ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরাকমোহনা

মাজহারুল ইসলাম জয়নাল প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৯-২০১৮ ইং ০১:২০:৪০ | সংবাদটি ২৭২ বার পঠিত

সিলেট শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি জকিগঞ্জের বরাকমোহনা। নদনদীর নির্মল বাতাস আর পানির ছলছল শব্দ পর্যটকদের মনে অন্যরকম এক রোমাঞ্চকর ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। ভারতের বরাক নদী হতে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎপত্তি হয়েছে। সেজন্য বরাক, সুরমা আর কুশিয়ারা নদীর মিলনস্থলকে বলা হয় ত্রিমোহনা। বরাকমোহনা, কিংবা তিন গাঙের মুখ বলেই বহুল পরিচিত।
বরাক নদী হতে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত অংশকে কুশিয়ারা নদী আর পূর্ব সীমান্তের উত্তর দিকে প্রবাহিত অংশকে সুরমা নদী বলা হয়। ভৌগোলিক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে বরাক মোহনা বেশ আকর্ষণীয় একটি পর্যটন স্পট। এখানে আসলেই আপনি হয়ত এই প্রথম দুটি নদীর উৎপত্তি স্থল দেখে নিজেকে গৌরবাম্ভিত মনে করবেন। এপারে বাংলা আর ওপারে ভারতের সীমান্ত। মেঘমুক্ত আকাশে বিকেলবেলা সূর্যের আলো যখন তিন নদীর মোহনায় এসে মিলিত হয়, তখন নদীর সাথে সূর্যের আলোর পরশ মিলিত হয়ে এক সোনালী আভার সৃষ্টি করে। যা প্রকৃতিপ্রেমিকদের কাছে ভালো লাগার এক দারুণ মুহূর্ত।
প্রকৃতির হাতে সাজানো বরাক মোহনার বালুক দ্বীপে নানা প্রজাতির পাখির কোলাহল আর নির্মল বাতাস ¯্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টির কথা মনে করিয়ে দেয়।
কবির ভাষায়, নদীর এপার ভাঙ্গে, ওপার ভাঙ্গে/ এইতো নদীর খেলা।/ সকাল বেলার বাদশারে তুই/ ফকির সন্ধ্যা বেলা।
এখানে দাঁড়ালে বরাক মোহনায় কিভাবে বাংলাদেশের সীমান্ত ভেঙ্গে ভারতের সীমান্ত ভরাট হচ্ছে, তা আপনি নিজের চোখে দেখতে পারবেন।
মোহনার বাম পাশেই রয়েছে গায়বী দিঘি। কথিত আছে, ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে এ অঞ্চলে বারোজন বৌদ্ধ ঠাকুরের আগমন ঘটে। বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারই ছিল তাদের মূল কাজ। হযরত শাহজালাল রহ. এর সফরসঙ্গি হযরত সৈয়দ জালাল এর সাথে তর্কযুদ্ধে বারোজন বৌদ্ধ পন্ডিত সৈয়দ জালাল (রহ.) এর বিচক্ষণতার কাছে পরাজিত হয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষালাভ করেন। তাদের সম্মানার্থেই এই এলাকার নাম হয়ে যায় বারঠাকুরী। যার প্রমাণ আজো গায়বী দিঘির ধংসপ্রাপ্ত শিলালিপী সমূহে রয়েছে।
গায়বী দিঘির ধংসপ্রাপ্ত শিলালিপি যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই সময়কার তৈরিকৃত উপাসনা গৃহের ইট, সুরকি, পাথর, ইত্যাদির নিদর্শন আজো পাওয়া যায়। এখানকার স্থানীয় মানুষদের মধ্যে গায়েবী দিঘি নিয়ে রয়েছে নানা কল্পকাহিনি। দিঘির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, পাখিদের কলকাকলী, আর নানা প্রজাতির বনজ গাছগাছালির নির্মল বাতাস যেকোন পর্যটককে আকর্ষিত করবেই।
মোহনার কাছেই বারঠাকুরী গ্রামে শায়িত রয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত মরমী কবি সুফী সম্রাট, শাহ্ শীতালং এর সমাধী।
সুরমা, কুশিয়ারা, গায়বী দিঘি, শীতালং শাহ (রহ.) এর মাজার এবং বরাক মোহনা, সব কিছু মিলিয়ে বরাক মোহনা একটি পর্যটন এরিয়া হওয়ার দাবি রাখে। যদিও প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয় বরাক মোহনা। যদি সরকারিভাবে বরাক মোহনাকে পর্যটন স্পট হিসাবে ঘোষণা করা হয়, তাহলে বরাক মোহনা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন এরিয়া হিসাবে খ্যাতি লাভ করবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরকারি কর কর্মকর্তা, রোটারিয়ান এম জাহেদ আহমদ বলেন, প্রতিদিন বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিন সমূহে এখানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু সরকারিভাবে পর্যটকদের জন্য রোদ-বৃষ্টি হতে রক্ষা, শৌচাগার ও সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য পর্যটন সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে পর্যটকদের নানা ধরনের কষ্ট স্বীকার করতে হয়। তাই এ ব্যাপারে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন কর্পোরেশনের সুদৃষ্টি কামনা করি।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতীত ও বর্তমান
  • নাটোরের জমিদার রানী ভবানী
  • ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
  • সাহিত্য সাময়িকী নিশানা
  • জলসার একাল-সেকাল
  • স্তম্ভবিহীন মসজিদ
  • বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা
  • হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ
  • গ্রামের কথা
  • প্রাচীন গড় কিভাবে গৌড় হল
  • চায়ের দেশ পর্যটকদের ডাকে
  • মুক্তিযুদ্ধকালীন সিলেট অঞ্চলের পত্রপত্রিকা
  • স্মৃতি ও চেতনায় বঙ্গবন্ধু
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • সাত মার্চের কবিতা ও সিলেট বেতার কেন্দ্র
  • পার্বত্য তথ্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সিলেটের প্রাচীন ‘গড়’ কিভাবে ‘গৌড়’ হলো
  • ৮৭ বছরের গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় জিন্দাবাজার
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • Developed by: Sparkle IT