ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৯-২০১৮ ইং ০০:৩৯:৫৯ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : বাক্বারাহ
আমল নাজাত ও বেহেশত পাওয়ার নিশ্চিত উপায় নয় : এটি এমন ক্ষেত্রে বলা হয়, যেখানে কোনো কাজ হওয়া নিশ্চিত হয়ে থাকে। ঈমান তওহীদের পরিণাম নাজাত সম্বন্ধে আল্লাহর ওয়াদা নিশ্চিত, কিন্তু সে বস্তুকে আশারূপে বর্ণনা করার তাৎপর্য এই যে, মানুষের কোনো কাজই মুক্তি ও বেহেশতের মূল্য বা বিনিময় হতে পারে না। বরং একমাত্র আল্লাহর মেহেরবাণীতেই মুক্তি সম্ভব। ঈমান আনা ও আমল করার তৌফিক হওয়া আল্লাহর মেহেরবাণীর নমুনা, কারণ নয়।
তওহীদের বিশ্বাসই দুনিয়াতে শান্তি ও নিরাপত্তার জামিন : ইসলামের মৌলিক আকীদা তওহীদ বিশ্বাস শুধু একটি ধারণা বা মতবাদমাত্রই নয়; বরং মানুষকে প্রকৃত অর্থে মানুষরূপে গঠন করার একমাত্র উপায়ও বটে। যা মানুষের যাবতীয় সমস্যার সমাধান দেয়, সকল সংকটে আশ্রয় দান করে এবং সকল দুঃখ-দুর্বিপাকের মর্মসাথী। কেননা, তওহীদ বিশ্বাসের সারমর্ম হচ্ছে এই যে, সৃষ্ট সকল বস্তুর পরিবর্তন-পরিবর্ধন একমাত্র একক সত্তার ইচ্ছাশক্তির অনুগত এবং তাঁর কুদরতের প্রকাশ।
এ দু’টি আয়াতে এমন এক কালাম পেশ করা হচ্ছে, যা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারোই হতে পারে না। ব্যক্তিগত মেধা কিংবা দলগত উদ্যোগের দ্বারাও কালামের অনুরূপ রচনা করা সম্ভব নয়। সমগ্র মানবজাতির এ অপারগতার আলোকেই এ সত্য প্রমাণিত যে, এ কালাম আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নয়। এ আয়াতে আল্লাহ তা’আলা সমগ্র বিশ্বের মানুষকে উদ্দেশ্য করে চ্যালেঞ্জ করেছেন যে, যদি তোমরা এ কালামকে আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোনো মানুষের কালাম বলে মনে কর, তবে যেহেতু তোমরাও মানুষ, তোমাদেরও অনুরূপ কালাম রচনা করার ক্ষমতা ও যোগ্যতা থাকা উচিত। কাজেই সমগ্র কুরআন নয় বরং এর ক্ষুদ্রতম একটি সূরাই রচনা করে দেখাও। এতে তোমাদিগকে আরো সুযোগ দেয়া যাবে যে, একা না পারলে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ মিলে, যারা তোমাদের সাহায্য-সহায়তা করতে পারে এমন সব লোক নিয়েই ছোট একটি সুরা রচনা করে দেখাও। কিন্তু না, তা পারবে না। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, তোমাদের সে যোগ্যতাই নেই। তারপর বলা হয়েছে, কেয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করেও যখন পারবে না, তখন দোযখের আগুন ও শাস্তিকে ভয় করো। কেননা, এতে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটা মানব রচিত কালাম নয়, বরং এমন অসীম শক্তিশালী সত্তার কালাম যা মানুষের ধরা-ছোঁয়া ও নাগালের উর্ধ্বে। যার শক্তি সকলের উর্ধ্বে এমন এক মহা সত্তা ও শক্তির কালাম। সুতরাং তার বিরোধিতা থেকে বিরত থেকে দোযখের কঠোর শাস্তি হতে আত্মরক্ষা কর।
মোটকথা, এ দু’টি আয়াতে কুরআনুল করীমকে রসুলুল্লাহ (সা.) এর সর্বাপেক্ষা বড় মু’জেযা হিসাবে অভিহিত করে তাঁর রিসালত ও সত্যবাদিতার দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) এর মু’জেযার তো কোনো শেষ নেই এবং প্রত্যেকটিই অত্যন্ত বিষ্ময়কর। কিন্তু তা সত্ত্বেও এস্থলে তাঁর জ্ঞান ও বিদ্যার মু’জেযা অর্থাৎ, কুরআনের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ রেখে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মু’জেযা হচ্ছে কুরআন এবং মু’জেযা অন্যান্য নবী রসুলগণের সাধারণ মু’জেযা অপেক্ষা স্বতন্ত্র। কেননা, আল্লাহ তা’আলা তাঁর অপার কুদরতে রাসুল (সা.) প্রেরণের সাথে সাথে কিছু মু’জেযাও প্রকাশ করেন। আর এসব মু’জেয়া যে সমস্ত রাসুলের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো তাঁদের জীবন কাল পর্যন্তই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কুরআনই এমন এক বিচিত্র মু’জেযা যা কেয়ামত পর্যন্ত বাকী থাকবে।
[চলবে]

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রাহ.) ও সাদাকায়ে জারিয়া
  • রাসূলের সাথে জান্নাত
  • মাতা-পিতার অবাধ্যতার শাস্তি
  •  তাফসিরুল কুরআন
  • বিশ্বনবীর কাব্যপ্রীতি
  • শতবর্ষের স্থাপত্য সিকন্দরপুর জামে মসজিদ
  • তাফসিরুল কুরআন
  •  আত্মার খাদ্য
  • মানব জীবনে আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা
  • সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ : ইসলাম কী বলে
  • মৃত্যুর আগে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করি
  •   তাফসীর
  • ইসলামে বিনোদনের গুরুত্ব
  • কুরআনে হাফিজের মর্যাদা
  • মদীনা রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকা-ের কেন্দ্র ছিল মসজিদ
  • তাফসিরুল কুরআন
  • এতিম শিশু
  • বার্মিংহামে আল কুরআনের হাতে লেখা প্রাচীন কপি
  • রাসুলের সমগ্র জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয়
  • মৌল কর্তব্য আল-কুরআনের বিধান
  • Developed by: Sparkle IT