পাঁচ মিশালী

জীবনযুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধার নির্মম পরাজয়

নজরুল ইসলাম বাসন প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৯-২০১৮ ইং ০০:৩০:০০ | সংবাদটি ১২৫ বার পঠিত

১৯৭২ সাল। সবেমাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে, সিলেট শহরের শেখঘাট এলাকায় এক অবাঙালির পরিত্যক্ত বাসাতে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সিলেট জেলা শাখার অফিস করা হল। এটি হল মুজিব বাহিনীর সিলেট জেলার আঞ্চলিক প্রধান ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান সিলেট জেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আখতার আহমদের অফিস। বৃহত্তর সিলেট জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠল এই অফিস। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আখতার আহমদও এই বাসার এক রুমে থাকতেন আর অফিসের দায়িত্বে ছিলেন ছাতকের বাসিন্দা আব্দুর রশীদ। তিনিও মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রলীগ নেতা পরে জাসদের সিলেট জেলা শাখার কোষাধ্যক্ষ। সম্প্রতি আমেরিকায় তিনি মারা গেছেন। আর আখতার আহমদও ১৯৮৫ সালে লন্ডনের রয়েল ফ্রি হাসপাতালে মারা যান, মৃত্যুর আগে তার আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। শুভাকাংখীদের প্রচেষ্টায় তাকে লন্ডনে পাঠানো হলেও অল্প কয়েকদিন তিনি বেঁচে ছিলেন। লন্ডন থেকে তার মৃতদেহ সিলেট যায়।
বিধবা স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান রেখে আখতার আহমদ কপর্দকহীন অবস্থায় পরপারে পাড়ি জমান, সম্প্রতিকালে জেনেছি এই মুক্তিযোদ্ধা নেতার নাকি সনদপত্র নেই। আখতার আহমদের মত রাজনৈতিক নেতারা বৈষয়িক ছিলেন না। তাই বেঁচে থাকতে সার্টিফিকেটের প্রয়োজন অনুভব করেননি। তারাতো সনদপত্রের জন্যে বা খেতাবের জন্যে যুদ্ধ করেননি। তাদের রাজনীতি ছিল জনগণের অধিকার আদায়ের রাজনীতি। আজ যেখানে সরকারি দলে যাওয়া এবং সরকারি দলের সুবিধাভোগের মহাসমারোহ, সেখানে মরহুম আখতার আহমদেরাই বাংলাদেশে প্রথম সরকার বিরোধী রাজনীতির সূচনা করেন। বাংলাদেশের অস্থির সময়ে তাদের দলের উত্থানের রাজনীতি ভুল না শুদ্ধ আগামী দিনের ইতিহাসে তা লিপিবদ্ধ হবে কিন্তু সেদিন তারা যে যে স্বপ্নের বাস্তবায়নে ত্যাগ তিতীক্ষা দেখিয়েছিলেন তা কিন্তু ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেছে।
নিকট দিনের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পরপরই ১৯৭২ সালেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেলে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র ও মুজিববাদী ছাত্রলীগ এই আদর্শ নিয়ে অন্যান্য জেলার মত সিলেটেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভাগ হয়ে যায়। ছাত্রলীগের লালা-তোফা ও বাবরুল হোসেন বাবুল মুজিববাদের ঝান্ডা তুলে ধরলেন আর জেলা সভাপতি সদর-লামা গ্রুপ আখতার আহমদের নেতৃত্বে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র গ্রুপের হাল ধরলেন আর এই গ্রুপে তরুণ নেতা হিসাবে আবির্ভুত হলেন মুক্তিযোদ্ধা ম আ মুকতাদির। ম আ মুকতাদির ৪নং সেক্টরে সি আর দত্তের অধীনে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে শহরের আশেপাশে যুদ্ধ করেছেন এবং শহরে প্রবেশ করেছেন বিজয়ীবেশে। ম আ মুকতাদির ছাত্র জীবনের শুরুতেই সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং আমৃত্যু সমাজতন্ত্রের প্রতি তার বিশ্বাস অবিচল রেখে গেছেন। সমাজতন্ত্রের রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি কোন সময় আপোস করেননি। বিএনপি বা জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগেও তিনি যেতে পারতেন যেমন ইনু বা বাদল সাহেবরা জোট করে গিয়ে মন্ত্রী বা এমপি হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা ম আ মুকতাদির সে পথে পা বাড়াননি। সুযোগ সুবিধার রাজনীতি যদি করতেন তাহলে লন্ডন নিউইয়র্ক ঘুরতে পারতেন হর হামেশা। তাকে লন্ডনে পাড়ি জমিয়ে কষ্টকর জীবন বেছে নিতে হতনা। সমাজতন্ত্রের রাজনীতি করতে গিয়ে আমৃত্যু বাসদের রাজনীতি এবং লন্ডনে লেবার পার্টি করে গেছেন।
আমরা যখন স্কুলে পড়ি তখন এতটুকু আশা নামে একটি বাংলার ছবির জনপ্রিয় গান ছিল-তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়? মুকতাদির ভাইয়ের উপর অনুজ শাহাব উদ্দিন যখন লেখা চাইলেন তখন এই গানটির কথাই মনে পড়ছিল। কারণ আমিতো দেখেছি কত যে স্বপ্ন মুকলেই ঝরে যায়। মুকতাদির ভাই মুকুল ফোটার এক দশক আগে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন, এই প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে প্রথম দেখি শ্মশ্রু মন্ডিত এংগ্রি ইয়ং ম্যান হিসাবে। পকেটে রিভলবার, হাতে উইলিস জীপের স্টিয়ারিং। রিলিফ নিয়ে ছুটছেন শহরের যতরপুর, টিলাগড় এখানে ওখানে। আওয়ামী লীগের জেবুন্নেছা ভাবী পরে সাংসদ হয়েছিলেন, বীনা দিদি, জুলিয়া আপা, নীলু আপা এই তিনজনই লন্ডন চলে আসেন, একমাত্র নীলুফার কয়সর বেঁচে আছেন বাকী দু’জন মারা গেছেন। এই আপারা ছাড়া জীপে উঠতাম আমরা দুই একজন পাড়ার কিশোর। শহরের যেসব এলাকায় পাক আর্মি ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে ঐসব এলাকায় রিলিফের পাউডার দুধ, আটা, কম্বল ইত্যাদি দেয়া হত, সিলেট শহরের যতরপুর, ইন্দ্রানী পার, লালাদিঘীর পার, টিলাগড় এলাকায় বড়দের সাথে রিলিফ নিয়ে গেছি। এত বছর পর সব মনে করতে পারছি না, তবে মুকতাদির ভাই সে সময় যে অপরিসীম পরিশ্রম করতে পারতেন তখন তা দেখেছি।
আমরা তখনও স্কুলের গন্ডি পেরুইনি সেই ১৯৭২ সালে ঢাকার পল্টন ময়দানে ও রেসকোর্সে ছাত্রলীগের পরস্পর বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারি ও বিরোধী ধারার রাজনীতি শুরু হল। সিলেট শহরে অন্যান্যের সাথে সরকার বিরোধী ছাত্র রাজনীতির সক্রিয় নেতৃত্ব নিলেন ম আ মুকতাদির। ১৯৭২ সালে ৩১শে অক্টোবর গঠিত হল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের যুবক ও তরুণদের দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। পলিটিক্যাল র‌্যাডিক্যাল এবং মিলিট্যান্ট ফোর্স ঝাকে ঝাকে নতুন দলে যোগ দিতে লাগল। ১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ নির্বাচন দিয়ে দিলেন। এই নির্বাচনে টাঙ্গাইল থেকে আব্দুস সাত্তার এমপি নির্বাচিত হলেন এবং পরে রাজশাহী থেকে মইনুদ্দিন মানিকও নির্বাচিত হলেন। প্রায় প্রতিটি আসনে জাসদের প্রার্থীরা মশাল নিয়ে এগিয়ে ছিলেন কিন্তু জাসদের সভাপতি মেজর জলিলের মত মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থীও সেদিন পরাজিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৪ সাল বাংলাদেশের রাজনীতির এক অস্থির সময়। এই সময় সিলেটে ম আ মুকতাদির বাড়ি বাড়ি হেটে কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। ১৯৭৪ সালের ১৭ই মার্চ ঢাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করার পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নব গঠিত জাসদের প্রকাশ্য রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়ে। জেলা পর্যায়ের নেতারাও আটক হয়ে গেলেন। এই সময়ে অন্যান্যের সাথে