সম্পাদকীয় যে লোক তার রিজিক প্রশস্ত করতে এবং আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। -আল হাদিস।

ওষুধের অপব্যবহার

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৯-২০১৮ ইং ০০:১৬:৫৫ | সংবাদটি ২৮ বার পঠিত

অকার্যকর এন্টিবায়োটিক। বেশ কিছু রোগের চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে এন্টিবায়োটিক। সম্প্রতি বেসরকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের দেয়া যৌথ প্রতিবেদনে এই ধরণের তথ্য দেয়া হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি এন্টিবায়োটিক ভুলভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে রোগীদের।
এতে রোগ নিরাময়ে সময় বেশী লাগছে, ব্যয়ও বাড়ছে রোগীর। জানাগেছে, তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ, কানের রোগ, টাইফয়েড, ত্বকের সংক্রমণ, ডায়রিয়াজনিত রোগ, গনোরিয়া ও সিফিলিসের মতো রোগের চিকিৎসায় বেশ কিছু এন্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এব্যাপারে এখনই সতর্ক হতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। খবরটি প্রকাশিত হয় একটি জাতীয় দৈনিকে।
রোগ নিরাময়ের জন্য মানুষ ওষুধ খাবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই ওষুধ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ও অতি মাত্রায় ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে বাধ্য। অথচ আমাদের দেশে ওষুধের অপব্যবহার হচ্ছে হর-হামেশা। সত্যি বলতে কি, এখানে অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা অনেকেই নিজে নিজেই সেরে ফেলে। আবার অনেকে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খেয়ে রাতারাতি সেরে উঠতে চায়। আর এজন্য হাতুড়ে ডাক্তার বা ওষুধ বিক্রেতারা হাইপাওয়ার ওষুধ-এন্টিবায়োটিক খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয় রোগীদের। এতে রোগীদের জীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলে হাতুড়ে ও অনভিজ্ঞ ডাক্তারদের কারণে ওষুধের যুক্তিহীন ব্যবহার বেড়েছে। এই ডাক্তাররা বুঝে না বুঝে বেশ কয়েকটি ওষুধের প্রেসক্রাইব করে রোগীদের। রোগ নির্ণয় না করেই এসব ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেয় তারা। তালিকায় অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের এন্টিবায়োটিকও। সর্বোপরি, অতিমাত্রায় ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি হচ্ছে অতিমাত্রায় এন্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য ওষুধ সেবনের একটি অন্যতম কারণ।
বেশ কয়েকটি রোগের চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে এন্টিবায়োটিক। এটা আমাদের জন্য মোটেই সুখকর নয়। এন্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রথমে সজাগ হতে হবে সরকারকেই। যাতে সঠিক রোগ নির্ণয় করে সঠিক ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে চিকিৎসকদের। সেই সঙ্গে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সীমাবদ্ধ ওষুধের ওপর সর্বোচ্চ জ্ঞান থাকা জরুরী। ওষুধের ফলপ্রসূ ও যুক্তিসঙ্গত প্রয়োগের জন্য কোম্পানী প্রদত্ত নামের পরিবর্তে ওষুধের জেনেটিক নাম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ওষুধের অপব্যবহার রোধে চিকিৎসক সহ, রোগী, সরকারসহ সকলইে সতর্ক হতে হবে। সচেতন হতে হবে ওষুধ বিক্রেতাদেরও।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT