ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সিলেটের প্রথম মুসলমান সম্পাদক

সেলিম আউয়াল প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৯-২০১৮ ইং ০০:৪৫:৫২ | সংবাদটি ১০৩ বার পঠিত

বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র বের হবার এক যুগ পর ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হয়। এটিই ছিলো উপমহাদেশে কোন মুসলমান সম্পাদিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র। কলিঙ্গার শেখ আলিমুল্লা বাংলা ও ফারসি ভাষায় একটি সাপ্তাহিক বের করার অনুমতি পাবার ছ’ মাস পর ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ (২৫ ফাল্গুন ১২৩৭বাংলা) ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’ প্রকাশ করেন। পত্রিকাটি কতদিন টিকেছিলো জানা যায় না। তবে ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের ‘দ্য ক্যালকাটা ক্রিশ্চান অবজারভার’ পত্রিকায় পাদ্রি মর্টনের লেখা একটি নিবন্ধে ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’ মৃত পত্রের তালিকাভুক্ত হয়।
বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র প্রকাশের ৫৮বছর পর ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি সিলেটের প্রথম সংবাদপত্র প্যারীচরণ দাস সম্পাদিত শ্রীহট্ট প্রকাশ বের হয়। এরপর পরিদর্শক, শ্রীহট্ট মিহির, শ্রীহট্টবাসী, শ্রীদেশ বার্ত্তা, দেশবার্ত্তা, জনশক্তিসহ অনেকগুলো পত্রিকা বের হয়েছে। ‘কিন্তু মুসলমানদের দাবী দাওয়া অথবা ইসলামি তাহজিব ও তমদ্দুনের কথা এসব হিন্দু পরিচালিত পত্রপত্রিকায় তেমন স্থান পেত না। ‘জনশক্তি’ ছিল কংগ্রেসের মুখপত্র। এই পরিপ্রেক্ষিতে একটি আলাদা জাতি গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের কথা প্রকাশ করার লক্ষ্যে সিলেটের মুসলমানরা প্রথমবারের মতো একটি নিজস্ব পত্রিকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। প্রথম মহাযুদ্ধের পর ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটের আওরঙ্গপুরের একটি উলেমা সংগঠন পত্রিকা প্রকাশের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু কমিটি বানানো ছাড়া আর কোন কাজ হয়নি। পরে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে পত্রিকা বের করার জন্যে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু শেষের দিকে গড়ে ওঠা কমিটির কয়েকজন উদ্যোক্তা কারাদন্ডে দন্ডিত হওয়ায় তারা তাদের সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এরপরও উদ্যোগ অব্যাহত থাকে। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে খেলাফত নেতা ‘ফরওয়ার্ড’ পত্রিকার সেই সময়ের সহকারী সম্পাদক আবদুল মতিন চৌধুরী সিলেট থেকে ‘যুগবাণী’ নামে একটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করার ঘোষণা দেন। তার সাথে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন খেলাফত আন্দোলনের তরুণ নেতা মকবুল হোসেন চৌধুরী। তারা একসাথে খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ‘যুগবাণী’ পত্রিকাটি মকবুল হোসেন চৌধুরীর সম্পাদনায় বের হয়।
মকবুল হোসেন চৌধুরী রাজনীতি থেকে সাংবাদিকতায় এসেছিলেন। তার রাজনীতি সূচনা খেলাফত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সিলেটে খেলাফত আন্দোলন শুরু হয় ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে এবং ১৯২৩ পর্যন্ত তা চলেছিলো। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্ট মওলানা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে কলকাতা খেলাফত কনফারেন্সে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব নেয়া হয়। রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তরুণ মুসলিম ছাত্রসমাজও সেই আন্দোলনে শরিক হয়। মকবুল হোসেন চৌধুরী ছিলেন এম সি কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র।। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলি হাইস্কুল থেকে তিনি বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর সেই সময়ের প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম,সি. কলেজের এফ.এ (প্রথম বর্ষ)-এ ভর্তি হন। কিন্তু নিজের সোনালী ক্যারিয়ারের কথা না ভেবে মুরারিচাঁদ কলেজ ছেড়ে ঝাপিয়ে পড়েন খেলাফত আন্দোলনে। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর নাগপুরে চারটি রাজনৈতিক দলÑকংগ্রেস, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এবং খেলাফত কমিটিÑএকই সাথে তাদের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠান করে। সম্মেলনে মকবুল হোসেন সিলেটের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার জন্যে তাকে ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে গ্রেফতার করা হয়।
মকবুল হোসেন ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে জেল থেকে মুক্তি পান। কিন্তু সোনালী ভবিষ্যতের হাতছানিকে অবজ্ঞা করে আর ফিরে যাননি কলেজে। তখন তার চোখে জাতিকে মুক্তি দেবার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের ঘোরে, অনেকটা প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবেই বেছে নিলেন সাংবাদিকতাকে।
মকবুল হোসেন চৌধুরীর সম্পাদনায় ‘যুগবাণী’ আত্মপ্রকাশ করে। তিনি নিজেই ছিলেন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকর। আবদুল মতিন চৌধুরী শুরু থেকেই এই পত্রিকার পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
‘যুগবাণী’ই ছিল সিলেট থেকে বের হওয়া মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা। পত্রিকাটি সিলেট তথা আসামের মুসলমানদের অনেকদিনের স্বপ্ন পূরণ করে। খেলাফত আন্দোলনের হতাশাগ্রস্থ যে গ্রুপটি কংগ্রেসের প্রভাব থেকে সরে পড়েও বাংলাকে মাতৃভাষারূপে গ্রহণ করেছিল এবং ইংরেজদের সাথে হাত না মিলিয়ে মুসলিম মানসকে চাকরির মোহ থেকে মুক্ত করে স¦াবলম্বী হওয়ার প্রেরণা দান করত, সেই গ্রুপের মুখপত্র ছিলো ‘যুগবাণী’।
‘যুগবাণী’ বের হওয়ার তারিখ নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, পত্রিকাটি ১৯২২ সালে বের হয়। আবার কেউ কেউ বের হবার সময়টা ১৯২৪ বা ১৯২৫ সাল বলেও উল্লেখ করেছেন। সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের পাঠাগারে ‘যুগবাণী’র প্রথম বর্ষের অনেকগুলো সংখ্যা সযতেœ রক্ষিত আছে। এতে দেখা যায় ‘যুগবাণী’ আত্মপ্রকাশ করেÑ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার অর্থাৎ ৩ মাঘ ১৩৩১ বাংলা, ২০ জমাদিউস্সানি ১৩৪৩ হিজরি।
‘যুগবাণী’ আসামের মুসলমানদের দীর্ঘদিনের একটি অভাব পূরণ করে। তবে পত্রিকাটি সাম্প্রদায়িক ছিলো না, ছিলো ধর্ম নিরপেক্ষ। এ প্রসংগে ১৩৩২ বাংলার (১৯২৫) ২২ আশ্বিন প্রকাশিত যুগবাণী’র ‘সাম্প্রদায়িক বিরোধ’ শীর্ষক সম্পাদকীয়টি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য: ‘ভারতীয় মহাজাতির অখন্ড-মিলন ব্যতীত ভারতের মুক্তি আসিবে না, ইহাই রাষ্ট্রনায়কগণের অভিমত। দুঃখের বিষয় এই অখন্ড-মিলন সাধনের জন্য নেতৃবৃন্দের প্রাণপাত চেষ্টা সত্বেও কোন কোন অঞ্চল হইতে সাম্প্রদায়িক কোন্দলের বিকট কোলাহল উঠিয়া ভারতের শান্তিময় বাতাস আন্দোলিত করিয়া তুলিতেছে। সংকীর্ণ জাতীয়তা ও অন্ধ গোঁড়ামীই যে অধিকাংশ স্থলে এরূপ কোন্দলের মূল কারন তাহা বলাই বাহুল্য।’
‘যুগবাণী’ পত্রিকাটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে বন্ধ হয়ে যায়। ধারনা করা হয় আর্থিক কারনেই পত্রিকাটি বন্ধ হয়েছিলো।
মকবুল হোসেন চৌধুরী শুধু সিলেট নয়, সত্যিকথা বলতে তিনি পুরো বাংলাদেশে মুসলিম সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয়েছিলো সিলেটে, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তিনি কলকাতা থেকে বের হওয়া ‘দৈনিক ছোলতান’ পত্রিকার সম্পাদক হয়েছিলেন। তিনি সিলেটে ফিরে না আসলে পুরো উপমহাদেশেই তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারতেন, খ্যাতি অর্জন করতে পারতেন। সিলেটে মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র ‘যুগবাণী’ সম্পাদনার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতার সূচনা। ‘যুগবাণী’ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি কিছুদিন তার নিজের বাড়িতে দিন কাটান। তারপর কলকাতা থেকে ‘দৈনিক ছোলতান’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের ডাক আসে। ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে মকবুল হোসেন চলে যান কলকাতা, গ্রহণ করেন সম্পাদনার দায়িত্ব। যুগবাণী সম্পাদক হিসেবে তার বলিষ্ঠ লেখনীই তাকে এতো কম বয়সে এই সম্মান প্রদান করে।
কিন্তু ‘দৈনিক ছোলতান’-এর প্রকাশনা বেশীদিন ছিলো না। বছর খানেকের মাথায় পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি আবার নিজের জেলায় ফিরে আসেন। তখন সিলেটে সেই সময়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি কালেক্টর এবং পরবর্তীতে চা-কর ও কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ সদস্য আবদুর রশীদ চৌধুরী এবং খ্যাতনামা রাজনৈতিক নেতা আব্দুল মতিন চৌধুরী সিলেটে সাপ্তাহিক ‘যুগভেরী’ বের করার উদ্যোগ নেন। তারা মকবুল হোসেন চৌধুরীকে এই সাপ্তাহিকী সম্পাদনার জন্যে আমন্ত্রণ জানান। তিনি সাপ্তাহিক ‘যুগভেরী’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩২ সাল থেকে সাত বছর তিনি যুগভেরীর সম্পাদক ছিলেন।
‘যুগভেরী’র আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৩২ সালের ৪ জুলাই অর্থাৎ ১৩৩৯ বাংলার ২৭ আষাঢ়।’ যুগভেরী সিলেটের মুসলমান পরিচালিত ও সম্পাদিত দ্বিতীয় সাপ্তাহিক।
সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ সেপ্টেম্বর সরেকওম এ জেড এম আব্দুল্লাহর দরগাহ মহল্লাস্থ বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়। খান বাহাদুর একলিমুর রাজা চৌধুরী এমএলএ-কে সভাপতি, মকবুল হোসেন চৌধুরী ও আশরাফ উদ্দিন চৌধুরীকে সহ-সভাপতি এবং এ জেড এম আব্দুল্লাহকে সম্পাদক করে সাহিত্য সংসদের প্রথম কমিটি গঠন করা হয়।
মকবুল হোসেন চৌধুরী ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে আসাম ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাহিরপুর-ধর্মপাশা-শাল্লা নির্বাচনী এলাকা থেকে এম.এল.এ. নির্বাচিত হন। সভার সদস্য নির্বাচিত হলে যুগভেরী ত্যাগ করেন।
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং এই সময়ে সুনামগঞ্জের রিণ-সালিশ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যেরও দায়িত্ব পালন করেন।
বৃহত্তর সিলেট পাকিস্তানে যোগ দেবে না, না ভারতে থাকবেÑএই প্রশ্নে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ও ৬ জুলাই ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সিলেটের পাকিস্তানভুক্তির আন্দোলনে মকবুল হোসেন চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
মুহম্মদ নূরুল হক লিখেছেন ‘সম্পাদক হিসেবে তিনি (মকবুল) ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠ ও নির্ভীক। যুগভেরী সম্পাদক থাকাকালে এক সময়ে তাঁহার বিরুদ্ধবাদীরা তাঁহার বিরুদ্ধে গুন্ডা লেলাইয়া দেয়। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও তিনি নিজ মতবাদে অটল এবং অচল।’
মকবুল হোসেন আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য পদে ১৯৪৬ পর্যন্ত বহাল ছিলেন। তিনি আসামে লাইনপ্রথা ও বঙাল খেদাও-বিরোধী আন্দোলনসহ বাংলাভাষীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন, আসাম ব্যবস্থাপক পরিষদে বাংলায় বক্তৃতা দান, সুনামগঞ্জ কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা, রিণ সালিশি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিপীড়িত মানুষের কল্যাণ সাধন, সিলেটের গণভোট প্রভৃতিতে অবদান রাখেন।
মকবুল হোসেন চৌধুরী আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অর্গেনাইজিং কমিটির সদস্য হিসেবে প্রাদেশিক মুসলিম লীগ গঠনে ও এতে প্রাণ সঞ্চার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ভাষা প্রশ্নে বিরোধ দেখা দিলে তিনি বাংলার দাবী সমর্থনে দ্বিধা করেননি। সুনামগঞ্জে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে আয়োজিত প্রথম জনসভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। ঢাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি গুলি বর্ষণ এবং ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রুয়ারি এক জনসভায় তিনি কেবল সুনামগঞ্জ মহকুমা মুসলিম লীগের সভাপতির পদ থেকেই নয়, মুসলিম লীগের সাধারণ সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা প্রদান করেন।
সুনামগঞ্জে তিনি জীবনের শেষ দশ বছর কাটিয়েছেন। জীবনের শেষপ্রান্তে পৌঁছে তিনি আবার সাংবাদিকতায় ফিরে আসেন। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা আফতাব আলী ‘সাপ্তাহিক সিলেট পত্রিকা’ বের করলে তিনি তাকে সেই পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত করেন। কিন্তু পত্রিকাটি বের হবার কিছুদিনের মধ্যে সেই বছরেরই ডিসেম্বরে মকবুল হোসেন চৌধুরী ইন্তেকাল করলে পত্রিকাটিও বন্ধ হয়ে যায়।
[সিলেট প্রেসক্লাব ফেলোশিপ প্রবন্ধ ২০১৮]

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বিবি রহিমার মাজার
  • তিন সন্তানের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি
  • হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর ও দীঘি
  • শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বিলুপ্তির পথে সার্কাস
  • জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  • বাংলাদেশের লোকশিল্প
  • উৎলারপাড়ের পোড়া পাহাড় আর বুদ বুদ কূপ
  • চেলা নদী ও খাসিয়ামারা মোহনা
  • সিলেটে মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সাহিত্য সাময়িকী
  • মুহররমের দাঙ্গাঁ নয় ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধ
  • দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিচিতি
  • সিলেটের প্রথম মুসলমান সম্পাদক
  • কালের সাক্ষী পানাইল জমিদার বাড়ি
  • জনশক্তি : সিলেটের একটি দীর্ঘজীবী পত্রিকা
  • ঋতুপরিক্রমায় শরৎ
  • সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরাকমোহনা
  • যে এলাকা পর্যটকদের হৃদয় জোড়ায়
  • Developed by: Sparkle IT