সম্পাদকীয়

পুলিশ ভেরিফিকেশন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৮-২০১৮ ইং ০০:৪৯:৫১ | সংবাদটি ৭৬ বার পঠিত


পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট তৈরি করা হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার বছর চারেক আগে। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয় নি। আর তাই পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংক্রান্ত বৈঠকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাগণ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, এক সিদ্ধান্তের ফলে অসৎ লোকরাও পাসপোর্ট পেয়ে যাবে। অবশ্য তখন বৈঠকে উপস্থিত বেশির ভাগ কর্মকর্তাই এই যুক্তির বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট তৈরির পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়।
পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন (পুলিশের যাচাইকরণ) বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। পাসপোর্ট যারা তৈরি করেছেন তারাই জানেন পুলিশ ভেরিফিকেশন কী। ভেরিফিকেশনের নামে সীমাহীন ভোগান্তি আর হয়রানি করা হয় পাসপোর্ট প্রার্থীদের। পাসপোর্ট তৈরির অন্যান্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য আটকে থাকে পুরো কার্যক্রম। আবেদনকারীর ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করার জন্য পুলিশের কাছে দায়িত্ব দেয়ার পরই শুরু হয় তাদের হয়রানী। নানা ফাঁদে ফেলে পাসপোর্ট প্রার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ঘুষ। ঘুষ না দিলে ভেরিফিকেশন রিপোর্টও পাঠানো হয় না পাসপোর্ট অফিসে। অথবা ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশকে ঘুষ না দেওয়ায় অনেক আবেদনকারীর পাসপোর্ট হচ্ছে না; বরং তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে পোরারও অভিযোগ রয়েছে। অথচ বিশেষজ্ঞগণ পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট ইস্যুর পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেন, পাসপোর্ট মানুষের চারিত্রিক সনদপত্র নয়; সৎ কিংবা অসৎ হোক পাসপোর্ট পাওয়া একজন নাগরিকের অধিকার। যদি একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার অধিকার থাকে, যদি তার ভোটাধিকার থাকে তবে তার বিনাশর্তে পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেরিফিকেশনের নামে পুলিশি হয়রানী বিশেষ করে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও তা সমর্থন করেছিলো।
পাসপোর্ট তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিই ভোগান্তির। দরখাস্ত জমা দেয়া, আঙ্গুলের ছাপ নেয়া, ছবি তোলা, পুলিশ ভেরিফিকেশন, পাসপোর্ট ডেলিভারি সব পর্যায়েই হয়রানী করা হচ্ছে মানুষদের। পাসপোর্ট অফিসগুলোতে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দালালরা সংযুক্ত হয়ে হয়রানির মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এরা বছরের পর বছর থেকে চালিয়ে যাচ্ছে এই বাণিজ্য। অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে একটা পাসপোর্ট তৈরি করতে নানামুখী সমস্যাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট প্রদান শুরু হলে আবেদনকারীর হয়রানী কিছুটা হলেও লাঘব হবে। অচিরেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং সেই সঙ্গে পাসপোর্ট তৈরি প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে যে ভোগান্তির জাল পাতা রয়েছে, তা-ও নিশ্চিহ্ন হবে বলেই আমরা আশা করছি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT