সম্পাদকীয়

ন্যায্যমূল্যে সিগারেট বিক্রি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৮-২০১৮ ইং ০০:৩০:০৪ | সংবাদটি ১২৮ বার পঠিত

আজকাল নগরীর রাস্তার বিভিন্ন স্থানে নতুন একটি বিজ্ঞাপন পথচারীদের নজরে এসেছে। বিভিন্ন ছোটবড় দোকানের সামনে লাগানো সেইসব বিজ্ঞাপন মূলত ধূমপায়ীদের আকৃষ্ট করার জন্য। সাদা কাগজে রঙ্গিন অক্ষরে লেখা সেই বিজ্ঞাপনের শিরোনাম হচ্ছে ‘এখানে ন্যায্যমূল্যে সিগারেট পাওয়া যায়।’ এর নীচে লেখা আছে বিভিন্ন ধরণের সিগারেটের খুচরামূল্য। বড় বড় অক্ষরে লেখা এইসব বিজ্ঞাপন কোথাও দেয়ালে সাঁটানো আছে, আবার কোথাও লেমিনেটিং করে টানিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো নজরে আসছে প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গসহ পথচারীদের। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। অথচ প্রচলিত আইনে সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ। বিড়ি সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের প্রচারের জন্য চালু করেছে এই নতুন কৌশল।
ধূমপান জন্য স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর; এটা প্রমাণিত হয়েছে অনেক আগেই। ধূমপানে মানবদেহে মরণব্যধির জন্ম হতে পারে। তাছাড়া, ধূমপান পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। এই সব কিছু বিবেচনা করে ধূমপানের বিরুদ্ধে চলছে নানা ধরণের প্রচারণা। এর বিরুদ্ধে আইনও আছে। আইনে জনসমাগমস্থলে ধূমপানে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে মিডিয়ায় বিড়ি সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়। এই আইনটি এখনও কার্যকর থাকলেও নতুন কৌশলে শুরু হয়েছে প্রচারণা।
অর্থাৎ, যতোই ধূমপানের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হোক না কেন, বহুজাতিক কোম্পানীগুলো তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। দেখা গেছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অষ্টম বৃহত্তম সিগারেটের বাজারে পরিণত হয়েছে। এখানে সিগারেট বাজারের বার্ষিক উৎপাদন ৮৬ বিলিয়ন ইউনিটের বেশি। প্রতিবছর এটি দুই শতাংশ হারে বাড়ছে। তার মানে একদিকে সিগারেটের উৎপাদন বাড়ছে, অপরদিকে বাড়ছে ধূমপায়ীর সংখ্যা।
বিগত কয়েক বছর ধরেই আর্থিক বাজেটে সিগারেট-বিড়ির ওপর নতুন ট্যাক্স আরোপ করে এর দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ প্রতিবছর বাজেটের পরই সিগারেট বিড়ির দাম বেড়ে যায়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, দাম বাড়লে মানুষ ধূমপান থেকে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টো। দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে ধূমপায়ীর সংখ্যাও বাড়ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ধূমপান বিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকাশ্যে জনসমাগম স্থলে ধূমপান বন্ধে দরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা। প্রয়োজনে আইনের সংশোধন করে জরিমানার পরিমাণ বাড়াতে হবে। তার সঙ্গে জরুরী হচ্ছে, বিড়ি-সিগারেটের কৌশলী বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT