ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরাকমোহনা

মাজহারুল ইসলাম জয়নাল প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৯-২০১৮ ইং ০১:২০:৪০ | সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

সিলেট শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি জকিগঞ্জের বরাকমোহনা। নদনদীর নির্মল বাতাস আর পানির ছলছল শব্দ পর্যটকদের মনে অন্যরকম এক রোমাঞ্চকর ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। ভারতের বরাক নদী হতে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎপত্তি হয়েছে। সেজন্য বরাক, সুরমা আর কুশিয়ারা নদীর মিলনস্থলকে বলা হয় ত্রিমোহনা। বরাকমোহনা, কিংবা তিন গাঙের মুখ বলেই বহুল পরিচিত।
বরাক নদী হতে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত অংশকে কুশিয়ারা নদী আর পূর্ব সীমান্তের উত্তর দিকে প্রবাহিত অংশকে সুরমা নদী বলা হয়। ভৌগোলিক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে বরাক মোহনা বেশ আকর্ষণীয় একটি পর্যটন স্পট। এখানে আসলেই আপনি হয়ত এই প্রথম দুটি নদীর উৎপত্তি স্থল দেখে নিজেকে গৌরবাম্ভিত মনে করবেন। এপারে বাংলা আর ওপারে ভারতের সীমান্ত। মেঘমুক্ত আকাশে বিকেলবেলা সূর্যের আলো যখন তিন নদীর মোহনায় এসে মিলিত হয়, তখন নদীর সাথে সূর্যের আলোর পরশ মিলিত হয়ে এক সোনালী আভার সৃষ্টি করে। যা প্রকৃতিপ্রেমিকদের কাছে ভালো লাগার এক দারুণ মুহূর্ত।
প্রকৃতির হাতে সাজানো বরাক মোহনার বালুক দ্বীপে নানা প্রজাতির পাখির কোলাহল আর নির্মল বাতাস ¯্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টির কথা মনে করিয়ে দেয়।
কবির ভাষায়, নদীর এপার ভাঙ্গে, ওপার ভাঙ্গে/ এইতো নদীর খেলা।/ সকাল বেলার বাদশারে তুই/ ফকির সন্ধ্যা বেলা।
এখানে দাঁড়ালে বরাক মোহনায় কিভাবে বাংলাদেশের সীমান্ত ভেঙ্গে ভারতের সীমান্ত ভরাট হচ্ছে, তা আপনি নিজের চোখে দেখতে পারবেন।
মোহনার বাম পাশেই রয়েছে গায়বী দিঘি। কথিত আছে, ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে এ অঞ্চলে বারোজন বৌদ্ধ ঠাকুরের আগমন ঘটে। বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারই ছিল তাদের মূল কাজ। হযরত শাহজালাল রহ. এর সফরসঙ্গি হযরত সৈয়দ জালাল এর সাথে তর্কযুদ্ধে বারোজন বৌদ্ধ পন্ডিত সৈয়দ জালাল (রহ.) এর বিচক্ষণতার কাছে পরাজিত হয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষালাভ করেন। তাদের সম্মানার্থেই এই এলাকার নাম হয়ে যায় বারঠাকুরী। যার প্রমাণ আজো গায়বী দিঘির ধংসপ্রাপ্ত শিলালিপী সমূহে রয়েছে।
গায়বী দিঘির ধংসপ্রাপ্ত শিলালিপি যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই সময়কার তৈরিকৃত উপাসনা গৃহের ইট, সুরকি, পাথর, ইত্যাদির নিদর্শন আজো পাওয়া যায়। এখানকার স্থানীয় মানুষদের মধ্যে গায়েবী দিঘি নিয়ে রয়েছে নানা কল্পকাহিনি। দিঘির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, পাখিদের কলকাকলী, আর নানা প্রজাতির বনজ গাছগাছালির নির্মল বাতাস যেকোন পর্যটককে আকর্ষিত করবেই।
মোহনার কাছেই বারঠাকুরী গ্রামে শায়িত রয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত মরমী কবি সুফী সম্রাট, শাহ্ শীতালং এর সমাধী।
সুরমা, কুশিয়ারা, গায়বী দিঘি, শীতালং শাহ (রহ.) এর মাজার এবং বরাক মোহনা, সব কিছু মিলিয়ে বরাক মোহনা একটি পর্যটন এরিয়া হওয়ার দাবি রাখে। যদিও প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয় বরাক মোহনা। যদি সরকারিভাবে বরাক মোহনাকে পর্যটন স্পট হিসাবে ঘোষণা করা হয়, তাহলে বরাক মোহনা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন এরিয়া হিসাবে খ্যাতি লাভ করবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরকারি কর কর্মকর্তা, রোটারিয়ান এম জাহেদ আহমদ বলেন, প্রতিদিন বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিন সমূহে এখানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু সরকারিভাবে পর্যটকদের জন্য রোদ-বৃষ্টি হতে রক্ষা, শৌচাগার ও সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য পর্যটন সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে পর্যটকদের নানা ধরনের কষ্ট স্বীকার করতে হয়। তাই এ ব্যাপারে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন কর্পোরেশনের সুদৃষ্টি কামনা করি।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • মুহররমের দাঙ্গাঁ নয় ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধ
  • দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিচিতি
  • সিলেটের প্রথম মুসলমান সম্পাদক
  • কালের সাক্ষী পানাইল জমিদার বাড়ি
  • জনশক্তি : সিলেটের একটি দীর্ঘজীবী পত্রিকা
  • ঋতুপরিক্রমায় শরৎ
  • সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরাকমোহনা
  • যে এলাকা পর্যটকদের হৃদয় জোড়ায়
  • উনিশ শতকে সিলেটের সংবাদপত্র
  • হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশঝাড় চাষের নেই উদ্যোগ
  • হারিয়ে যাচ্ছে বেদে সম্প্রদায়ের চিকিৎসা ও ঐতিহ্য
  • একটি হাওরের অতীত ঐতিহ্য
  • বদর বাহিনীর হাতে শহীদ হন সাদেক
  • বানিয়াচংয়ের ভূপর্যটক রামনাথ
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্র এবং বাগ্মী বিপিন
  • সিলেটের গৌরব : কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রকৃতিকন্যা সিলেট
  • ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম ক্ষেত্র
  • ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ জামালপুর
  • সুনামগঞ্জের প্রথম নারী সলিসিটর
  • Developed by: Sparkle IT