ইতিহাস ও ঐতিহ্য

হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশঝাড় চাষের নেই উদ্যোগ

মো. বেলাল আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৮-২০১৮ ইং ০০:৪৪:৪০ | সংবাদটি ১৪৩ বার পঠিত

নূরানী বনকলাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ বন ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গৃহ নির্মাণ, আবাদি জমি কমে যাওয়া, বাঁশ শিল্পীদের পেশা পরিবর্তন ও বাঁশের তৈরি আসবাবপত্রের চাহিদা কমে যাওয়া, প্লাস্টিকের তৈরি আসবাবপত্রের চাহিদা বৃদ্ধি, সর্বোপরি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
ঐতিহ্যবাহী সুবিদবাজার বনকলাপাড়া এলাকায় নজরে পড়ত বিশাল বিশাল বাঁশঝাড়। এই বাঁশ ঝাড়গুলোতে ঘনত্ব এতো বেশি ছিলো যে সূর্যের আলো বাঁশঝাড়ের মাটি স্পর্শ করতে পারতো না। এছাড়া এই বাঁশ বনগুলোতে নানা জাতের পশু-প্রাণী বাস করতো। খরগোশ, শৃগাল, বনবিড়াল, বানর, এমনকি চিতাবাঘ পর্যন্ত দেখা যেতো। এসব পশুর জন্য দিনের বেলায়ও বনে ঢুকতে মানুষ ভয় করতো। বাঁশের পাশে শোভা পেত বিভিন্ন ধরনের গাছ। এগুলোর মধ্যে টেংগইর, গামাইর, কাউ, গোলাইল, কেন্দু, মাঠাং, টেকাটুকি, ডেফল, পিঠা খাওরা, খইপুড়া, বন বড়ই উল্লেখযোগ্য। গাছ ও বাঁশের ঘনত্বে ঘন অন্ধকারের জন্য গা ছমছম করতো। এখন এ বনগুলো আর চোখে পড়ে না। উজাড় হয়ে যাচ্ছে বন, প্রাণীগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃতিও হারিয়ে ফেলছে ভারসাম্য। জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাড়ি-ঘর, হচ্ছে নগরায়ন, নির্মাণ হচ্ছে ছোট বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর স্থাপনা।
বন-জঙ্গল ও বাঁশঝাড় কেটে এসব নির্মাণের ফলে বাঁশ বনগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত বাড়ি-ঘর নির্মাণ হওয়ার ফলে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। এর প্রভাবও পড়ছে বাঁশ ঝাড়ের উপর। অন্যদিকে বাঁশের তৈরি আসবাবপত্রের চাহিদা কমে গেছে। বাঁশের তৈরি জিনিসের পরিবর্তে এখন প্লাস্টিক জিনিসপত্রের মানুষের নজর পড়ছে। তুলনামূলকভাবে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চেয়ে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্রে দাম কম, দেখতে সুন্দর ও আধুনিক। তারপরও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র যেমনÑডালি, চাঙ্গারি, করপা, চালুনি, ঝুড়ি, কুলাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের বিকল্প হয় না। বাঁশের তৈরি এসব জিনিসপত্র এখন দুর্লভ হয়ে পড়েছে পেশা পরিবর্তনের জন্য। তাই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কম। পেশা পরিবর্তনের কারণ হিসেবে মহালীরা জানান আগে প্রচুর বাঁশ পাওয়া যেত, দামও কম ছিলো। ফলে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র অল্প দামে বিক্রি করতে পারতাম। এখন বাঁশে উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দাম বাড়ছে। ফলে জিনিসপত্র অল্প দামে আর বিক্রি করা যায় না। বেশি দামে ক্রেতারাও কিনতে চায় না। কারণ এর চেয়ে প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দাম সস্তা, দেখতেও সুন্দর।
বাঁশের চাষ : বাঁশ সাধারণত দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মে। তবে পরিচর্যা করলে সব ধরনের মাটিতেই ভালো ফলন সম্ভব। বর্ষাকালে কুড়ল (বাঁশের চারা) ৫ ফিট উপর থেকে কেটে মাটি থেকে গোড়া সহ উপরে ফেলে ৪৫ ডিগ্রি এঙ্গেলে ১৫-২০ হাত পরপর রোপণ করতে হয়। বাঁশের জমিতে সার, গোবর ও আবর্জনা প্রয়োগ করলেই বাঁশের খাবার চাহিদা মেটে, তাতে রাসায়নিক সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত ৫ প্রকারের বাঁশ এ এলাকাতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাকলা, ভ্যাস্কা, তরলা, বাঁশনি বাঁশই প্রধান। মানুষজন বাঁশঝাড়গুলো প্রয়োজনের তাগিদে উজাড় করে দিলেও নতুনভাবে রোপণের প্রয়োজন মনে করেনি। এ কারণে এখন অনেক গ্রাম অথবা আমাদের বনকলাপাড়া ঘুরেও চোখে পড়ে না বাঁশঝাড় অথবা বাঁশ বন। প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রয়োজনেই বাঁশ চাষ এখনো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • সাত মার্চের কবিতা ও সিলেট বেতার কেন্দ্র
  • পার্বত্য তথ্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সিলেটের প্রাচীন ‘গড়’ কিভাবে ‘গৌড়’ হলো
  • ৮৭ বছরের গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় জিন্দাবাজার
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের কিছু ঘটনা
  • খাদিমনগরে বুনো পরিবেশে একটি দিন
  • ফিরে দেখা ৭ নভেম্বর
  • শ্রীরামসি গণহত্যা
  • প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের ধারক মৃৎশিল্প
  • বিপ্লবী লীলা নাগ ও সিলেটের কয়েকজন সম্পাদিকা
  • গ্রামের নাম আনোয়ারপুর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বিবি রহিমার মাজার
  • তিন সন্তানের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি
  • হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর ও দীঘি
  • শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বিলুপ্তির পথে সার্কাস
  • Developed by: Sparkle IT