সম্পাদকীয়

যানবাহন রিকুইজিশন প্রসঙ্গে-

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৮-২০১৮ ইং ০১:৩২:৫২ | সংবাদটি ৫৮ বার পঠিত

যানবাহন চালকদের জন্য রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক একটি বিষয় হচ্ছে পুলিশের গাড়ি রিকুইজিশন। এটিকে পুলিশের একটি ‘বাণিজ্য’ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন অনেকে। এ নিয়ে কম লেখালেখি হয় নি। এই ব্যাপারে সরকার প্রণীত আইনের বরখেলাপ হচ্ছে। আর হয়রানির শিকার হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এই ‘বাণিজ্যের’ ব্যাপারে রয়েছে আদালতের নির্দেশনাও। কিন্তু তা কার্যকর হচ্ছে না। অব্যাহত আছে এই ‘বাণিজ্য’। আর নিত্যদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন গাড়ির মালিক, চালক, হেলপার থেকে শুরু করে যাত্রী সাধারণও। পুলিশ জরুরি প্রয়োজনে প্রায় সময়ই রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনকে রিকুইজিশন করে। বিশেষ করে হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে বেড়ে যায় এর মাত্রা। প্রায় সকল শহরেই রিকুইজিশন করা হয় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। কিন্তু এই গাড়ি রিকুইজিশন করার পুরো প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ এবং হয়রানিমূলক। অথচ এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নীরব।
দেখা গেছে, যে কোনো ধরনের গাড়িই রাস্তায় আটকিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। কখনও যাত্রীবাহী বাস মিনিবাসকেও সিগন্যাল দিয়ে থামানো হয়। পরে যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা হয় এবং নিয়ে যাওয়া হয় গাড়িটিকে। এই গাড়ি ব্যবহার করা হয় সরকারি কাজে পুলিশ ডিউটিতে। মূলত এভাবেই গাড়ি রিকুইজিশন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশকে কিছু বললেও লাভ হয় না। উল্টো অপদস্থ হতে হয় পুলিশের কাছে। আর রিকুইজিশনে নিয়ে যাওয়ার পর অনির্ধারিত সময় গাড়ি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। গাড়ির চালককে যথাযথ ভাড়াও দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় চালক ও হেলপারের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়। চালকদের অভিযোগ হচ্ছে, পুলিশের চাহিদামতো টাকা দিয়ে দিলে গাড়ি বেঁচে যায় রিকুইজিশনের খড়গ থেকে। আর টাকা না দিলে একই গাড়ি বার বার রিকুইজিশন করা হয়।
পুলিশের এই যে গাড়ি রিকুইজিশন- এরও একটা নিয়মকানুন আছে। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ ব্যক্তি মালিকানায় থাকা গাড়ি রিকুইজিশন করতে পারে। তবে সেটা হতে হবে নিয়ম মাফিক। নিয়ম অনুযায়ী জোর জবরদস্তির মাধ্যমে গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা নয়। রিকুইজিশনকৃত গাড়ির প্রাপ্য ভাড়া ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যথাযথভাবে মালিক-চালককে প্রদান করার নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টো। কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করার ৪৫ দিনের মধ্যে পুনরায় রিকুইজিশন করার নিয়ম না থাকলেও একই গাড়ি বার বার রিকুইজিশন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় প্রাইভেট কার, মিনিবাসও রিকুইজিশন করা হচ্ছে। তাছাড়া, টার্মিনাল থেকে গাড়ি রিকুইজিশন করার নির্দেশনা থাকলেও গাড়ি রিকুইজিশন করা হচ্ছে রাস্তা থেকে, অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে। দিনের পর দিন এভাবে চলে আসলেও তা প্রতিকারের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
সাধারণত পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে নির্দেশ পেয়ে নিম্ন পদস্থ কর্মকর্তাগণ গাড়ি রিকুইজিশন কাজে নেমে পড়েন। তখন তাদের সামনে যে গাড়িই পড়–ক না কেন, সেটাকেই তারা রিকুইজিশনের আওতায় নিয়ে আসেন। ইতোপূর্বে ২০১০ সালে গাড়ি রিকুইজিশন সংক্রান্ত আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট মামলা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দেন। তাতে বলা হয়- জনস্বার্থ ব্যতীত কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করতে পারবে না সরকার ও পুলিশ। তাছাড়া, কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করা হলে এর মালিককে নির্ধারিত পরিমাণে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনাও রয়েছে এই আইনে। যে কারণে যানবাহনের নিরীহ চালক, শ্রমিক ও মালিকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে দিনের পর দিন। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গাড়ি রিকুইজিশনের নামে এই যে ‘উপদ্রব’ চলছে এটা বন্ধ করতে হবে। যথাযথ নিয়ম মেনে যাতে গাড়ি রিকুইজিশন করা হয়, সে ব্যাপারে বাধ্য করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT