প্রথম পাতা সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বৃৃটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার কানবার হোসেন বোর

বৃটেনের ভিসা সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৯-২০১৮ ইং ০৩:১৪:৫৬ | সংবাদটি ১৫০ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার কানবার হোসেন বোর বলেছেন, বৃটেনের সাথে সিলেটের ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক দিনে দিনে আরো গভীর হচ্ছে। বৃটিশ সরকার এবং ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনের সব সময় সিলেট অঞ্চলকে স্বতন্ত্র গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। বৃটেন-ই স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম পশ্চিমা দেশ। বৃটেনে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে এ জনমত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল সেখানে অবস্থানরত সিলেটীদের কারণে। এখনো বৃটেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। বৃটেন ও বাংলাদেশের এই বহুমাত্রিক ও ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক আগামীতে আরো গভীর হবে। বর্তমানে বৃটেনে যে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন প্রবাসী বসবাস করছেন, তারা সে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অনন্য অবদান রাখছেন। বৃটিশ বাংলাদেশীদের গড়ে তোলা কারি ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে যাবার পর বৃটেনের ভিসা সিস্টেমকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি করা হলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বৃটেনের অর্থনীতিতে এবং বৃটেনের কারি ইন্ডাস্ট্রির চলমান সংকটগুলোও নিরসন হবে।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। গত এপ্রিল মাসে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম বারের মত দাফতরিক সফরে সিলেট আসেন তরুণ কুটনীতিক কানবার। মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনের হেড অব পলিটিক্যাল সেকশন আবু জাকি, প্রেস এ- মিডিয়া অফিসার নারায়ণ দেবনাথ, ইউকে এইড-এর গভর্নেন্স এডভাইজার তানভীর মাহমুদ, সিলেট কনস্যুলেটের ইন-চার্জ রাহিন এম চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর বার্তা সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর, সাংবাদিক ও আইনজীবী তাজ উদ্দিন প্রমুখ।
কানবার হোসেন বোর যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বৃটিশ বাংলাদেশীদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, বৃটেনের শিক্ষা, চাকুরী, শিল্প, রাজনীতি, কুটনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে বৃটিশ বাংলাদেশী বিশেষতঃ সিলেটী বংশোদ্ভুত বৃটিশ নাগরিকরা অভাবনীয় কৃতিত্ব প্রদর্শন করে চলেছেন। ইতোমধ্যে বৃটেনের পার্লামেন্টে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত একাধিক কৃতি ব্যক্তিত্ব জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। বৃটেনের বিচার বিভাগ, চিকিৎসা সেবাখাতসহ প্রায় সবগুলো ক্ষেত্রেই সিলেটী বংশোদ্ভুতদের কৃতিত্বপূর্ণ পদচারণা রয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমানে বৃটেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগকারী দেশ। এ কারণে, বৃটেন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবলমাত্র ঐতিহাসিক নয়- বহুমাত্রিক।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বৃটিশ এই কুটনীতিক বলেন, উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতি খুবই আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশের এই অগ্রগতিতে বৃটেন সব সময় সহযোগিতা প্রদান করছে।
ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনের ভিসা সেকশনের কার্যক্রম দিল্লীতে স্থানান্তরের কারণে ভিসা ইস্যু কার্যক্রমে বড় ধরনের কোন জটিলতা হয়নি বলে মন্তব্য করে বৃটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার জানান, বৃটিশ ভিসার আবেদনের একটি অংশ লন্ডন ও শেফিল্ড থেকে সম্পাদন করা হয়। এছাড়া, টিয়ার-৪ ক্যাটাগরিতে উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে ২০১৬ সালের হিসেবে ৯১ শতাংশ আবেদনকারী ভিসা লাভে সক্ষম হয়েছেন। যা এর আগের বছরের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশী। সুতরাং, দিল্লীতে ভিসা কার্যক্রম স্থানান্তরের কারণে বড় ধরনের কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বরং, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশীরাই ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ‘প্রায়োরিটি’ সুবিধা পাচ্ছেন। আর যেক্ষেত্রে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, সেগুলোর বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ঘটছে শুধুমাত্র আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করার কারণে।
বর্তমানে বৃটেনের বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টগুলোর জনবল সংকটের কারণে সেখানকার কারি ইন্ডাস্ট্রি চরম সংকটের মুখে রয়েছে- এ ধরনের খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কানবার হোসেন বোর বলেন, বৃটেনের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট বৃটিশদের খাদ্যাভ্যাসকে পাল্টে দিয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বর্তমানে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া বা বেক্রিটের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্য তার ‘ইমিগ্রেশন পলিসি’কে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ পলিসিতে বৃটিশ বাংলাদেশী কারি ইন্ডাস্ট্রির জনবল সংকট নিরসনের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন এই ইমিগ্রেশন পলিসি গ্রহণ করা হলে তা কারি ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে বলে সবাই আশাবাদী।
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে হবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এদেশে যাতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশীদের-ই। বৃটেন সব সময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সহযাত্রী হিসেবে থাকতে চায়।
কানবার হোসেন বোর বলেন, এক সময় বৃটিশ বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে জোরপূর্বক বিয়ে বা বর-কনের অমতে বিয়ে প্রবণতা ছিল, যা সিলেট সফরকালে ঘটতো। ইদানিং এ সমস্যা অনেকখানি কমেছে। তবু, দক্ষিণ এশীয় বৃটিশ নাগরিকদের মধ্যে পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এ প্রবণতার হার বেশী। গত কয়েক মাসেও সিলেটে এ ধরনের চার-পাঁচটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। জোরপূর্বক বিয়ে বন্ধে সমাজের সকল পর্যায়ে জনসচেতনতা জরুরী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • সর্বোচ্চ পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ বানালো রাশিয়া, আনছে যুক্তরাষ্ট্র
  • এরশাদের অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জিএম কাদেরের
  • কাউন্সিল ডেকে বিএনপি’র নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব
  • মুহিতের অন্য রকম সিলেট সফর
  • জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মসূচি আজ
  • দেওবন্দ মাদ্রাসায় তাবলিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ
  • ভারতে ধরপাকড়, বাংলাদেশে আসছে আরও রোহিঙ্গা
  • স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে সারাদেশে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
  • আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ আজ
  • ঐক্যফ্রন্ট না টেকারই কথা: কাদের
  • ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি নয়, আ’লীগের পরাজয় হয়েছে: ফখরুল
  • প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে ............... পরিবেশ ও বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন
  • রোমাঞ্চ ছড়িয়েও জিততে পারেনি খুলনা
  • ‘সাকিবময়’ ম্যাচে উড়ে গেল সিলেট
  • সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন
  • জনবান্ধব আমলা থেকে সফল রাজনীতিবিদ এম এ মান্নান
  • আ. লীগের ‘বিজয় উৎসব’ কাল
  • ৩ আসামী ৫ দিনের রিমান্ডে
  • বিশ্বনাথে পানি সংরক্ষণে নিজ জমিতে চাষিদের পুকুর খনন!
  • হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমলো ১০ হাজার ১৯১ টাকা
  • Developed by: Sparkle IT