ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-০৮-২০১৮ ইং ০০:৫৯:৩০ | সংবাদটি ৯৮ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : বাক্বারাহ
নবী এবং ওলীগণের সাথে দুর্ব্যবহার করা প্রকারান্তরে আল্লাহর সাথেই দুর্ব্যবহারেরই শামিল : উক্ত আয়াতে মুনাফিকদের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে একথাও বর্ণনা করা হয়েছে যে অর্থাৎ, এরা আল্লাহকে ধোকা দেয়। অথচ এ মুনাফিকদের মধ্যে হয়তো একজনও এমন ছিলো না, যে আল্লাহকে ধোকা দেয়ার মনোভাব পোষণ করত। বরং তারা রাসুল সা. এবং মুমিনগণকে ধোকা দেয়ার উদ্দেশে এ সমস্ত ঘৃণ্য কাজ করেছে।
আলোচ্য আয়াতে তাদের এ আচরণকে আল্লাহকেই ধোকা দেয়া বলে উল্লেখিত হয়েছে এবং প্রকারান্তরে বলে দেয়া হয়েছে যে, যারা আল্লাহর রাসুল বা কোনো ওলীর সাথে দুর্ব্যবহার করে, প্রকৃত প্রস্তাবে তারা আল্লাহর সাথেই মন্দ আচরণ করে। প্রসঙ্গতঃ আল্লাহর রাসুলের সাথে বে-আদবী করায় আল্লাহর সাথেই বে-আদবী করা হয়, একথা উল্লেখ করে আল্লাহর রাসুল সা. এবং তাঁর অনুসারিগণের বিপুল মর্যাদার প্রতিও ইশারা করা হয়েছে।
মিথ্যা বলার পাপ : আলোচ্য আয়াতে মুনাফিকদের কঠোর শাস্তির কারণ অর্থাৎ, তাদের মিথ্যাচারকে স্থির করা হয়েছে। অথচ তাদের কুফর ও নিফাক্বের অন্যায়ই ছিলো সবচাইতে বড়। দ্বিতীয় বড় অন্যায় হচ্ছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা। কিন্তু এতদসত্ত্বেও কঠোর শাস্তির কারণ তাদের মিথ্যাচারকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায় যে, মিথ্যা বলার অভ্যাসই তাদের প্রকৃত অন্যায়। এ বদ-অভ্যাসই তাদেরকে কুফর ও নিফাক্ব পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। এ জন্যই অন্যায়ের পর্যায়ে যদিও কুফর ও নিফাক্বই সর্বাপেক্ষা বড়, কিন্তু এসবের ভিত্তি ও বুনিয়াদ হচ্ছে মিথ্য। তাই কুরআন মিথ্যা বলাকে মুর্তিপূজার সাথে যুক্ত করে এরশাদ করেছে : অর্থাৎ, মুর্তিপূজার অপবিত্রতা ও মিথ্যা বলা হতে বিরত থাক।
পরবর্তী আয়াতে আল্লাহর হেদায়েতকে মানা না মানার ভিত্তিতে মানবজাতিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে, প্রত্যেকের কিছু কিছু অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অতঃপর আলোচ্য আয়াতে তিনটি দলকেই সমগ্র কুরআনের মৌল শিক্ষার প্রতি আহবান করা হয়েছে। এতে সৃষ্টিজগতের সবকিছুর আরাধনা পরিহার করে এক আল্লাহর এবাদতের প্রতি এমন পদ্ধতিতে দাওয়াত দেয়া হয়েছে যাতে সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিও একটু চিন্তা করলেই তওহীদের প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করতে বাধ্য হয়।
‘নাস’ আরবি ভাষায় সাধারণভাবে মানুষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ফলে পূর্বে আলোচিত মানব সমাজের তিন শ্রেণিই এ আহ্বানের অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ‘এবাদত’ শব্দের অর্থ নিজের অন্তরে মাহাত্ম্য ও ভীতি জাগ্রত রেখে সকল শক্তি আনুগত্য ও তাবেদারীতে নিয়োজিত করা এবং সকল অবাধ্যতা ও নাফরমানী থেকে দূরে থাকা। (রূহুল বয়ান, পৃ. ৭৪)
‘রব’ শব্দের অর্থ পালনকর্তা। ইতোপূর্বে এর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তদনুসারে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়Ñ স্বীয় পালনকর্তার এবাদত করা।
এ ক্ষেত্রে ‘রব’ শব্দের পরিবর্তে ‘আল্লাহ বা তাঁর গুণবাচক নামসমূহের মধ্য থেকে অন্য যে কোনো একটা ব্যবহার করা যেতে পারতো, কিন্তু তা না করে ‘রব’ শব্দ ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে যে, এখানে দাবীর সাথে দলীলও পেশ করা হয়েছে। কেননা, এবাদতের যোগ্য একমাত্র সে সত্তাই হতে পারে, যে সত্তা তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যিনি বিশেষ এক পালননীতির মাধ্যমে সকল গুণে গুণান্বিত করে মানুষকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করেছেন এবং পার্থিব জীবনে বেঁচে থাকার স্বাভাবিক সকল ব্যবস্থাই করে দিয়েছেন।
মানুষ যতো মূর্খই হোক এবং নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি যতোই হারিয়ে থাকুক না কেন, একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবে যে, পালনের সকল দায়িত্ব নেয়া আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। আর সাথে সাথে একথাও উপলব্দি করতে পারবে যে, মানুষকে এ অগণিত নেয়ামত না পাথর নির্মিত কোনো মূর্তি দান করেছে, না অন্য কোন শক্তি। আর তারা করবেই বা কিরূপে? তারা তো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার বা বেঁচে থাকার জন্য নিজেরাই সে মহাশক্তি ও সত্তার মুখাপেক্ষী। যে নিজেই অন্যের মুখাপেক্ষী সে অন্যের অভাব কি করে দূর করবে? যদি কেউ বাহ্যিক অর্থে কারো প্রতিপালন করেও, তবে তাও প্রকৃতপ্রস্তাবে সে সত্তার ব্যবস্থাপনার সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়।
এর সারমর্ম এই যে, যে সত্তার এবাদতের জন্য দাওয়াত দেয়া হয়েছে, তিনি ব্যতিত অন্য কোনো সত্তা আদৌ এবাদতের যোগ্য নয়।
[চলবে]

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রাহ.) ও সাদাকায়ে জারিয়া
  • রাসূলের সাথে জান্নাত
  • মাতা-পিতার অবাধ্যতার শাস্তি
  •  তাফসিরুল কুরআন
  • বিশ্বনবীর কাব্যপ্রীতি
  • শতবর্ষের স্থাপত্য সিকন্দরপুর জামে মসজিদ
  • তাফসিরুল কুরআন
  •  আত্মার খাদ্য
  • মানব জীবনে আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা
  • সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ : ইসলাম কী বলে
  • মৃত্যুর আগে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করি
  •   তাফসীর
  • ইসলামে বিনোদনের গুরুত্ব
  • কুরআনে হাফিজের মর্যাদা
  • মদীনা রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকা-ের কেন্দ্র ছিল মসজিদ
  • তাফসিরুল কুরআন
  • এতিম শিশু
  • বার্মিংহামে আল কুরআনের হাতে লেখা প্রাচীন কপি
  • রাসুলের সমগ্র জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয়
  • মৌল কর্তব্য আল-কুরআনের বিধান
  • Developed by: Sparkle IT