ধর্ম ও জীবন

মহা বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ

মোহাম্মদ ছয়েফ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৮-২০১৮ ইং ০১:৩৩:১৭ | সংবাদটি ১৩৬ বার পঠিত

পবিত্র কুরআনের সূরা কেয়ামাহ’র ৩নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মানুষ কি মনে করে, আমি তার অস্থি সমূহ একত্রিত করব না?’ ঐ সূরার ৪নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘পরন্ত আমি তার আঙ্গুলগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।’ কেয়ামত অবিশ্বাসীরা নবী করিম (সা.) কে প্রশ্ন করল। মানুষ মরে গেলে পুনরায় কিভাবে জীবিত হবে। দেহ পচে গলে মাটির সাথে মিশে যায়। হাড়গুলোর অস্থিত্ব থাকে না। মানব দেহ জটিল প্রণালীতে গঠিত। একবার ধ্বংস হলে অঙ্গগুলো পুনরায় যথাস্থানে সংযোজন করে কিভাবে দেহ সচল করা হবে। তাদের ধারণা, এসব বিবরণ অলিক ও যুক্তিহীন। মৃতদেহ পুনর্গঠন করে প্রাণ সংযোজন কোনো ক্রমেই সম্ভব নয়। বেঈমানদের সংশয় ও ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দিয়ে আল্লাহপাক বলেন, মৃত মানুষগুলোর অস্থিসমূহ একত্রিত করবই। উপরন্ত তাদের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করব। অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে যে ব্যক্তি যেভাবে ছিলো আল্লাহ তা’আলা তাকে ঐ ভাবে (ঐ গঠনে) পুনঃসৃজন করবেন। তার পক্ষে এ কাজ মোটেও কঠিন নয়।
পৃথিবীতে এক সময় আমাদের অস্থিত্ব ছিলো না। মাতৃগর্ভে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্ত হয়ে জাইগোট (মাংস পিন্ড) গঠিত হয়। কোষ বিভাজনের ফলে মাংস পিন্ড দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীতে ইহা মানব সন্তানের আকৃতি ধারণ করে। হাত-পা, মাথা গঠিত হয়, নখ, ত্বক ও চুল গজায়। হৃদপিন্ড সহ দেহের আভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও তন্ত্র সৃষ্টি হয়। মাতৃগর্ভে ভ্রণের এ আকৃতিকে ‘ঋড়বঃঁং’ বলে। ৯০ হতে ১২০ দিনের মধ্যে কোনো অজানা মুহূর্তে মাতৃগর্ভে শিশু দেহে আত্মা প্রবেশ করে। মা টেরই পান না। এসব কার নির্দেশে ঘটে? শিশুর হৃদস্পন্দন শুরু হয়। মা নড়াচড়া অনুভব করেন। ১০ মাস ১০ দিন (চন্দ্র মাসের হিসেবে) পর শিশু ভূমিষ্ট হয়। অতপর ধীরে ধীরে বয়োবৃদ্ধি হতে থাকে। জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধা সহ পূর্ণদেহ গঠিত হয়। ভরা যৌবনে দৈহিক সৌন্দর্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ বয়স পেরিয়ে মৃত্যুর (যে কোনো সময় মৃত্যু হতে পারে) মধ্য দিয়ে হৃদস্পন্দন সমাপ্ত হয়। এ দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কারো হাত (কর্তৃত্ব) নেই। কেবল আল্লাহ পাকের আদেশে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আমরা পৃথিবীতে ছিলাম না। আল্লাহপাক আমাদেরকে সৃজন করেছেন। ভবিষ্যতে আমরা থাকব না। আল্লাহপাক পুনঃ সৃজন করবেন। যে মহান স্বত্তা আমাদেরকে ‘কিছুই ছিলাম না’ সৃষ্টি করেছেন, মরে গেলে আমাদেরকে অবশ্যই পুনঃ সৃজনের ক্ষমতা রাখেন।
আলোচ্য বিষয়ে স্বভাবতই মনে একটি প্রশ্ন উদয় হয়। মানবদেহে বহু জটিল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকতে আঙ্গুলের কথা কেন বলা হয়েছে। আঙ্গুলের অগ্রভাগে আঁকাবাঁকা সুক্ষ্ম বহু সংখ্যক রেখা রয়েছে। রেখার বিন্যাস এক ব্যক্তির সাথে অপর ব্যক্তির কোনো ক্রমেই মিলবে না। পুরুষের বাম হাতের ও মহিলাদের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ দলিল দস্তাবেজে টিপ সহি হিসেবে নেওয়া হয়ে থাকে। ভিসা অফিস, পাসপোর্ট অফিস, ইমিগ্রেশন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যক্তির পরিচয় ধরে রাখতে দু’হাতের দশ আঙ্গুলের অগ্রভাগের ছাপ নেওয়া হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত বৃদ্ধাঙ্গুলির অগ্রভাগের রেখা দু’ব্যক্তির একই রকম হয় না। পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ বিরাজমান। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অগণিত মানুষ পৃথিবীতে ট্রানজিট নিয়ে পরকালে চলে যায়। মহান আল্লাহপাক প্রতিটি মানুষের অঙ্গুলির অগ্রভাগের রেখার বিন্যাস পৃথক পৃথক রূপে সৃষ্টি করেছেন। ইহা মহান রাব্বুল আলামিনের অসীম ক্ষমতার সামান্য নমুনা মাত্র। একজনের চেহারার সাথে অন্যজনের চেহারা (মুখম-ল) হুবহু মিলে না। জমজ সন্তানের ক্ষেত্রে একই চেহারা মনে হয়। তবে শতভাগ মিলে না, কিন্তু আঙ্গুলের ছাপ মোটেই মিলে না।
অপরাধ সনাক্ত করতে আঙ্গুলের ছাপ বিশ্লেষণ করা হয়। ধর্ষক চিহ্নিত করতে বীর্যের সাথে ধর্ষকের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। বিকৃত লাশ সনাক্তে স্বজনের সাথে লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক যুগে এসব কলা কৌশল আবিষ্কৃত হয়েছে। ১৫শ বছর পূর্বে পবিত্র কুরআনে আঙ্গুলের অগ্রভাগের জটিল রেখা বিন্যাসের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে (আল্লাহর দৃষ্টিতে জটিল নয়)। সুতরাং কুরআন মহাবৈজ্ঞানিক গ্রন্থ। তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT