ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৮-২০১৮ ইং ০১:৫৬:২৬ | সংবাদটি ১১৯ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : বাক্বারাহ
ঈমান ও কুফরের তাৎপর্য : আলোচ্য আয়াতে চিন্তা করলে ঈমান ও ইসলামের পূর্ণ তাৎপর্যটি পরিষ্কার হয়ে যায়। অপরদিকে কুফরের হাকিকতও প্রকাশ পায়। কেননা, এ আয়াতগুলোতে মুনফিকদের ঈমানের দাবী এবং কোরআনের পক্ষ থেকে এই দাবীর খ-নে ঘোষিত বাক্যে উল্লেখ্য করা হয়েছে।
এখানো আরো কিছু বিশেষ চিন্তা-ভাবনার অপেক্ষা রাখে : যে সমস্ত মুনফিকের বর্ণনা কুরআনে দেয়া হয়েছে, সাধারণতঃ তারা ছিলো ইহুদী। ‘আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্ব ও রোজ কেয়ামতে বিশ্বাস করা তাদের ধর্মমতেও প্রমাণিত ছিলো, তাদেরকে রাসুল (সা.) এর রিসালত ও নবুওয়তের প্রতি ঈমান আনার কথা এখানে বলা হয়নি। বরং মাত্র দু’টি বিষয়ে ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে। তা হচ্ছে, আল্লাহর প্রতি ও শেষ বিচার দিনের প্রতি। এতে তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলা চলে না। তা সত্ত্বেও কুরআন কর্তৃক তাদেরকে মিথ্যাবাদী এবং তাদের ঈমানকে অস্বীকার করার কারণ কি? আসল কথা হচ্ছে যে, কোনো না কোনো প্রকারে নিজ নিজ ধারণা ও ইচ্ছা মাফিক আল্লাহ এবং পরকাল স্বীকার করাকে ঈমান বলা যায় না। কেননা, মুশরিকরাও তো কোন না কোন দিক দিয়ে আল্লাহকে মেনে নেয় এবং কোন একটি নিয়ামক সত্তাকে সবচাইতে বড় একক ক্ষমতার অধিকারী বলে স্বীকার করে। আর ভারতের মুশরিকগণ ‘পরলোক’ নাম দিয়ে আখেরাতের একটি ধারণাও পোষণ করে থাকে। কিন্তু কুরআনের দৃষ্টিতে একেও ঈমান বলা যায় না। বরং একমাত্র সে ঈমানই গ্রহণযোগ্য, যাতে আল্লাহর প্রতি তাঁর নিজের বর্ণনাকৃত সকল গুণাগুণসহ যে ঈমান আনা হয় এবং পরকালের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসুলের বর্ণনাকৃত অবস্থা ও গুণাগুণের সাথে যে বিশ্বাস স্থাপন করা হয়।
কুফর ও ঈমানের সংজ্ঞা : কুরআনের ভাষায় ঈমানের তাৎপর্য বলতে গিয়ে সুরা বাক্বারার ত্রয়োদশ আয়াতে বলা হয়েছে। যাতে বোঝা যাচ্ছে যে, ঈমানের যথার্থতা যাচাই করার মাপকাঠি হচ্ছে সাহাবীগণের ঈমান। এ পরীক্ষায় যা সঠিক বলে প্রমাণিত না হবে, তা আল্লাহ ও রাসুলের নিকট ঈমান বলে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে না।
যদি কোনো ব্যক্তি কুরআনের বিষয়কে কুরআনের বর্ণনার বিপরীত পথে অবলম্বন করে বলে যে, আমি তো এ আকীদাকে মানি, তবে তা শরীয়ত গ্রহণযোগ্য নয়। যথাÑআজকাল কাদিয়ানীরা বলে বেড়ায় যে, আমরা তো খতমে নুবওয়াতে বিশ্বাস করি। অথচ এ বিশ্বাসে তারা রসুল (সা.) এর বর্ণনা ও সাহাবিগণের ঈমানের সম্পূর্ণ বিপরীত পথ অবলম্বন করেছে। আর এ পর্দার অন্তরালে মির্জা গোলাম আহমদের নবুওয়ত প্রতিষ্ঠার পথ বের করছে। তাই কুরআনের বর্ণনায় এদেরকেও এর আওতাভুক্ত করা হয়।
শেষকথা : যদি কোনো ব্যক্তি সাহাবিগণের ঈমানের পরিপন্থী কোনো বিশ্বাসের কোনো নতুন পথ ও মত তৈরি করে সে মতের অনুসারী হয় এবং নিজেকে মুমিন বলে দাবী করে, মুসলমানদের নামায-রোযা ইত্যাদিতে শরীকও হয়, কিন্তু যতোক্ষণ পর্যন্ত কুরআনের প্রদর্শিত পথে ঈমান আনয়ন না করে, ততোক্ষণ পর্যন্ত কুরআনের ভাষায় তাদেরকে মুমিন বলা হবে না।
একটি সন্দেহের নিরসন : হাদিস ও ফেকাহ্শাস্ত্রের একটা সুপরিচিত সিদ্ধান্ত এই যে, আহলে কেবলাকে কাফের বলা যাবে না। এর উত্তরও এ আয়াতেই বর্ণিত হয়েছে যে, আহলে কেবলা তাদেরকেই বলা হবে যারা দ্বীনের প্রয়োজনীয় যাবতীয় বিষয়ে স্বীকৃতি জানায়; কোনো একটি বিষয়েও অবিশ্বাস পোষণ করে না বা অস্বীকৃতি জানায় না। পরন্তু শুধু কেবলামুখী হয়ে নামায পড়লেই কেউ ঈমানদার হতে পারে না। কারণ, তারা সাহাবিগণের ন্যায় দ্বীনের যাবতীয় জরুরীয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
মিথ্যা একটি জঘন্য অপরাধ : আয়াতে মুনফিকদের কথা চিন্তা করলে দেখা যায় যে, তারা প্রথম স্তরের কাফের হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের জানামতে মিথ্যাকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইত। তাই তারা ঈমানের ব্যাপারে আল্লাহ এবং রোজ কেয়ামতের কথা বলেই ক্ষান্ত হতো, রসুলের প্রতি ঈমানের প্রসঙ্গ দৃঢ়তার সাথে পাশ কাটিয়ে যেতো। কেননা, এতে করে তাদের পক্ষে সরাসরি মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার ভয় ছিলো। এতে বোঝা যায় যে, মিথ্যা এমন একটি জঘন্য ও নিকৃষ্ট অপরাধ যা কোনো আত্মমর্যাদা সম্পন্ন লোকই পছন্দ করে নাÑ সে কাফের-ফাসিকই হোক না কেন। [চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT