প্রথম পাতা পুলিশের বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ

নজর পড়েনি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সায়!

নূর আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৮-২০১৮ ইং ০৫:১৪:৪৮ | সংবাদটি ১২৭ বার পঠিত

সিলেটে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে ৩ হাজার ৭শ’ ৫৮ টি পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। দেশব্যাপী আলোচিত এ অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় চালিত ৫ হাজার রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএজি অটোরিক্সার বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। অথচ, অনেকে ‘আবেদিত’ ‘অনটেস্ট’ লেখা অটোরিক্সা নিয়ে শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-৭০৭) ও সিলেট জেলা অটোরিক্সা চালক শ্রমিকজোট (রেজিঃ নং-২০৯৭)’র ৮টি শাখার রয়েছে। এসব শাখার অধীনে রয়েছে-প্রায় ৫ হাজার রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা। অভিযোগ রয়েছে-মহানগর পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্যদের সাথে সমঝোতা করেন এসব স্ট্যান্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকেরা। পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন ‘টোকেন বা স্টিকার’। এসব টোকেন বা স্টিকার দেখালেই ছেড়ে দেয় পুলিশ। বিনিময়ে প্রতিটি স্ট্যান্ড থেকে মাসোয়ারা যায় পুলিশের পকেটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার সিলেট-জকিগঞ্জ রোডের ওভার ব্রিজের নিচে শ্রমিকজোট শাখার সিএনজি অটোরিক্সার একটি স্ট্যান্ড রয়েছে। এই শাখায় প্রায় ৮শ’ গাড়ি রয়েছে রেজেস্ট্রেশনবিহীন। টোকেনের মাধ্যমে প্রতিটি গাড়ি থেকে মাসিক ১২শ’ টাকা নেয়া হয়। ওই স্ট্যান্ড থেকে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, ঢাকা দক্ষিণ রোডে অবাধে চলে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন গাড়ি।
দক্ষিণ সুরমার ভুঁইয়ার পাম্প থেকে বিশ^নাথ, জগন্নাথপুর, গোয়ালাবাজার, তাজপুর বাজার, জালালপুর বাজার, গহরপুর বাজার ও বালাগঞ্জ রোডে চলে প্রায় ৮শ’, নগরীর শিবগঞ্জ-সাদিপুর ফিলিং স্টেশন শাখায় চলে দেড়শ’ সিএনজি অটোরিক্সা।
রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৫ শতাধিক গাড়ি চলছে টিলাগড় শাখা থেকে। মেজরটিলা ও পীরের বাজার ফিলিং স্টেশনে স্ট্যান্ড থেকে চলে ৪শ’ অটোরিক্সা। সিলেট জেলা অটোরিক্সা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-৭০৭)’র অন্তর্র্ভুক্ত আম্বরখানা ও সালুটিকর শাখায় অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সা চলছে প্রায় দেড় হাজার। আম্বরখানা-শিবেরবাজার সড়কেও চলছে সমানভাবে।
শমসু মিয়া নামের এক চালক জানান, যদি কখনো পুলিশ গাড়ি আটকও করে তবে টোকেন দেখালে ছেড়ে দেয়। ঐ টোকেনে লেখা থাকে স্ট্যান্ডের নাম ও শাখা নাম্বার এবং টোকেনের বিপরীত সাইডে চাঁদার সংকেত চিহ্ন। তিনি জানান, শাখার সভাপতির মাধ্যমে পুলিশের পক্ষ থেকে মাসিক চাঁদার বিপরীতে স্টিকার ও টোকেন সরবরাহ করা হয়। স্টিকার সিএনজি অটোরিক্সার গ্লাসে ও টোকেন গোপনীয়তার মাধ্যমে রাখা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক শাখা থেকে সরবরাহকৃত তথ্যমতে, গত ৬ আগস্ট থেকে পরিচালিত বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের ১০ দিনে সিলেটে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৭শ’ ৫৮টি মামলা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ১৯৪টি রেজিস্ট্র্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল। কোথাও একটি রেজিস্ট্র্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা আটকের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

সিলেট জেলা অটোরিক্সা চালক শ্রমিকজোট (রেজিঃ নং-২০৯৭)’র কার্যকরী সভাপতি মতছির আলী বলেন, অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটলে এদের ধরা যায় না। তিনি বলেন, প্রশাসনই এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী। তারাই গাড়ি চলার সুযোগ করে দেয়। রেজিস্ট্রেশন করা গাড়ির কাগজে একটু বেশ কম পেলে মামলা দেয়, আর যে গাড়ির রেজিস্ট্রেশনই নেই, সেই গাড়ি সমাদরে থাকে। এর রহস্য সবাই বুঝে। মতছির আলী প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিবে শ্রমিক সংগঠন তাদের সাথে থাকবে বলে জানান।

সিলেট জেলা অটোরিক্সা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-৭০৭)’র সভাপতি জাকারিয়া বলেন, মফস্বল এলাকায় অনেক গাড়ি ও চালক রয়েছে রেজিস্ট্রেশন-লাইসেন্সবিহীন, শহরে খুব একটা এদের চোখে পড়ে না। তিনি বলেন, পুলিশের সাথে যোগসাজশে রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চলছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সরকারের গেজেটে রয়েছে-কোনো শোরুম রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি বিক্রি করতে পারবে না। এটা সত্ত্বেও গাড়ির শোরুমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। জাকারিয়া দাবি করেন, পুলিশের অঘোষিত ক্লিয়ারেন্স নিয়েই গাড়িগুলো নগরীতে চলছে। না হয় পুলিশ তো অবশ্যই তাদের ধরতো। জাকারিয়া যে গাড়িগুলো শোরুম থেকে বেরিয়ে সড়কে চলছে-এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়ার দাবি জানান। না হয় শোরুম থেকে নতুন গাড়ি বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ রোড টান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সিলেটের সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) প্রকৌশলী কেএম মাহাবুব কবীর বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি কোনোভাবেই সড়কে চলতে পারে না। আমরা সাধ্যমতো মোবাইল কোর্ট করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আমরা যখন অভিযান করি, তখন তারা ছিলো না। প্রতিটি থানার এবং পুলিশের সামনে দিয়ে এসব গাড়ি চলে কিভাবে প্রশ্নের জবাবে ওয়াহাব বলেন, ওসিদের রেজিস্ট্রেশন বিহীন গাড়ি ধরার নির্দেশ দেবো।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • বিশ্বনাথে একই পরিবারের ৭ জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের
  • নবীগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
  • নবীগঞ্জের করগাঁওয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০
  • নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নিহত
  •   ম্যাচ প্রিভিউ ইন্ডিয়াকে হারাতে লড়তে হবে টাইগারদের
  • কানাইঘাট থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতি মামলার ২ আসামী গ্রেফতার
  • শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি
  • বিএনপি নেতৃবৃন্দের নিন্দা
  • হবিগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার করলেন নবাগত পুলিশ সুপার
  • দুই ছাত্র বহিষ্কার এসআইইউ শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে
  • ফলোআপ : বিশ্বনাথে কিশোরী রুমী হত্যাকান্ড ঘাতক শফিকসহ গ্রেফতারকৃত ৪ জনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি
  • কোটা বাতিলের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন
  •   দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ৯ কোটি ছাড়াল
  • দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন সমাপ্ত
  • প্রধানমন্ত্রী লন্ডন যাচ্ছেন আজ
  • বর্তমান সরকারের ১০ বছরে দেশের প্রতিটি সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে
  • আফগানদের কাছে বাংলাদেশের ‘অসহায় আত্মসমর্পণ’
  • ভোলাগঞ্জের রূপ-সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে
  • হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ভাটি এলাকায় ডুবন্ত বাঁধের দৈন্যদশা
  • আজ পবিত্র আশুরা
  • Developed by: Sparkle IT