উপ সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব

ব্রজেন্দ্র কুমার দাস প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০১৮ ইং ০০:১৯:৪১ | সংবাদটি ৪৭ বার পঠিত

দেখে শুনে মনে হয় দেশে বুঝি পুরোদমে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বড়ো দুই দলের সেক্রেটারী মহোদয়গণ যে যার মতো নির্বাচনী বক্তব্য দিয়ে চলছেন। জনগণ শুনছেন। সিদ্ধান্ত নেবেন যথা সময়ে। ছোট ছোট দলগুলো শক্তি সামর্থ্যরে কথা জনগণের মোটেই অজানা নয়। দলগুলোর সম্মানিত নেতৃবৃন্দও তাদের ক্ষমতা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল। তবে কথার ফুলঝুরিতে ওনারা কারো চেয়ে পিছিয়ে নন। ভিনদেশের কেউ এসে দেখলে মনে করবেন এই বুঝি তারা ক্ষমতায় আরোহন করছেন। দেশের দুই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন এবং ডা. বি. চৌধুরীকে ক’দিন যাবৎ খুবই সোচ্চার দেখা যাচ্ছে। ২.৯.২০১৮ তারিখের অনেক পত্রিকায় শিরোনাম দেখলাম-‘এটাই আ’লীগের শেষ বছর : বি. চৌধুরী। নির্বাচনী মাঠে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। সব কথাকে মানুষ আমলে নেয় না। কিন্তু কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বক্তব্যকে হালকাভাবে বিবেচনা করা যায় না। জনাব বি. চৌধুরী অবশ্যই তেমনি একজন বিজ্ঞ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি এক সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। তিনি কি করলে জানলেন বা বুঝলেন ‘এটাই আ’লীগের শেষ বছর?’ রাজনীতির মাঠে কখন কার কি অবস্থা হয়, কার কখন শুরু বা শেষ কে বলতে পারে! তিনি যখন রাষ্ট্রপতির আসলে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন তখন কি জানতেন তিনি তাঁর বছরটি শেষ না শুরুর বছর। তাঁর মতো একজন মান্যবর শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি কিভাবে হেনস্থা হয়েছিলেন দেশবাসী তো তা আজো ভুলতে পারেননি। আর উনার নিজের তো স্মরণে থাকারই কথা। বি. চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আয়ুব খান ছিল বড় স্বৈরাচার। ১০ বছরের বেশি টেকেনি। এখন যে স্বৈরাচারী সরকার আছে তাদের মেয়াদও ১০ বছর।’ তিনি আরো বলেন, ‘এক স্বৈরাচারীর পরিবর্তে অন্য স্বৈরাচারীকে আমরা ক্ষমতায় আসতে দেব না।’
এখন প্রশ্ন হলো, বি. চৌধুরীর মতো একজন বিজ্ঞ সাবেক রাষ্ট্রপতির কাছে স্বৈরাচারী আয়ুব খানের সাথে কি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার তুলনা করা কি যুক্তিযুক্ত হয়েছে? আর এক স্বৈরাচারীর’ পরিবর্তে অন্য ‘স্বৈরাচারী’ বলতে তিনি কাকে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন তা স্পষ্ট নয়। এটা সত্যি যে, যে সরকারই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসুন না কেন, তাকে স্বৈরাচারী আয়ুব খানের সাথে তুলনা করা গণতন্ত্রের জন্য শুভ চিন্তা বলে ধরে নেয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এটা মনে রাখতেই হবে যে, মুক্তিযুদ্ধের ফসল এই বাংলাদেশ, পাকিস্তান নয়! এই বাংলাদেশে আ’লীগ, বি.এন.পি, জাতীয় পার্টি বা অন্য যে দলই ক্ষমতায় আসুক, কাউকেই আয়ুব-ইয়াহিয়ার মতো মনে করার কোন কারণ নেই। বিকল্পধারা, গণফোরাম বা অন্য কোন দল যদি কোন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেই যায় এবং ভাগ্যক্রমে বা ঘটনা চক্রে ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে যায় তখন অন্যান্য দল যদি তাদেরকে আয়ুব খানের মতো স্বৈরাচারী কেউ বলেন তখন সেটা কি তাদের জন্য সুখকর হবে?
যাক গে সে কথা। নির্বাচন তো প্রায় এলো বলে। দেশের প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো ক্ষমতায় এসে সমাধান করবে, দেশে শান্তি বিরাজ করবে, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সাদামাটাভাবে দেশবাসীর তো তেমনটিই প্রত্যাশা। এ মুহূর্তে দেশে সমস্যার অন্ত নাই। যে সমস্যাটা নিয়ে বর্তমান সরকার হিমসিম খাচ্ছে সেটা বোধহয় রোহিঙ্গা সমস্যা। এবং এর সমাধান। এই রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্ট নয়। সেই ১৯৭৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে থাকে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তথা সরকারের কারণেই এ সমস্যা। ১৯৭৮ সালে বিএনপি’র সরকার থাকলেও বিএনপি এ সমস্যা সৃষ্টি করেনি। সব দায় মিয়ানমারের। কিন্তু সমস্যাটা তো বাংলাদেশের। এই সমস্যা সমাধানে এক কালের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মান্যবর বি চৌধুরীর আদেশ-নির্দেশ-উপদেশ তথা ভূমিকাটা কি তাতো দেশবাসী জানতে চায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৭ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে ৩০ টি শিবির। এদের কারণে ২০ হাজার বর্গ একর এলাকার পাহাড় ও বন উজাড় হয়েছে। নবজাতকের জন্ম ও বাল্যবিয়ের কারণে ক্যাম্পগুলোতে জনসংখ্যা বেড়েই চলছে। কক্সবাজার এলাকার ৭০০ কোটি টাকার জনভূমি উজাড় করছে রোহিঙ্গারা। এই বনভূমির কাঠ ব্যবহার হচ্ছে জ্বালানি হিসেবে। ওরা যতদিন এখানে থাকবে ততদিনতো রান্না করে খেতেই হবে। এই বনভূমিকে বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সরকার আজ হিমসিম খাচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে। বাংলাদেশের প্রশংসা করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ যে যত কথাই বলুন না কেন রোহিঙ্গাদের জন্য বৈদেশিক সহায়তা কিন্তু কমে আসছে। ফলে রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে গিয়ে আমাদের জাতীয় বাজেট থেকে খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় মানুষজন মোটেই ভাল নেই। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় ৪৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী নানা দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হত্যা, ধর্ষণ, মাদক পাচার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। নানা তথ্য মতে এক বছরে রোহিঙ্গা শিবিরে ১৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এদের বিরুদ্ধে ২৩৮টি মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ১২২ জন রোহিঙ্গা। এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় লোক সমাজে। প্রভাব পড়ছে স্থানীয় স্কুল-কলেজ তথা শিক্ষা ক্ষেত্রে। বলতে গেলে কক্সবাজারের সামাজিক অবস্থা অনেকটাই নানা রকম হুমকির মুখে।
কিন্তু অত্যাচার-নির্যাতন করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে তাদের ফিরিয়ে নিতে সত্যিকার অর্থে কোন চিন্তাই করছে না। বিশ্বকে উল্টো ভুল বুঝাতে অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। সে দেশের সেনাবাহিনী নানা ধরণের প্রতারণামূলক ছবি প্রকাশ করছে। সারা বিশ্বে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী একটি বই বের করেছে এবং সেই মিথ্যাচার পূর্ণ বইটিতে একটি ছবিও প্রকাশ করেছে যাতে লিখা হয় নানা মিথ্যা কথা। যেমন-রুয়ান্ডায় ব্যাপক সহিংসতার পর ১৯৯৬ সালে হু’তু শরণার্থীদের তানজানিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করার সময় তোলা ছবিটির নীচে লিখা হয় ‘ব্রিটিশ আমলে বাঙালিরা মিয়ানমারে ঢুকছে।’ বইটিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তার একটি ছবি রয়েছে। এর নীচে লিখা হয় ‘বৌদ্ধদের ওপর নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে বাঙালিরা।’ আর একটি ছবিতে রয়েছে মিয়ানমার থেকে পালাতে থাকা রোহিঙ্গাদের ছবির নীচে লিখা হয়-‘বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা।’ এমনি প্রতারণার আশ্রয় যে দেশের সেনাবাহিনী নিতে পারে সেই দেশের সেনাবাহিনী তথা রাষ্ট্র বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে গ্রহণ করবে সেটা কি বিশ্বাস করা যায়? তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বের হয়ে এসেছে যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই বইটি মিথ্যাচারে ভরা। এতে তাদের মুখোস উন্মোচন হয়েছে। তারা এখন চাপের মুখে পড়ে নাকি দুঃখ প্রকাশ করেছে। এবং জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশ সমূহ তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে। কিন্তু তাতেই বা কি! চাপের বিরুদ্ধে তো অন্য চাপও থাকে। উল্টো চাপ দিচ্ছে চীন। তারা বলেন ‘চাপ প্রয়োগ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়ক নয়। চীন মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র। মিয়ানমারের মতো চীনও মনে করে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান নাকি বিদ্রোহ দমন।
তাহলে সারা বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা বলে এতো চীৎকার করার দরকারটা কি? তারা তাদের দেশে বিদ্রোহ দমন করবে তাতে অন্যের মাথা ঘামাবার দরকারটা কি? আসলে ব্যাপারটি কি তাই! জনসংখ্যার চাপে জর্জরিত ছোট ভূখন্ডের দেশ বাংলাদেশ। গোজের ওপর বিষফোরা ১১ লাখ জনগোষ্ঠীর চাপ সহ্য করছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্ব বলছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। চাপ সৃষ্টি হচ্ছে মিয়ানমারের ওপর। এমনি অবস্থায় ঘটনাটি অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টাকে তো যুক্তিযুক্ত বা মানবিক বলা যেতে পারে না। আর মানবিক বলা যেতে পারে নাই বলেই জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে আশাব্যঞ্জক সাড়া দিয়েছে। এ মুহূর্তে ভারত, চীন, রাশিয়া যদি মিয়ানমারের দিকে সামান্যতম সমর্থনের হাত বাড়ায় তাহলে মিয়ানমার তো সমস্যাটি জিইয়ে রাখতে চাইবেই। তাইতো দেখা যায় বিগত এক বছরেও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এমনি অবস্থাতে বাংলাদেশকে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করা ছাড়া অন্য কোন পথ আছে বলে মনে হয় না। এ অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, কোর্ট বা আইসিসিতে মামলা করা যায় কিনা সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনা জরুরী। অন্যদিকে চীন-ভারত-রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুজাতিক না কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোও জরুরী।
আর এটাও বিবেচনায় আনতে হবে যে, বাংলাদেশের এই রোহিঙ্গা সমস্যাটা শুধু শেখ হাসিনা বা তাঁর সরকারের একার সমস্যা নয়। দলমত নির্বিশেষে সবার। দেশের সব বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞজন, সাবেক সরকার প্রধান, রাষ্ট্র প্রধান এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীগণেরও। ‘এটাই আ’লীগের শেষ বছর’ এর মতো হালকা মন্তব্যতো মিয়ানমারের কানে চাপ সৃষ্টি করবে না। একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালো দাবী জানান তাহলে মিয়ানমার কিছুটা হলেও সতর্ক হবে। আর বাংলাদেশের গর্ব ড. কামাল হোসেনের মতো একজন বিশ্ববিখ্যাত আইনজীবী যদি আন্তর্জাতিক আদালতে তাঁর যথার্থ ভূমিকা রাখেন তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান হাসিনা সরকারও শক্তি পাবে। মিয়ানমার সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বুঝে নেবে যে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান কল্পে বাংলাদেশের সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে তেমনটি লক্ষণীয় হচ্ছে না। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে এমনটিই তো বাঞ্ছনীয় ছিল। কাক্সিক্ষত ছিলো এবং সেটাই হওয়া উচিত।
লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট, সাবেক ব্যাংকার।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • মূর্তিতেই দুর্গা : বিশ্বাসের বিষয় তর্কের নয়
  • শিক্ষার্থীর মনোজগৎ বিকাশে কার কী ভূমিকা
  • দুর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
  • রাশিয়ার কাছে কি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাচ্ছে
  • দারিদ্র বিমোচনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ-সম্প্রীতি সমাবেশ ও কিছু কথা
  • পর্যটন নীতিমালার বাস্তবায়ন কত দূর
  • ওসমানীর দন্তরোগ বিভাগ
  • দুর্গার আগমন শুভ হোক
  • Developed by: Sparkle IT