সিলেটে জাসদ ও ছাত্রলীগের হাল ধরলেন ম আ মুকতাদির। খুব একটা কঠিন সময় তখন। নেতৃত্ব শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এ সময় তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে নতুন নতুন তরুণ কর্মীর সৃষ্টি করেছিলেন। যারা পরবর্তীকালে ছাত্রলীগ, জাসদ এবং বাসদের জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর ১৯৭৯ পর্যন্ত জাসদ ও ছাত্রলীগের উপর স্টীম রোলার চললেও সিলেটে ছাত্রলীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসাবে জাসদের রাজনীতিকে তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। ডাকসুতে মান্না আখতারের বিরাট বিজয় জাসদ ছাত্রলীগকে আরো উজ্জীবিত করে তোলে। ডাকসুর ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না এক সময় জাসদ ছেড়ে বাসদ গঠন করলে সিলেট থেকে ম আ মুকতাদির বিরাট এক কর্মী বাহিনী নিয়ে বাসদে চলে গেলেন।
১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলেন। এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ম আ মুকতাদিরকে জেলে যেতে হয়, জীবন সংগ্রামে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ম আ মুকতাদির। কোন আশার আলো দেখছিলেন না, এ সময়ে তিনি বিয়ে করলেন, সংসার শুরুর আগেই এরশাদের পুলিশ তাকে নিয়ে গেল জেলে। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে চলে আসেন লন্ডন, তার নতুন সংসারে আসে পুত্র রাহাত। লন্ডনে এক বন্ধুর পথে তার যাত্রা হল শুরু, মুক্তাদির ভাইকে তখন আমি কাছ থেকে দেখেছি, ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ কষ্টকে দুহাতে সরিয়ে কমিউনিটি ওয়ার্ক করতে। রাহাতকে লালন পালন করা ছিল তার মা ও বাবার দায়িত্ব। একটি সেন্টারে বয়স্কদের দেখাশোনার কাজ করতেন তিনি, তার এই কাজ শুধু অর্থের জন্যে ছিল এটা তিনি মনে করতেন না। পরম মমতায় তিনি কেয়ারার এর দায়িত্ব পালন করতেন বয়স্ক লোকদের সেবা শুশ্রুষা ও পরিচর্যার কাজ করতেন পরম মমতা দিয়ে। ডে সেন্টারগুলোতে তার কাজ দেখে অভিভুত হয়ে যেতে হত, তার হাতের সুস্বাধু রান্না আমরা অনেকবার খেয়েছি। জোর করে খাইয়ে দিতেন।
ফুটবল অন্তপ্রাণ মুকতাদির ভাই লন্ডনে আর্সেনাল ফুটবল টিমের কড়া সমর্থক ছিলেন। রবিবারে তিনি মারা যান, শনিবারেও হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুইয়েই আর্সেনালের খেলার ধারাবর্ণনা শুনছিলেন। টাওয়ার হ্যামলেটসের লেবার পার্টির রাজনীতি করতেন, নিজে কাউন্সিলর না হয়েও অনেককে কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছেন। বাসদ যুক্তরাজ্য শাখার তৎপরতা সক্রিয় রাখতেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাজ্যে বাসদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত।
১৯৯৭ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর লন্ডনের বাংলা টাউন নামকরণের আগের কয়েকদিন মুকতাদির ভাই ভীষণ পরিশ্রম করেছিলেন। তার বুকে ব্যথা নিয়েও বাংলা টাউনের উদ্বোধনের দিন উদয়াস্ত কাজ করেছেন। তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ব্রিকলেন এসে এই এলাকার নতুন নামকরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিলেন। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কর্মসূচি ছিল বাংলা টাউনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কিন্তু মুকতাদির ভাই মেয়েদের লাল সবুজ শাড়ি পরিয়ে, স্কুলের বাচ্চাদের বাংলাদেশের পতাকা হাতে দিয়ে নিয়ে এলেন। বিরাট রঙিন অনুষ্ঠান করে দিলেন। এটাই ছিলো মুক্তিযোদ্ধা মুকতাদিরের জীবনের শেষ অনুষ্ঠান। ১৪ই সেপ্টেম্বর দু’দিন পরেই রয়েল লন্ডন হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তার লাশ বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হল, কদমতলির পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হল। ম আ মুকতাদির আমাদের প্রজন্মের চে গুয়েভারা এ কথা আমার আগেই ইব্রাহীম চৌধুরী লিখেছেন, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাব উদ্দিন একটি ট্রাস্ট করেছেন। এই ট্রাস্ট এক দশক পরে আবার তার সতীর্থদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ম আ মুকতাদিরের কথা। সিলেটে একটি কমিটি হয়েছে, তারা প্রতি বছর ম আ মুকতাদির মৃত্যু দিবসে আই ক্যাম্প ইত্যাদি করে থাকেন। ম আ মুকতাদিরের শুভাকাঙ্খীরা এই ট্রাস্ট বা স্মৃতি সংসদ থেকে আরো ভাল সমাজসেবামূলক কাজ করার আশা রাখেন।
(লেখকের কৈফিয়ত : এই লেখাটি মুক্তিযোদ্ধা ম আ মুকতাদিরকে নিয়ে লেখা, তাই অন্যান্য সম সাময়িক নেতাদের নাম আসতে পারত কিন্তু লেখক এই ব্যাপারে সতর্ক থেকেছেন যাতে মূল বক্তব্যটি অস্ফুট না থেকে যায়। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত সিলেটের রাজনীতি খুব কাছে থেকে দেখেছি। ছাত্র রাজনীতির একজন কর্মী হিসাবে মাঠে কাজ করতে গিয়ে গণ সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের নেতাদের ত্যাগ তিতীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা নেতাদের ডাকতাম ভাই বলে, ১৯৭৮ সালের দিকে জাগদলের এজেন্সী নিয়ে এলেন ডিআইজি আব্দুল হক। তার হাত ধরেই সিলেটে আমরা আর টেকনোক্রটদের রাজনৈতিক আধিপত্য শুরু হয়। এরপর আসেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাইফুর রহমান, আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বড় ভাইদের বদলে স্যার আর লীডারদের আবির্ভাব হল। দেওয়ান ফরিদ গাজী, খন্দকার আব্দুল মালিক, আব্দুল হামিদ, আখতার আহমদের মত নেতাদের আর নেতৃত্বে থাকা হল না। আর এভাবেই সিলেটের বহু সম্ভাবনাময় নেতাদের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। সিলেটের শেকড় থেকে উঠে আসা নেতারা হারিয়ে গেলেন।
প্রসঙ্গত একটা কথা বলে নেই, দেশ স্বাধীন হবার পর মুকতাদির ভাইয়ের মত নেতারা যদি লুটপাট করতেন তাহলে তাদের মত নেতাদের লন্ডন-আমেরিকায় পালিয়ে আসতে হত না। তারা সিলেটেই লন্ডন-আমেরিকার মত জীবন-যাপন করতে পারতেন। আর যারা এখনও সংগ্রাম করে সিলেটের রাজনীতিতে আছেন তারা বড়জোর কাউন্সিলর বা মেয়র পদে দাঁড়াতে পারেন, তাও কেন্দ্র থেকে নমিনেশন নিয়ে আসতে হয়। এমপি পদেতো দাঁড়াতেই পারবেন না। গ্রাসরুট থেকে তাই নেতা সৃষ্টি হচ্ছে না, ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন হচ্ছে না তাই ছাত্র নেতাদের জায়গা দখল করছে আদু ভাইরা। ম আ মুকতাদির ভাইয়ের চলে যাবার দুই দশক চলে গেছে তার স্মরণে লেখাটি শেষ করতে চাই এ কথা বলে মুকতাদির ভাইয়ের জীবনটা একটা গল্পের মত-ঘর করলাম না রে, আমি সংসার করলাম না এর মত তার জীবনটা ছিল। তার ছেলে রাহাত আমার মেয়ের বয়সী, কয়েক মাস আগে রাহাত মারা গেলো এক মর্মান্তিক রোড এক্সিডেন্টে। বাবাকে হারিয়ে যখন মাকে ফিরে পেয়েছিল বহু বছর পর, রাহাতের নিজের বিয়ের তারিখও টিক হয়েছিল। কিন্তু তাকে বাবার কাছেই ফিরে যেতে হয়েছে। এক সংসার ভেঙে গেলেও আরেকটি সংসার পেতেছিলেন সেই সংসারে বাবা বিহীন একটি কন্যাও বেড়ে উঠছে দিনে দিনে। এই বৃটিশ বাঙালি কন্যাটি বড় হয়ে একদিন জানতে পারবে তার বাবা একটি দেশের জন্ম দিয়ে গিয়ে ছিলেন নাম তার বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT