উপ সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিরতা

সোয়াইব আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৯-২০১৮ ইং ০১:৩৮:২৮ | সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত

গতবছরের ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় ১০ লাখ বিতাড়িত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থানরত। সুনির্দিষ্টভাবে বললে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় অবস্থান করছে প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা। বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের নিত্যনতুন বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দৈনিক প্রায় ৬০-এর অধিক শিশু জন্ম নিচ্ছে ক্যাম্পগুলোতে। সরকারি হিসাবমতে, গত একবছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে ৬০ হাজার শিশু। আর বর্তমানে গর্ভবতী আছেন আরো ২০ হাজার নারী। পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারে বিরূপ মনোভাবই তাদের বংশবৃদ্ধির একমাত্র কারণ।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়মিত ঘটছে অবাধে বাল্যবিবাহ। পরিবারের অসচেতনতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবারগুলো তাদের কিশোরীদের স্বাস্থ্যগত, সামাজিক বা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপারগ হওয়ায় অতি দ্রুত বিয়ে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে চাইছেন। এতে করে যেমন বাড়ছে শিশু জন্মহার সেইসঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে নানা রোগ-ব্যাধি।
এ পর্যন্ত প্রায় ৩৭৮ জন এইডস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে কক্সবাজারে। এর মধ্যে ২৫৮ জন রোহিঙ্গা ও ১২০ জন বাংলাদেশি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া রোগীর এইডস সংক্রমণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় না। এরফলে অনেক সম্ভাব্য এইডস আক্রান্ত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় রক্ত পরীক্ষা না করায় অনেক রোগীকে সনাক্ত ও চিকিত্সা প্রদান সম্ভবপর হয়ে উঠছে না।
গত একবছরে প্রায় পাঁচ শতাধিক মামলা হয়েছে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। চুরি-ডাকাতি প্রতিনিয়ত ঘটছে আশ্রয় শিবিরে। আশ্রয় শিবিরের জায়গা বণ্টন নিয়ে কলহ বা তাদের পূর্বের অন্তঃকলহ, কিশোর অপরাধের প্রবণতা ক্যাম্পের পরিবেশ আরো অস্থিতিশীল করে তুলছে। এমনকি গত একবছরে ২২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ দিকে হলো অনেক ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশিদের সাথেও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন।
বাংলাদেশে মাদক পাচারের অন্যতম রুট মিয়ানমার-এর সঙ্গে লেগে থাকা ২৮০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমানা। ভাসমান রোহিঙ্গাদের এই মাদক পাচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার জন্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাদক পাচার চক্র। বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালিত হলেও পুরোপুরিভাবে মাদক পাচার নির্মূল করা সম্ভবপর হচ্ছে না। আর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করায় সবচেয়ে অদ্ভুত সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে স্থানীয় বাংলাদেশিদের। তাদের চলাচল, বাসস্থান, বিনোদন, শিক্ষার পরিবেশ একেবারেই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। রোহিঙ্গারা অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম পাচ্ছেন না। আর শতবর্ষী কাঠ বা গাছ আশ্রিত ১০ লাখ রোহিঙ্গার রান্নার লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করায় পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। বন বা পাহাড় উজাড় করে সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ টন জ্বালানি কাঠ। এরফলে ২০১৯ সাল নাগাদ কক্সবাজারের বনভূমি প্রায় বিলীন হতে যাবে বলে মনে হয়। অনিন্দ্য সুন্দর টেকনাফ, উখিয়া আজ তার সৌন্দর্যে পরিহাস করছে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে এই বেপরোয়া কর্মকা- প্রতিরোধের জন্যে আমাদের অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হতে পারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বা তাদেরকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে দেয়া। এটি শুধু বাংলাদেশের নয় বরং বিশ্ববাসীর জন্যে চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে সমাজ সচেতনতামূলক প্রচেষ্টা আরো বাড়াতে হবে। বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পেশাদার সমাজকর্মী নিয়োগ করে তাদের মনোসামাজিক সমস্যার সমাধান করা অতীব জরুরি। স্বাস্থ্যঝুঁকির বা মহামারী রোগের ব্যাপারে খুব সচেতন হতে হবে।
রোহিঙ্গা শিবিরের কাছাকাছি অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। এতে করে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান করে যেভাবে বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছিলাম তেমনিভাবে এই সকল পদক্ষেপ আমাদের দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে।
লেখক : শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • রহমতের নবী মুহাম্মদ (সা:)
  • মহানবী : মানবজাতির সতর্ককারী, সুসংবাদদাতা
  • মনীষীদের দৃষ্টিতে মহানবী
  • আসামের ৪০ লাখ অধিবাসী যাবে কোথায়?
  • জনসংখ্যা ও জনসম্পদ
  • বাস্তবতার নিরিখে হাল আমলের বিশ্ব
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও বিজ্ঞানীদের সতর্কতা
  • বিদেশে কর্মসংস্থান : সমস্যা ও সম্ভাবনা
  • সাম্প্রতিক কথকতা
  • শিশুর সুরক্ষা ও গণমাধ্যম
  • উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ
  • ডাক বিভাগ ফিরে পাচ্ছে প্রাণ
  • আমরা সবাই ভালো হলে দেশ ভালো হবে
  • ‘জাতীয় বীর’ কৃষকদের নিয়ে কিছু কথা
  • ভর্তিযুদ্ধে লাঘব হোক ভোগান্তি
  • মানব সম্পদ উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা
  • ভোটের মাঠে তারকার মেলা
  • আয় বৈষম্য ও সামাজিক অসমতা
  • সামাজিক আন্দোলন : নিরাপদ সড়ক চাই
  • আলী হোসেন খান
  • Developed by: Sparkle IT