সম্পাদকীয়

তামাক কোম্পানীর হস্তক্ষেপে...

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৯-২০১৮ ইং ০১:৩২:৩৭ | সংবাদটি ২২০ বার পঠিত

তামাক কোম্পানীগুলোর হস্তক্ষেপ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তামাক কোম্পানীগুলোর হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। সম্প্রতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন তামাক কোম্পানীর কার্যক্রম খতিয়ে দেখে এই গবেষণাপত্র তৈরি করা হয়। এতে আরও বলা হয়- তামাক কোম্পানীর অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর হস্তক্ষেপ সূচকে এশিয়ায় দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। তামাক কোম্পানীর সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ থাকায় তামাকসংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়েছে। তামাক কর সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানীর হস্তক্ষেপ দেখা যায়। জাতীয় বাজেট তৈরির সময় তামাকপণ্যে করারোপের ক্ষেত্রে কোম্পানীগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরামর্শ নেয়া হয়। বিভিন্ন সময় তামাক কোম্পানীকে নানাভাবে সুবিধা প্রদানের তথ্য গবেষণায় পাওয়া গেছে।
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটা প্রমাণিত হয়েছে অনেক আগেই। ধূমপানে মানবদেহে মরণব্যাধির জন্ম হতে পারে। তাছাড়া, ধূমপান পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। এই সবকিছু বিবেচনা করে ধূমপানের বিরুদ্ধে চলছে নানা ধরনের প্রচারণা। এর বিরুদ্ধে আইনও আছে। আইনে জনসমাগমস্থলে ধূমপানে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে মিডিয়ায় বিড়ি-সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়। এই আইনটি এখনও কার্যকর থাকলেও নতুন কৌশলে চলছে বিড়ি-সিগারেটের প্রচারণা। অর্থাৎ যতোই ধূমপানের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হোক না কেন, বহুজাতিক কোম্পানীগুলো তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। দেখা গেছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অষ্টম বৃহত্তম সিগারেটের বাজারে পরিণত হয়েছে। এখানে সিগারেট বাজারের বার্ষিক উৎপাদন ৮৬ বিলিয়ন ইউনিটের বেশি। প্রতি বছর এটি দুই শতাংশ হারে বাড়ছে। একদিকে সিগারেটের উৎপাদন বাড়ছে অপরদিকে বাড়ছে ধূমপায়ীর সংখ্যা। তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ব্যর্থতার জন্য অনেকাংশেই দায়ী তামাক কোম্পানীগুলো।
বিগত কয়েক বছর ধরেই বার্ষিক বাজেটে সিগারেট বিড়ির ওপর নতুন ট্যাক্স আরোপ করে এর দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার পরই সিগারেট বিড়ির দাম বেড়ে যায়। আর এই ট্যাক্স আরোপের সিদ্ধান্তটিও নেয়া হয় কোম্পানীগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। তাছাড়া শ্রেষ্ঠ করদাতা হিসেবেও তামাক কোম্পানীকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এই সব কার্যক্রম পক্ষান্তরে কোম্পানীগুলোকে উৎসাহিত করার নামান্তর। বিড়ি-সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নানা কৌশলে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। ইদানিং বিভিন্ন ছোটবড় পানের দোকান কিংবা গ্রোসারী শপে সাইন বোর্ড টানিয়ে ‘ন্যায্য মূল্যে সিগারেট বিক্রি’ শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের নানা প্রলোভন দিয়ে ফসলের জমিতে তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করা। তামাক কোম্পানীগুলোর এইসব কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণ না করলে তামাক নিয়ন্ত্রণ কিছুতেই হবে না, বরং তা সম্প্রসারিত হতে থাকবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT