উপ সম্পাদকীয়

শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ

মোহাম্মদ আব্দুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০১৮ ইং ০০:৪৩:৪২ | সংবাদটি ৫১ বার পঠিত

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার রাত নয়টা ২০ মিনিটে সংসদে সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন আইন পাস হয়েছে। এমন সুখবর খুবই সুখকর। এর বাস্তবায়ন হোক এই আশাবাদ রেখে আমার লেখা শুরু করছি। মানুষ হিসাবে আমাদের যতো সেবা পাওয়া মৌলিক অধিকারের আওতাধীন তার অন্যতম হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা। অন্ন, পোশাক, বসবাসের নিরাপদ জায়গার পরেই শিক্ষা ও চিকিৎসা মানব জীবনে অতীব জরুরী। আমাদের সরকারের এখনও আর্থিক সামর্থ্যে এতোটা সচ্ছলতা আসেনি যে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা সারাদেশব্যপী সকল মানুষের একেবারে কাছাকাছি ছড়িয়ে দিবে। তবে আমাদের স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতিটি সরকার ধারাবাহিকভাবে নিজ অর্থায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে এসব খাতে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সরকার ধনী শ্রেণির মানবিক মানুষকে এগিয়ে আসতে উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে ধনী অনেকেই আছেন; কিন্তু অধিকাংশই ব্যক্তিগত বিলাসিতায় জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন স্বার্থপরের মতো। আবার কেউ কেউ মানবসেবাকে বড়ো ধর্ম মনে করে এগিয়েছেন সরকারের পাশাপাশি। সারাদেশে নানামুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের উৎসাহে অনেকেই গড়েছেন। আমরা আশা রাখলাম কর্তৃপক্ষ ওইসব প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত অর্থেই সেবা দিবেন শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে চাপমুক্ত রেখে। এখানে চিকিৎসা শিক্ষালয় ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র নিয়ে আমার কথা। আমি সারাদেশে ঘুরে দেখিনি, তবে সিলেট শহরস্থ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গুলো ও তার চারপাশের বাহ্যিক পরিবেশ ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে।
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল একই সাথে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র। আমাদের সিলেট শহরে সর্ববৃহৎ কাঠামো ও সর্বোত্তম সুযোগ সুবিধা নিয়ে 'সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল' আছে কোনো সন্দেহ নাই। আরো আছে বেসরকারি অনেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। মানবসেবার যতো প্রতিষ্ঠান আছে তার অন্যতম হচ্ছে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। আমাদের শহরস্থ কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে এই লেখায় আমার বিরূপ মন্তব্য নেই। আমি বলতে চাই, চিকিৎসা কেন্দ্র খুললেই হয়না। পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবার জন্য আভ্যন্তরীণ উন্নত সুযোগ সুবিধাদির পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক সবুজ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রয়োজন যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে যেমন সহায়ক তেমনি দ্রুত রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ চিকিৎসাকেন্দ্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাস্থ্য ও পরিবেশের মাঝে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। পরিবেশ সুস্থ হলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই বলা যায়, অসুস্থ মানুষের জন্যে দ্রুততম সময়ে সুস্থ হয়ে উঠার ক্ষেত্রে চিকিৎসালয়ের আভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বাহিরের সতেজ পরিবেশের বিকল্প নেই। বাহিরের পরিবেশে যতো শৃঙ্খলা ও শান্তি থাকবে শিক্ষা ও চিকিৎসালয়ে ততো শান্তিময় পরিবেশ পাওয়া যাবে। চিকিৎসা শিক্ষালয়ে এমন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের সুস্থ মানসিকতা গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে নিঃসন্দেহে। আর সুস্থ মানসিকতা সম্পন্ন একজন চিকিৎসক মানবিক গুণে গুণী হবেন এটা আশা করতেই পারি। কর্তৃপক্ষ আমাদের শহর এবং সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসালয়ের আভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিষ্কার রাখবেন ও স্বাস্থ্য সচেতন থাকবেন এমন প্রত্যাশা সকল মানুষের। আমাদের শহরের সকল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এখনও এমন অবস্থা হয়নি যেখানে হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ড বা কেবিনে বাহির থেকে সবুজের দেখা মিলে ও সতেজ বাতাস প্রবেশ করে। বরং হাসপাতালের ভেতরে বাহিরের গাড়ির হর্ন ও বাজারি চিৎকার চেঁচামেচি প্রবেশ করে রোগীর যন্ত্রণা আরো বাড়িয়ে তুলে। আমি সময় করে মাঝে মাঝে সিলেটের রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটি। ওই কলেজের প্রধান ফটকের সামনে তাকালে মন ভরে যায়। আমাদের শহরাভ্যন্তরে সাধারণত নানান ধরনের গাড়ির নানান ধরনের হর্ন বেজেই চলে। আর মাইকের আওয়াজ শহরবাসীর নিত্য সঙ্গী যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে প্রতিবন্ধক এবং চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে রোগীর জন্যে তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ। কিন্তু সিলেট শহরের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাহিরের পরিবেশ সেদিক থেকে যথেষ্ট সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর। আশেপাশে হাঁটলে দৃষ্টিতে আসে চা বাগান, ছোটো ছোটো পাহাড়ি টিলা, ছোটো বড়ো নানা ধরনের গাছ। আর নানান ধরনের পাখি দেখা যায় ও গাছের আড়াল থেকে অদেখা পাখির মিষ্টি সুর কানে আসে।আছে কাঠবিড়ালী। মাঝে মাঝে বানরের দেখা পাওয়া যায়। হাসপাতালের ভেতরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আরো দু একটি কলেজে কিছু গাছ পালা ও ফুলের বাগান থাকলেও তা সবক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয় এবং অযতেœ আছে।
আমি একবার আমার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে অনেকদিন ছিলাম। টানা কয়েকদিন হাসপাতালে থেকে একদিন মেয়েটি বাইরে যাবার জন্যে অস্থির হয়ে ওঠে এবং কান্নাকাটি করে। ডাক্তার কেবিনে এলে আমি বিষয়টি বলি। ডাক্তার তখন আমাকে বলেন, ঠিক আছে মেয়েকে নিয়ে ঘুরে আসেন। আমি চা বাগান সমৃদ্ধ ওই সবুজ এলাকাজুড়ে ঘুরেছি তাকে নিয়ে। মেয়েটি আমার কান্না ভুলেছে এবং অসুস্থ শরীর নিয়েই সে আমার কোলে হেসেছে।এক কথায় সবুজ প্রকৃতি ও প্রকৃতিজ প্রাণ একেবারে শিক্ষার্থী ও রোগীদের নাগালেই, যা ওই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিবেশকে সবসময় রাখে সতেজ। আর শহরের বাণিজ্যিক ব্যস্ততা থেকে দূরত্বে থাকায় গাড়ি, রিক্সা, ট্রাক, মাইক ইত্যাদির উৎপাত খুব একটা নেই। সিলেট শহরের যতোগুলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে, তার সবগুলো পরিদর্শন করে এসে নিরপেক্ষ দৃষ্টি নিয়ে যে কেউ বলবেন, হাসপাতাল ও কলেজের বাহিরের শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও রোগীর জন্যে খুবই জরুরী তা আছে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ পাতালের বায্যিক পরিবেশে। তবে এমনটি বজায় রাখতে দেশের স্বার্থে সকল শ্রেণির মানুষের সহযোগিতা থাকতে হবে।
আমাদের দেশ ছোটো। জনসংখ্যার ঘনত্বও বেশি। সবসময় সবখানে এমন পরিবেশ হয়তো আমরা শহরের ভেতর পাবোনা। তবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আগামীদিনে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এমনকি প্রাইভেট ক্লিনিক গড়া হবে তাতে যেনো অন্তত এক টুকরো মাঠ ও সবুজ বাগান থাকে। রোগীদের মানসিক প্রশান্তির জন্যে বাগিচা গড়ে তুলতে হবে এবং হাঁটা ও বসার ব্যবস্থা করতে হবে। মানবসেবা মূলক সকল প্রাঙ্গণ হোক ফুলেল ও সতেজ। সরকারি সুদৃষ্টি ও ধনীক শ্রেণির মানবিক মানসিকতায় আমাদের সকল ধরনের সেবা মূলক প্রতিষ্ঠানের ভেতরের ও বাহিরের পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর হোক। আমাদের মননের বিকাশ ঘটুক।।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • মূর্তিতেই দুর্গা : বিশ্বাসের বিষয় তর্কের নয়
  • শিক্ষার্থীর মনোজগৎ বিকাশে কার কী ভূমিকা
  • দুর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
  • রাশিয়ার কাছে কি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাচ্ছে
  • দারিদ্র বিমোচনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ-সম্প্রীতি সমাবেশ ও কিছু কথা
  • পর্যটন নীতিমালার বাস্তবায়ন কত দূর
  • ওসমানীর দন্তরোগ বিভাগ
  • দুর্গার আগমন শুভ হোক
  • Developed by: Sparkle IT