সম্পাদকীয় আল্লাহ নিজে কোমল এবং তিনি কোমল স্বভাব পছন্দ করেন। - আল হাদিস

গ্রামমুখী ব্যাংক সেবা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৯-২০১৮ ইং ০১:৪১:২৩ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত

অবশেষে গ্রামমুখী হচ্ছে ব্যাংক সেবা। গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকের সেবা গ্রামে সম্প্রসারিত হচ্ছে। শহরের চেয়ে এখন গ্রামাঞ্চলে ব্যাংক লেনদেন বেশি হচ্ছে। শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ ব্যাংক হিসাব বেশি খুলছেন। শহরের তুলনায় গ্রামে সাড়ে ছয় গুণ বেশি ব্যাংক হিসাব খোলা হচ্ছে। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোও গ্রামে শাখা খুলতে আগ্রহী হচ্ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাদেশে ব্যাংকগুলোর প্রায় দশ হাজার শাখার মধ্যে ৫৬ শতাংশের বেশি রয়েছে গ্রামে। এর বাইরে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও গ্রামের দুর্গম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তবে বিদেশী ব্যাংকের একটি শাখাও গ্রামে নেই। এজেন্ট ব্যাংকিং সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, সম্প্রতি শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে খোলা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ছয় গুণ। তবে নারী হিসাবধারীদের চেয়ে পুরুষ হিসাবধারীর সংখ্যা প্রায় দুই গুণ বেশি।
ব্যাংক সেবা গ্রামে না পৌঁছায় গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাপারটি নিয়ে বলাবলি হচ্ছে বুদ্ধিজীবী মহলে। আর গ্রামীণ অর্থনীতি সচল না হলে গোটা দেশের অর্থনীতিতেই বিরূপ প্রভাব ফেলবে। গ্রামে ব্যাংকিং সেবা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বরাবরই সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়ে আসছে। প্রতিটি ব্যাংকের ওপরই নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে শহর-গ্রাম সমান হারেই শাখা খোলার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশনা দীর্ঘদিন কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গ্রামে শাখা খোলার ক্ষেত্রে ছিলো অনীহা। তবে অতি সম্প্রতি এই বন্ধ্যাত্ম ঘুচেছে। সরকারি বেসরকারি সব ব্যাংকই গ্রামীণ শাখা সম্প্রসারণে এগিয়ে এসেছে। সব ব্যাংকই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শহর-গ্রাম সমানভাবে শাখা খুলছে। তাছাড়া, এখন বিভাগ ও জেলা শহরের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভা এলাকায় স্থাপিত শাখাকেও শহর শাখা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় রয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং। জানা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জন্য প্রায় ১৯ লাখ নারী পুরুষ ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ২০১৪ সালে।
গ্রামের উন্নতির মধ্যেই নিহিত রয়েছে দেশের সার্বিক উন্নতি। আর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত না হলে গ্রামীণ উন্নতি আশা করা যায় না। গ্রামাঞ্চলে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমেই সম্ভব গ্রামে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা। গ্রামে এখন ব্যাংক শাখা খোলা হচ্ছে। মানুষ এখন সহজেই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হতে পারছে। বিশেষ করে কৃষকদের দশ টাকায় হিসাব খোলা কিংবা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের টাকা গ্রামীণ সুবিধাভোগীদের হাতে সহজে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে ব্যাংক শাখা বৃদ্ধি পাওয়ায়। তবে এক্ষেত্রে একটা বিষয় খুবই জরুরি। তা হলো, ব্যাংকিং সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর জোর দিতে হবে। কারণ গ্রামীণ নিরীহ মানুষ প্রায় সময়ই ব্যাংকসেবা নিতে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT