ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৯-২০১৮ ইং ০১:০১:২৯ | সংবাদটি ১১ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : বাক্বারাহ
‘রাইব’ শব্দের অর্থ সন্দেহ, সংশয়। কিন্তু ইমাম রাগিব ইসফাহানীর মতে ‘রাইব’ এমন সন্দেহ ও ধারণাকে বলা হয়, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, সামান্য একটু চিন্তা করলেই যে সন্দেহ দূরীভূত হয়ে যায়। এজন্য কুরআনে অমুসলিম জ্ঞানী সমাজের পক্ষেও ‘রাইব’ এ পতিত হওয়া স্বাভাবিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুরআন একটি গতিশীল ও কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী মু’জেযা :
অন্যান্য সমস্ত নবী ও রসুলগণের মু’জেযাসমূহ তাঁদের জীবন পর্যন্তই মু’জেযা ছিলো। কিন্তু কুরআনের মু’জেযা হুযুর (সা.) এর তিরোধানের পরও পূর্বের মতোই মু’জেযা সুলভ বৈশিষ্ট্যসহ-ই বিদ্যমান রয়েছে। আজ পর্যন্ত একজন সাধারণ মুসলমানও দুনিয়ার যে কোনো জ্ঞানী-গুণীকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারে যে, কুরআনের সমতুল্য কোনো আয়াত ইতোপূর্বেও কেউ তৈরি করতে পারেনি, এখনও কেউ পারবে না, আর যদি সাহস থাকে তবে তৈরি করে দেখাও।
সুতরাং কুরআনের রচনাশৈলী, যার নমুনা আর কোনোকালেই কোনো জাতি পেশ করতে পারেনি, সেটাও একটি গতিশীল দীর্ঘস্থায়ী মু’জেযা। হুযুরের যুগে যেমন এর নযীর পেশ করা যায়নি, অনুরূপভাবে আজও তা কেউ পেশ করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও সম্ভব হবে না।
অনন্য কুরআন : উপরোক্ত সাধারণ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়ার প্রয়োজন যে, কিসের ভিত্তিতে কুরআনকে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের সর্বাপেক্ষা বড় মু’জেযা বলা হয়? আর কি কারণে কুরআন শরীফ সর্বযুগে অনন্য ও অপরাজেয় এবং সারা বিশ্ববাসী কেন এর নযীর পেশ করতে অপারগ?
দ্বিতীয়ত : মুসলমানদের এ দাবি যে, চৌদ্দশত বৎসরের এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কুরআনের এ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কেউ কুরআনের বা এর একটি সুরার অনুরূপ কোনো রচনাও পেশ করতে পারিনি, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ দাবির যথার্থতা কতোটুকু এ দু’টি বিষয়ই দীর্ঘ আলোচনা সাপেক্ষ।
ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব, যার প্রতি আল্লাহর পবিত্রতম কিতাব কুরআন নাযিল করা হয়। প্রসঙ্গতঃ সে মহামানবের অবস্থা সম্পর্কেও কিছুটা আলোচনা করা যাক।
ভুমিষ্ঠ হওয়ার আগেই তিনি পিতৃহারা হন, জন্মগ্রহণ করেন অসহায় এতিম হয়ে। মাত্র সাত বছর বয়সেই মাতৃবিয়োগ ঘটে। মাতার ¯েœহ-মমতার কোলে লালিত-পালিত হওয়ার সুযোগও তিনি পাননি। পিতৃ-পিতামহগণ ছিলেন এমন দরাজদিল যার ফলে পারিবারিক সূত্র থেকে উত্তরাধিকারূপে সামান্য সম্পদও তাঁর ভাগ্যে জুটেনি যার দ্বারা এ অসহায় এতিমের যোগ্য লালন-পালন হতে পারতো। পিতৃ-মাতৃহীন অবস্থায় নিতান্ত কঠোর দারিদ্র্যের মাঝে লালিত-পালিত হন। যদি তখনকার মক্কায় লেখাপড়ার চর্চা থাকতো তবুও এ কঠোর দারিদ্র্যপূর্ণ জীবনে লেখাপড়া করার কোনো সুযোগ গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে কোনো অবস্থাতেই সম্ভবপর হতো না। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তদানিন্তন আরবে লেখাপড়ার কোনো চর্চাই ছিলো না, যে জন্য আরব জাতিকে উষ্মী জাতি তথা নিরক্ষর জাতি বলা হতো। কুরআন পাকেও এ জাতিকে উষ্মী জাতি নামেই উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই সে মহান ব্যক্তি বাল্যকালাবধি যে কোনো ধরণের লেখাপড়া থেকে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন রয়ে যান। সে দেশে তখন এমন কোনো জ্ঞানী ব্যক্তিরও অস্তিত্ব ছিলো না, যাঁর সাহচর্যে থেকে এমন কোনো জ্ঞান-সূত্রের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হতো, যে জ্ঞান কুরআন পাকে পরিবেশন করা হয়েছে। যেহেতু একটা অনন্য সাধারণ মু’জেযা প্রদর্শনই ছিলো আল্লাহ, তা’আলার উদ্দেশ্য, তাই মামুলী একটু অক্ষর জ্ঞান যা দুনিয়ার যে কোনো এলাকার লোকই কোন না কোন উপায়ে আয়ত্ত করতে পারে, তাও আয়ত্ত করার কোনো সুযোগ তাঁর জীবনে হয়ে উঠেনি। অদৃশ্য শক্তির বিশেষ ব্যবস্থাতেই তিনি এমন নিরক্ষর উষ্মী রয়ে গেলেন যে, নিজের নামটুকু পর্যন্ত দস্তখত করতে তিনি শিখেননি।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT