উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

কতটা ভালোবাসি দেশ?

সাহীদা বেগম শিরীন প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০১৮ ইং ০০:২৬:০৯ | সংবাদটি ৮০ বার পঠিত



বাংলাদেশ। স্বাধীনতার প্রায় ৪৭ বছর পার করছে এদেশ। পরাধীনতার দীর্ঘ ইতিহাস পেরিয়ে আজ আমরা স্বাধীন। গুটি গুটি পায়ে ছোট্ট একটা মানচিত্র, লাল সবুজের পতাকা আর কোটি মানুষের একরাশ ভালোবাসা নিয়ে অনেকটা পথই পেরিয়ে এসেছে আজ।
আমি পেশায় একজন শিক্ষক। তাই শিক্ষকতার আঙিনাগুলো থেকে, আজ কয়েক বছর যাবত একটি ভাবনার ডানা গজাতে গজাতে, এখন কিছুটা উড়ে যাওয়ার ইচ্ছে থেকেই এই লেখাটার শুরু।
ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে কাজ করি আমরা। কাদামাটির মতো নরম শিশুদের মনে, বিচিত্র ভাবনার অবয়ব তৈরি করে দেওয়াই আমাদের কাজ। সেই ভাবনা জগতের রঙিন পৃথিবীর, একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকে দেশ ও দেশমাতৃকা।
আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। সেই না দেখা ইতিহাসটুকুই আমি জানতে পারি, আমার পাঠ্যবই, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে। সেই একই জায়গা থেকে আমরাও আমাদের শিক্ষার্থীদের কোমল মনে গেঁথে দেয়ার চেষ্টা করছি প্রিয় জন্মভূমির সৃষ্টিকথা ও তার পেছনে থাকা আমাদের গর্বিত ইতিহাস।
ছোট শিশুগুলো প্রতিদিন নিয়ম করে বিদ্যালয়ে আসে। প্রাতঃ সমাবেশে অংশ নেয়। নির্দিষ্ট সময় শেষে শুরু হয় জাতীয় সংগীত। কোমলমতি শিশুদের কন্ঠে সমস্বরে সুর উঠে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’
সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে আগত এই শিশুদের সামাজিক অবস্থান, প্রতিদিনের ছোট ছোট বাধা পেরিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া। নিজেদের সাধ্যমতো পরিপাটি হয়ে আসা। যাদের অধিকাংশের বাবা মায়েরাই সমাজের নি¤œশ্রেণির কর্মজীবী। যারা তাদের শিশুদের ন্যূনতম চাহিদাটুকু পূরণের জন্য জীবনের তাগিদে কাজে বের হচ্ছেন। আমি সেই সব শিশুদের, অধীর আগ্রহ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে দেখি। বাড়ির আঙিনা থেকে তুলে আনা নাম না জানা ফুলে আমাদের অস্থায়ী শহীদ মিনারের বেদীটি ফুলে ফুলে ভরিয়ে দিতে দেখি।
বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে যখন ৭ই মার্চের সেই কালজয়ী ভাষণটি বাজানো হয়, ওরা অত্যন্ত আগ্রহ ভরে সেই ভাষণের দীপ্ত উচ্চারণগুলো আওড়াতে থাকে ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
ওরা ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠে। বছর পেরিয়ে শ্রেণিগুলো অতিক্রম করে। এক সময় বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাড়ি জমায়। এরা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে। আর আমরা অপেক্ষা করি কিছু খাঁটি দেশপ্রেমিকের। যারা হাল ধরবে নতুন পথে চলার।
পরবর্তীতে সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমাদের কোমলমতি শিশুরাও বদলায়। বড় হয়ে ওঠা মনের কোমলতা আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের আওড়ানো সেই শপথ বাক্যগুলোই একসময় মজবুত ভিত হয়ে রচিত হয়। জীবনবোধ, বাস্তবতা, নৈতিকতা, সামাজিকতা, আমাদের শিশুদের সেই দেশপ্রেমকে কতটা প্রভাবিত করে? বড় হয়ে যাদের ছোট শিশুরা জানেনা দল অথবা রাজনীতি কী? কিন্তু ওরা জানে যে, বাংলাদেশটা আমার। তাই আমি উপলব্ধি করি, এদেশের প্রতিটি মানুষই এক একজন দেশপ্রেমিক। যারা তাদের দেশ প্রেমটুকু হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত ভাবনায় রূপান্তর করতে পারছেন না।
কিন্তু তাই বলে কী পথ চলা থেমে থাকে? আমরা কি হাল ছেড়ে দেই? না একজন শিক্ষক তা করেন না। বছর পেরিয়ে নতুন সময়ের নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়ে, আমরা নতুন স্বপ্নে উজ্জীবিত হই, নতুন দেশপ্রেমিক তৈরীতে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি সেই অতুলনীয় উপলব্ধির ধারকের জন্য, যে বুঝতে শিখবে, যে দেখাতে পারবে, ‘বাংলাদেশ’ তোমায় কতটা ভালোবাসি?
লেখক : সহকারী শিক্ষিকা, শাহমীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিলেট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • মূর্তিতেই দুর্গা : বিশ্বাসের বিষয় তর্কের নয়
  • শিক্ষার্থীর মনোজগৎ বিকাশে কার কী ভূমিকা
  • দুর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
  • রাশিয়ার কাছে কি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাচ্ছে
  • দারিদ্র বিমোচনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ-সম্প্রীতি সমাবেশ ও কিছু কথা
  • পর্যটন নীতিমালার বাস্তবায়ন কত দূর
  • ওসমানীর দন্তরোগ বিভাগ
  • দুর্গার আগমন শুভ হোক
  • Developed by: Sparkle IT