মহিলা সমাজ

কন্যা শিশুর অধিকার

শেখ রিমঝিম দোলা প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৯-২০১৮ ইং ০০:২৪:৪৩ | সংবাদটি ২০৮ বার পঠিত

সভ্যতার উৎকর্ষে সকল কর্ম ও তার ফলাফলের মূলে রয়েছে নারী ও পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টা। আমাদের আজকের কন্যা শিশুরা আগামী দিনের নারী জাতি। তারাও ভবিষ্যতের কর্ণধার। সমাজ এবং রাষ্ট্রে কন্যা শিশুদের প্রচেষ্টায় অদূর ভবিষ্যতের দিনগুলো হবে আরো বেশি সোনালী রঙে রাঙা।
জাতি বলতে সমগ্র মানব গোষ্ঠিকে বোঝায়। যেখানে পুত্র-কন্যা, নারী-পুরুষের আলাদা ভেদ হয় না। তেমনি জাতি গঠনে, এই দুই দলের গুরুত্ব অনেক। কেননা শুধু পুরুষ অথবা শুধু নারীদের নিয়ে জাতি গঠন হয় না। জাতি গঠনে নারী এবং পুরুষের গুরুত্ব সমান। আর তাই অধিকারও সমান হওয়া চাই।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকল মানব সন্তানকে শিশু বলা হয়। অতএব, শূন্য থেকে ১৮ বৎসরের নিচের সকল মানব সন্তান শিশু। পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্্ের, বিদেশে সকল প্রান্তে শূন্য থেকে ১৮ বৎসরের নিচে যে সকল মেয়েরা রয়েছে তারা সবাই কন্যা শিশু। এই কন্যা শিশুরা প্রাচীন কাল থেকে অদ্যাবধি চলমান যুগেও নানান ধরণের সমস্যায় ভুগছে। সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে।
অধিকার হচ্ছে জীবন ব্যবস্থার এমন কিছু সুযোগ সুবিধা, যা ব্যতিত ব্যক্তি স্বাধীনভাবে তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে পারে না। কিন্তু দেখা যায়, বর্তমান সমাজে কন্যা শিশুদেরকে তাদের বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের সবার উচিত কন্যা শিশুদের সঠিক ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে তাদের সেই অধিকারটুকু প্রদান করা। নয়তো তারা পিছিয়ে পরবে।
পূর্ব যুগে কন্যা শিশুদের উপর যে প্রথা প্রচলিত ছিলো তা কারোরই অজানা নয়। সেই অমানবিক কান্ড থেকে বেশ আগেই কন্যা শিশুরা মুক্ত হয়েছে। কিন্তু মানসিক, পাশবিক ও শারীরিক নির্যাতন বেড়েছে। আমাদের চারপাশ, সংবাদপত্রের পাতা, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং টিভি স্ক্রিন তো রয়েছেই, যা খুললে এবং দেখলেই আমরা তার চাক্ষুস প্রমাণ দেখতে পাই। আমিও মেয়ে, তাই আরো ভালো বুঝতে পারি, কন্যা শিশুদের অবস্থাটা ঠিক কেমন!
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সাম্যবাদী দেশ। এখানে ছেলে এবং মেয়ের অধিকার সমান। হ্যাঁ, সত্যি সে রকম। কিন্তু পরিবার ও সমাজের মানুষদের সচেতন হতে হবে। পরিবার ও সমাজ সঠিকভাবে সচেতন না হলে দেশের দোষ দিয়ে লাভ কি? আশেপাশে তাকালে দেখা যায় নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণসহ ইত্যাদি কার্যকলাপ যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সবাই সচেতন না হলে এবং এগিয়ে না এলে কন্যা শিশুদের সমস্যা দূর হবে না।
উন্নত দেশগুলোতে ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে পার্থক্য করা হয় না। কেননা, সেখানে সবাই সমান। আর সমান বলেই ঐ সমস্ত দেশগুলো উন্নতির শিখড়ে পৌঁছে গেছে। আমাদের দেশের তুলনায় উন্নত দেশের কন্যা শিশুরা শিক্ষা, গবেষণা, ইতিহাস, দর্শন চর্চায় এবং অন্যান্য সব বিষয়েই অনেক এগিয়ে আছে। চেষ্টা করলে আমাদের কন্যা শিশুরাও অনেক সাফল্য বয়ে আনবে।
অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের পোশাক পরিচ্ছদ, কণ্ঠস্বর, কথা বলার ভঙ্গি, বিনয়, চলাফেরার ধরণ ইত্যাদি দেখে এবং উপলব্দি করে বোঝা যায় সে ঠিক কতোটা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। বিভিন্নভাবে যারা মেয়েদের উত্যক্ত করে, নিঃসন্দেহে তারা খারাপ ব্যক্তি। মেয়েরা যখন চলাফেরা করে তখন বাজে চরিত্রের কোনো ব্যক্তির ফালতু মন্তব্য, অহেতুক ধাক্কা, গায়ে স্পর্শের সম্মুখিন হতে চায় না। তবে কেন আপনি এমন খরাপ কাজ করবেন? নোংরামি থেকে নিজে দূরে থাকুন এবং সমাজটাকে বদলে দিন।
প্রতিটি ধর্মের মানুষ শান্তি চায়। কেননা সবার ভেতর ধর্মীয় মূল্যবোধ বিদ্যমান। অনেকেই বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের মধ্যে থাকলে কন্যাদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু তারপরেও যাদের সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে আপনি কি বলবেন? হ্যাঁ, এখানে আপনি জবাবহীন। কিছু কিছু হুজুগে মানুষ নানান দোহাই দিয়ে থাকেন। মূলত কথা হচ্ছে, আমাদের ভেতর মুনুষত্ব বোধের বড় অভাব। যার ফলে সমাজের অবস্থা এতোটা বাজে পর্যায়ে চলে গেছে। আর কোনো ধর্মীয় দোহাই নয়, নিজে বদলে যান। পুরো পৃথিবী বদলে যাবে। নিজে মার্জিত হোন, অন্যকে মার্জিত হতে উদ্বুদ্ধ করুন। এতে করে সম্মানটা আপনারই বাড়বে।
প্রতিটি দেশের অর্ধেক অংশ জুড়ে রয়েছে কন্যা শিশুর অবস্থান। প্রতিটি পরিবার থেকে তাদের নিজ নিজ অধিকার প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে বাবা-মা, ভাই-বোন সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে কন্যা শিশুদের শিক্ষা ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে এবং অবশ্যই নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সুস্থ, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার দিতে হবে। তাকে ছেলে শিশুর সমান ভালোবাসা দিতে হবে।
যারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, তারা অনেক কিছু সম্বন্ধে অজ্ঞ। তারা কখন কি করতে হবে, সেটা বুঝে উঠতে পারেন না। এক্ষেত্রে সমাজের শিক্ষিত মহলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং অজ্ঞ সমাজকে বোঝাতে হবে। যেন সমাজে কন্যা শিশুদের বহুবিদ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা না হয়। প্রয়োজনে অজ্ঞ সমাজকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তবেই দেশ ও দশের উন্নতি সাধন হবে।
আমাদের কন্যা শিশুরা তাদের প্রয়োজনীয় পূর্ণ অধিকার পেলে ভবিষ্যতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করতে পারবে। কন্যা শিশুদের শুধুমাত্র ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। কেননা তাকে এই পৃথিবী সম্পর্কে জানতে হবে, বুঝতে হবে। তাই তাদের জন্য মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কন্যা শিশুদের এগিয়ে আসার পথের দু’ধারে রয়েছে অসংখ্য বাঁধা বিপত্তি। আমরা সবাই পারি এই শিশুদের বাঁধন খুলে দিতে এবং মুক্ত বিহঙ্গের মতো পাখা মেলার স্বাধীনতা দিতে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT