ধর্ম ও জীবন

জিলহজের প্রথম দশ দিন : ফযীলত ও আমল

 আব্বাস উদ্দীন প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৮-২০১৮ ইং ০১:৫৬:০৫ | সংবাদটি ১৪২ বার পঠিত

জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন। আল্লাহ তায়ালা সূরা ফজরে জিলহজ্বের প্রথম দশ রাত্রির কসম খেয়েছেন। হাদীস শরীফেও উক্ত দিনগুলোকে সবচেয়ে শ্রেষ্ট এবং অধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত দিনগুলোতে নফল ইবাদত, তেলাওয়াত, যিকির-আযকার ইত্যাদির বিশেষ ফযীলত রয়েছে।
ফযীলত :
ক্স হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন; কোন দিন এমন নেই, যে দিনে কৃত নেক আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে এই (জিলহজ্বের) দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় হয়। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! জিহাদও কি এই দিন সমূহের আমলের সমান নয়? তিনি সা. বললেন হ্যাঁ জিহাদও এর সমান নয়। কিন্তু ঐ ব্যক্তি যে জান ও মাল নিয়ে জিহাদের জন্য বের হয়। অত:পর এর মধ্য থেকে কোন বস্তুই ফেরত নিয়ে আসে না। অর্থাৎ শহীদ হয়ে যায়। (বুখারী)
ক্স হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন; কোন দিন এমন নেই, যে দিনে কৃত ইবাদত আল্লাহ তায়ালার কাছে আশারায়ে জিলহজ্বের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়। কেননা জিলহজ্বের প্রথম দশ দিনের মধ্য থেকে প্রত্যেক দিনের রোযা এক বছরের রোযার সমান। আর এর প্রত্যেক রাতের ইবাদত শবে কদরের ইবাদতের সমান। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)
ক্স হযরত কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন; জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখের (আরাফার দিনের) রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে খুব আশাবাদী যে, এর দ্বারা তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (মুসলিম)
ক্স হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন; আল্লাহ তায়ালার কাছে জিলহজ্বের প্রথম দশ দিনের চেয়ে অধিক সম্মানী দিন নেই। আর না এই দিন সমূহে কৃত আমলের চেয়ে অন্যান্য দিনের আমল পছন্দনীয়। সুতরাং তোমরা এই দিন সমূহে অধিক হারে তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর এবং তাহমীদ পাঠ করো। (তাবরানী)
* হযরত উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন জিলহজ্ব মাস শুরু হয় তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরবানী করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন নিজের চুল ও নখ না কাটে। (সহিহ মুসলিম)
আমল : এ সব দিনে নফল রোযা রাখা, বিশেষ করে আরাফার দিনে রোযা রাখা। অধিক হারে তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর এবং তাহমীদ পাঠ করা। তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর এবং তাহমীদ এগুলো ইসলামী পরিভাষার বিশেষ শব্দাবলী। তাসবীহ দ্বারা ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা, তাহলীল দ্বারা ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলা, তাকবীর দ্বারা ‘আল্লাহু আকবার’ বলা এবং তাহমীদ দ্বারা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা উদ্দেশ্য। এগুলো খুব বরকতপূর্ণ শব্দাবলী। হাদীস শরীফে এগুলোর খুব ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এক হাদীসে এসেছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সাহাবায়ে কেরামকে বললেন; তোমাদের মধ্যে কি কেউ এমন আছে যে প্রত্যেক দিন উহুদ পাহাড় পরিমাণ আমল করবে? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! কে এর ক্ষমতা রাখে? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সবাই ক্ষমতা রাখে। সাহাবায়ে কেরাম বললেন এর পদ্ধতি কি? ইরশাদ করলেন ‘সুবহানাল্লাহর সোয়াব উহুদ পাহাড়ের চেয়ে বেশী। লাইলাহা ইল্লাল্লাহর সোয়াব উহুদ পাহাড়ের চেয়ে বেশী। আলহামদুলিল্লাহর সোয়াব উহুদ পাহাড়ের চেয়ে বেশী। আল্লাহু আকবার এর সোয়াব উহুদ পাহাড়ের চেয়ে বেশী। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)
অন্য হাদীসে এসেছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন; যে ব্যক্তি সকালে ১০০ বার ও বিকালে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হবে যে একশত হজ্ব করছে। যে ব্যক্তি সকালে ১০০ বার ও বিকালে ১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হবে যে একশত ঘোড়ায় একশত মুজাহিদ রওয়ানা করে দিয়েছে অথবা বর্ণনা কারী বলেন সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হবে যে একশতটা জেহাদে শরীক হয়েছে। যে ব্যক্তি সকালে ১০০ বার ও বিকালে ১০০ বার ‘আল্ল¬াহু আকবার’ বলবে, সে দিন তার চেয়ে অধিক সোয়াবের কাজ আর কেউ করতে পারবে না, অবশ্য সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে এরূপ বলেছে বা এর চেয়ে বেশী বলেছে। (তিরমিযী)
অতএব এই বরকতময় দিন সমূহে খুব গুরুত্বের সাথে উপরোক্ত তাসবীহগুলো অধিকহারে পড়া উচিত এবং নফল নামাজ, নফল রোযা, তেলাওয়াত, যিকির-আযকার, তাওবা-ইস্তেগফার ও দুরূদ শরীফের এহতেমাম করা উচিৎ। আর যারা কুরবানী করবো, তাদের জন্য জিলহজ্বের চাঁদ উঠা থেকে নিয়ে কুরবানী করা পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটা মুস্তাহাব।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জিলহজ্বের প্রথম দশ দিনের সমস্ত ফযীলত ও বরকত অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন ॥

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT