদার গোলাম নবী কর্তৃক টিলার ওপরে একতলা ইমারত নির্মিত হয়। পশ্চিমমুখী করে এখানে একটি বিরাট তোরণও তৈরী করা হয়েছিল। শীতলক্ষ্যার অপর পাড়ের বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জ হতেও এ তোরণ চোখে পড়ে।
লোক শিল্প জাদুঘর- শিল্পী জয়নুল আবেদিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং সরকারী সাহায্য ও সহযোগিতায় সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরী এলাকায় একটি লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের শিল্পকলা হচ্ছে লোক ও কারুশিল্প, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরাট অবদান। অথচ আমাদের গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল। এককালের পল¬ীগীতি, জারি-সারি, ভাটিয়ালী গান, মুর্শিদী গান, পুঁথিপাঠের আসর, মরমী গানের সুর, আউল-বাউলের পদচারণায় মুখর গ্রাম বাংলা, মেলা উৎসবে দক্ষ কারিগরের হাতে গড়া, মাটিরপাত্র, চিত্রিত হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, খেলনা, পাতার বাঁশী, বাঁশের বাঁশী, পল্ল¬ীবালার হাতে বোনা নকশী কাঁথা, শীতল জমে ওঠা লোকজ উৎসব।
পাটি, হাতপাখা, নানা ধরনের সূচীকর্মসহ নানা লোকজ উপাদান যেন হারিয়ে যাচ্ছিল। শিল্পাচার্যের স্বপ্ন ছিল এগুলো ধরে রেখে আমাদের আবহমান ঐতিহ্যের মর্যাদা দিতে হবে। তার প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টাতেই ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ এক সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্পের ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা হয়। বাংলাদেশের লোক ও কারুশিল্পের ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন, বিপণন ও পুনরুজ্জীবনই হলো এই ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য। ১৯৭৬ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে পানাম নগরের একটি সরকারী রিকুইজিশন করা পুরোনো ভবন সংস্কার করে ঐ ভবনেই লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের কাজ শুরু হয়।
গত ৪৮ বছরে ১৫০ বিঘা জমির ওপর লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিশাল কমপ্লে¬ক্স তৈরী করা হয়। বর্তমানে এখানে দুটি কারুশিল্প জাদুঘর রয়েছে। (১) লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর (সর্দার বাড়ী)। (২) শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। সর্দার বাড়ীতে স্থাপিত জাদুঘর ভবনে মোট১০টি গ্যালারি রয়েছে এবং ১৯৯৬ সালের অক্টোবর মাসে স্থাপিত শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের মোট ২টি গ্যালারি রয়েছে। দ্বিতল বিশিষ্ট এই আধুনিক ভবনটিতে জাদুঘর ছাড়াও রয়েছে ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ভবন। জাদুঘরে মোট সংগৃহীত নিদর্শন দ্রব্যের সংখ্যা ৪০১২ টি, গ্যালারিতে প্রদর্শিত নিদর্শন ৯১২টি। স্টোরে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে ৩১০০টি।
লোক ও কারুশিল্পের ওপর গবেষণার প্রয়োজনে এখানে একটি আধুনিক লাইব্রেরী ও ডকুমেন্টেশন সেন্টারও গড়ে তোলা হয়েছে। স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী এখানে রয়েছে একটি কৃত্রিম আঁকা-বাঁকা জলাশয়, যা গ্রাম বাংলার খালের বৈশিষ্ট্যের নিরিখে তৈরী করা হয়েছে। তাছাড়া এখানে গ্রামীণ বৈশিষ্ট্য সংবলিত নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও সৃষ্টি করা হয়েছে। নানা তরুলতা, পুষ্পপল্ল¬ব শোভিত এবং গাছগাছালি বেষ্টিত এই ফাউন্ডেশন কমপ্লে¬ক্সের সর্বত্রই গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিকল্পিত স্বাক্ষর চোখে পড়ে। বর্তমানে এই ফাউন্ডেশনে ৬০/৭০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। বিশাল আয়তনের এই কমপ্লে¬ক্সের শাশ্বত লোকজ পরিবেশে ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর লোকমেলার আয়োজন হয়ে আসছে। ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই মেলাকে প্রতি বছরই নানারূপে নতুন আঙ্গিকে শৈল্পিক সাজসজ্জায় উপস্থাপন করা হয়। মেলা চলাকালীন দিনগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ফাউন্ডেশন লোকমঞ্চে মাইজভান্ডারী গান, শাহ আব্দুল করিম, হাছন রাজার গান, কবিগান, লালনগীতি, গীতিনাট্যসহ নানা লোকজ সংগীত ও লোকজ নৃত্য পরিবেশন করা হয়। তাছাড়া দিনের বেলা অনুষ্ঠিত হয় নানা গ্রামীণ খেলাধুলা এবং কারু ও লোকশিল্প প্রদর্শনী এবং বিপণন। গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে এবং লোকজ ঐতিহ্য রক্ষায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন তাদের বিভিন্ন প্রকল্প এবং কর্মসূচীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের কিছু ঘটনা
  • খাদিমনগরে বুনো পরিবেশে একটি দিন
  • ফিরে দেখা ৭ নভেম্বর
  • শ্রীরামসি গণহত্যা
  • প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের ধারক মৃৎশিল্প
  • বিপ্লবী লীলা নাগ ও সিলেটের কয়েকজন সম্পাদিকা
  • গ্রামের নাম আনোয়ারপুর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বিবি রহিমার মাজার
  • তিন সন্তানের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি
  • হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর ও দীঘি
  • শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বিলুপ্তির পথে সার্কাস
  • জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  • বাংলাদেশের লোকশিল্প
  • উৎলারপাড়ের পোড়া পাহাড় আর বুদ বুদ কূপ
  • চেলা নদী ও খাসিয়ামারা মোহনা
  • Developed by: Sparkle IT