উপ সম্পাদকীয়

বিষয়গুলি নিছক অনুধাবনের

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৯-২০১৮ ইং ০০:১১:২৮ | সংবাদটি ১৩ বার পঠিত

টানা চারদিন আমি তথ্য মাধ্যমের বিশ্বায়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। মুহূর্তের মধ্যে কী ঘটছে এ জাতীয় তথ্য ও সংবাদ জানতে আমি উন্মুখ থাকি। আমার বাসায় রয়েছে ঝঊঞইঙঢ সহযোগে ডিশ সংযোগ। লামাবাজার নয়াপাড়ায় আমার বাসগৃহে মাসের প্রথমেই দর্শন দেন সংশ্লিষ্ট ডিশ ব্যবস্থাপনার বিল সংগ্রাহক। এবং যথারীতি সেটা পরিশোধ করা হয় চাহিবা মাত্র। কিন্তু চারদিন গত হওয়ার পরও বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও তারা আমার সংযোগ চালু করার ব্যাপারে কোনই উদ্যোগ নিলেন না। ভাবখানা এমন যে, টিকিট আমার পকেটে যখন আছে ট্রেনখানি যাবে কোথায়! এ জাতীয় কর্মকান্ডকে প্রতারণা নাকি উন্নাসিকতা বলবো, ভেবে পাইনা। নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আমার সংযোগটি চালু করবেন। কিন্তু আমাকে তথ্য লাভের অধিকার বঞ্চিত করণের মাশুলটি কে দেবে, ভেবে পাইনা!
ওসমানীনগর এলাকার নাজির বাজার মোতিরগাঁও এর একজন নিঃস্বার্থ বৃক্ষপ্রেমিক আব্দুল গাফফার ওমরা মিয়া অসুস্থ শরীর নিয়েও ভ্যানগাড়ীতে করে গাছের চারা বিতরণ, রোপণ ও পরিচর্যা করেন। প্রায় আশি বছর বয়স্ক এ প্রবীন ব্যক্তিটি পরিতাপ করে বলেছিলেন তার লাগানো প্রায় দশ বছরের পরিশ্রমের ফসল বেশ কয়েকটি ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা কে বা কারা কর্তন করে একেবারে নির্মূল করে দিয়েছে। এখানকার অভিজ্ঞতাটিকে পরশ্রীকাতরতা, হিংসা প্রবণতা বা প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ, কোন নামে যে অভিহিত করব বুদ্ধিতে কুলাতে পারিনা।
রাস্তাঘাটে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা পড়ছে। কেউ খেয়াল নজর দিচ্ছেন না। প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিতকরণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে আর চিন্তা নাই সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ না হোক হ্রাস পাবে শীঘ্রই এমনতরো আশ্বাস বাণী দিয়েই যাচ্ছেন দায়িত্বশীলরা। সড়ক সমূহে মানুষ মারা পড়ছে ঠিকই কিন্তু গরু-ছাগল চিনতে পারলেই চালক লাইসেন্সের দাবীদারদের হাতে গরু-ছাগল মারা পড়ছে না ঠিকই। ভদ্রলোকের এক কথা। এবং সেই অনুসারে কাজও হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষই মারা পড়ছে, গরু-ছাগল রয়েছে নিরাপদে।
আমাদের দেশটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। কোনদিন কখন কিভাবে এ জাতীয় কর্মপদ্ধতি বা তফশীলের ঘোষণাটি সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে জানানো হয় নাই। গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয় নাই এখন পর্যন্ত। অন্যদিকে দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বরা নানা ধরনের মন্তব্য দ্বারা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তুলছেন ইতিমধ্যেই। দেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে জাতিয় নির্বাচন কমিশন। এই কমিশন সকল কাজের কাজী, জাতীয় পর্যায়ের বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা সমূহের নির্বাচনের ব্যাপারে। বাক্যবাগীশদের কারণে নির্বাচন আয়োজন, পরিচালনা, তত্ত্বাবধান জাতীয় সকল দায়িত্ব সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। তারা নির্দিষ্ট একটি মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে নেতিবাচক মন্তব্যও করেছে। আক্ষরিক অর্থে নির্বাচন কমিশন তার কর্মক্ষেত্র এবং দায়িত্ব সম্বন্ধে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে।
দেশের বৃহত্তর সাংগঠনিক ক্ষমতাসম্পন্ন বি.এন.পি নামক রাজনৈতিক দলটির সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে আরেক ধুন্ধুমার কান্ড। আইন বহির্ভূত কাজ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে আইনগতভাবে। বিগত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ের করা একটি মামলায় কারান্তরালে কাটছে বেগম জিয়ার দৈনন্দিন জীবন। আইন আদালত চলবে নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করে এবং এটির ব্যত্যয় যে ঘটবে সেটারও জো নেই। কখন, কোথায় বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে সেটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনী প্রতিষ্ঠান সমূহ। বেগম খালেদা জিয়ার অনুসারীদেরও এই ব্যাপারে ধৈর্য্য ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে। ন্যায় বিচার আর ন্যায়ানুগ আইনী বিধি বিধান পালিত হচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে যুক্তি তর্ক, মতপ্রকাশ, বক্তৃতা, বিবৃতি এসব কিছুই করা হবে আইন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা। এ জাতীয় বিষয়কে রাজনীতির বিষয়বস্তু বানাতে যাওয়া যৌক্তিক হবে বলে আমার মনে হয় না।
সকলেরই মনে রাখা উচিত মান, অভিমান, ভাবালুতা জাতীয় কর্মকান্ড রাজনীতির অঙ্গনে একেবারে নিষিদ্ধ। মানিনা, মানবোনা, বর্জন করবো জাতিয় কার্যক্রম যদি সগর্বে আর সরবে প্রকাশ করতে থাকেন কোন রাজনৈতিক দল বা প্রতিপক্ষ অবশ্যই সেটি হবে একটি ভ্রান্তিবিলাস। নদীর ¯্রােত আর সময় যেমন কারো জন্য অপেক্ষা করে না তেমনি রাজনীতিও কারো জন্য জায়গা খালি রাখে না। জনগণের সামনে যেতে হবে শত বাধাবিপত্তি পেরিয়েও। চিকন সুতোর উপর ভারসাম্য রাখার মতো রাজনীতির কর্মকান্ডও পরিচালনা করতে হয় তেমনি দক্ষতা, ভারসাম্যমূলক কর্মধারা বজায় রেখে। তাই সকল রাজনীতি সচেতন জনগণের নাড়ির টান আমলে নিয়েই অগ্রসর হতে হবে এই বিরাট পরিসরে। ঝোপ বুঝে কোপ মারার দল এখনই কার কতোটা আসন চাই এ জাতিয় দাবীনামা নিয়ে দেনদরবার শুরু করেছে। শুনতে মধুর হলেও এটি কিন্তু ক্ষমতাসীন মহলের জন্য সুখকর ফল বহন করবে না। মনে রাখতে হবে সামনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় আসতে হবে। নিজের জমি নিজেকেই দেখভাল করতে হবে। বর্গা চাষী মার্কা রাজনীতিবিদদের কাছে না টানাই ভালো। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটি উন্নয়নের পরিসর বাড়িয়ে চলেছে দেশব্যাপী। জনবান্ধব, কল্যাণমুখী আর কর্মসুযোগ সৃষ্টিকারী কর্মসূচির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজের ও দলের অবস্থানটি সুসংহত করতে পেরেছেন দৃষ্টিগ্রাহ্য ভাবে। তার বোনা ফসলে অন্যেরা এসে ভাগ বসাক সেটা অবশ্যই নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল কর্মীরা হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করবে না। তাই বর্তমান গদীনশীলদের নিজেদের ক্ষমতা আর সাংগঠনিক দক্ষতার উপর নির্ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়াটা হবে অতিসুখকর আর মঙ্গলজনক।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নানা ধরনের রাজনৈতিক জোটবদ্ধতার প্রবণতা লক্ষ্যকরা যাচ্ছে। যারা এটি করতে যাচ্ছেন তারাও এককালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলসমুহের একনিষ্ঠ আর সর্বংসহা পদাধিকারী ছিলেন। কক্ষচ্যুত নতুবা দলছুট এমনতরো অবস্থানে থেকে তাদের অনেকেই নির্বাচনী জোট বানাতে চাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি সন্নিকটবর্তী। নবগঠিত জোটের নেতৃবৃন্দ তাদের লক্ষ্য আদর্শ আর কর্মপন্থা নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হওয়ার আর বিস্তারিত তুলে ধরার সময়টি পাবেন অতি অল্প। তাই বলছিলাম একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে নিতে পরিচ্ছন্ন আর সুপরিকল্পিত নীতিমালা সমৃদ্ধ একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গ্রহণ করা প্রয়োজন। যে সকল দলের নাম শুনেই অনেকে ধরে নেন এরা নির্বাচনী যুদ্ধে যাবে না এ সকল দলকেও নিজেদের পরিচ্ছন্ন আর ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরে নির্বাচনী ময়দানে সোচ্চার হতে হবে। মনে রাখতে হবে সকল জাতীয় নির্বাচনই জনগণের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়ে থাকে কখনোই ব্য্যক্তি বিশেষের আকাংখা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নয়। অমুককে ছাড়া নির্বাচনে যাবনা জাতীয় প্রত্যয় যারা ব্যক্ত করেন তারা নিজেদের দুর্বলতা প্রমাণ করা ছাড়া অন্যকিছু ভাবেন বলে মনে হয় না।
পরিশেষে বৃহত্তর সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে এই অঞ্চলটি যাতে পূর্বে প্রদত্ত ওয়াদামাফিক সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নের মারফত সুফল লাভ করে আসন্ন নির্বাচনটির পূর্বেই অবশ্যই সেটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে সর্বক্ষেত্রে। জ্ঞানী সর্বত্র পূজ্যতে!
লেখক : অধ্যক্ষ, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আগস্টের শোকাবহ ঘটনাবলী
  • সংযোগ সেতু চাই
  • টিবি গেইট ও বালুচরে ব্যাংকিং সুবিধা চাই
  • হাসান মার্কেট জেল রোডে স্থানান্তর হোক
  • ২৭নং ওয়ার্ডের কিষণপুর-ঘোষপাড়ার রাস্তা মেরামত প্রসঙ্গে
  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
  • দেশীয় রাবার শিল্প বাঁচান
  • পরিবর্তিত হও : ছকের বাইরে ভাবো
  • শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • কতটা ভালোবাসি দেশ?
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব
  • শুধু একবার বলুন : আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  • শরৎকাল
  • বাংলাদেশের সঠিক জনসংখ্যা কত?
  • বিশ্ব-বরেণ্যদের উপাখ্যান আতাউর রহমান
  • মিয়ানমারের একগুঁয়েমি ও মিথ্যাচার
  • টেলিকমিউনিকেশন দৌড়ে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়লো
  • সড়কপথে শৃঙ্খলা কত দূর?
  • বৃক্ষসখা দ্বিজেন শর্মা
  • নারীদের জন্য নিরাপদ হোক গণপরিবহন
  • Developed by: Sparkle IT