প্রথম পাতা সিলেটে শিশু আদালতের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধান বিচারপতি

পৃথিবীতে কোনো আইনই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৯-২০১৮ ইং ০৩:০৮:১৭ | সংবাদটি ২৬১ বার পঠিত

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘পৃথিবীতে কোনো আইনকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা যাবে না। সব আইনের মধ্যেই কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে; তেমনিভাবে বাংলাদেশে ২০১৩ সালে প্রণীত শিশু আইনেরও কিছু ত্রুটি রয়েছে বলে গবেষণায় চিহ্নিত হয়েছে। ক্রটি-বিচ্যুতি দূর করে শিশু আইন-২০১৩ সংশোধন করা হলে শিশু আদালতের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।’
গতকাল বুধবার বিচারের আওতায় আনা শিশুদের জন্য শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী সিলেটে সংস্কারকৃত শিশুবান্ধব আদালতের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সুপ্রীম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের উদ্যোগে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নব সংস্কারকৃত শিশু আদালত কক্ষ উদ্বোধন করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জন লেইভি। উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি খিজির আহমদ চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসাইন, সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার সাইফুর রহমান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেটের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. মোঃ গোলাম মর্তুজা মজুমদার। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন যুগ্ম জেলা জজ তাসলিমা শারমিন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো: মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান, এসএমপির কমিশনার মোঃ গোলাম কিবরিয়া, সিলেটের জেলা প্রশাসক নূমেরী জামান, সিলেটের পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান, সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ লালা, বার কাউন্সিলের সদস্য এ এফ এম রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু, সরকারি কৌশলি খাদেমুল মিল্লাত মোঃ জালাল, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, প্রবেশন অফিসার তমির হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আরো বলেন, পুণ্যভূমি সিলেটে নব সংস্কারকৃত শিশু আদালত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিশু আদালত বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘শিশুরাই দেশ ও জাতির কর্ণধার। তাদেরকে আদর্শবান ও শিক্ষিত করে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। কোনো শিশুই অপরাধী হয়ে জন্মায় না। কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণে এরা অপরাধ জগতে বিচরণ করে। শিশু যাতে বিপথগামী না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।’
সিলেট প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ:) ও শাহপরান (রহ:) এর পুণ্যভূমি সিলেট। সব মিলিয়ে সিলেটের গৌরবের অনেক বিষয় আছে, যা বাংলাদেশিরা অন্যান্য দেশের সামনে তোলে ধরে। পৃথিবীর যে কোনো দেশের নাগরিকদের মুগ্ধ করার মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে, বিভিন্ন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানও এই সিলেটে রয়েছে। এই ঐতিহ্যের ও সমৃদ্ধির জন্য সিলেটবাসীর রয়েছে হৃদয়ের বিশালতা।
তিনি বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় শিশু আদালত নি:সন্দেহে দৃশ্যমান অগ্রগতি। এই অগ্রগতির যাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে সদা সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, শিশু অপরাধের বিচার কার্যক্রম অনেক স্পর্শকাতর। এ কারণে বিচারকদের সংবেদনশীলতা একান্তভাবে কাম্য। মনে রাখতে হবে, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সিলেটের বিচারক ও আইনজীবীদের সুসম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সিলেটের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে ন্যূনতম ক্ষোভ বা অসন্তোষ নেই। একজন প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমার জন্য এর চেয়ে গৌরবের আর কি হতে পারে। তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।
স্বাগত বক্তব্যে সিলেটের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. মোঃ গোলাম মর্তুজা মজুমদার বলেন, বিচারপতি ইমান আলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে শিশু আদালতের নব সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। এজন্য তিনি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সম্মানিত হয়েছেন। এরজন্য আমরা গর্ববোধ করি। তিনি বলেন, সিলেটের সকল জজ, ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্মকর্তারা অত্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ড. মোঃ গোলাম মর্তুজা মজুমদার বলেন, এক সময় বিকেলে কোর্ট করা অনেকটা অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিলো। মাননীয় প্রধান বিচারপতির কঠোর নির্দেশনায় এখন যথাযথ বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে জজশিপ ও আইনজীবী সকলেই সহযোগিতা করছেন বলে জানান।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জন লেইভি শিশুদের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয় তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য আদালতেও শিশু আদালত সাজানোর ব্যাপারে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, আমাদের আইন এবং সংবিধানে বলা আছে, শিশুরাই এদেশের নাগরিক, কিন্তু আমরা ভুলে যাই তাদেরও অধিকার আছে। এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে সিলেটের শিশু রাজনের ঘটনা। তিনি বলেন, আমাদের শিশুদের প্রতি মনোভাব পরিবর্তন করতে পারছি না বলেই এমনটা হচ্ছে। কারণ নিজেদের শিশুদের কত আদর করি, জোর করে খাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করি, অথচ রাস্তার সেই শিশুটির দিকে তাকাই না। আমাদের মনোভাবের পরিবর্তন করতে হবে।
বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, আমাদের দেশের আইন বলছে, কিভাবে শিশুর বিচার করতে হবে, কোন পরিবেশে বিচার কার্য পরিচালনা করতে হবে। আমাদের সাবেক এক প্রধান বিচারপতি নির্দেশনা দিয়েছিলেন জজ সাহেবের খাস কামরায় বিচার কার্য পরিচালনার জন্য। সেই নির্দেশনায় জজ সাহেবের কামরাকেই শিশু আদালত হিসেবে সাজানো হয়েছে, এক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • সিলেট জেলা বিএনপির বিশেষ জরুরী সভা আজ
  • বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস আজ
  • বোরো ধান যেনো কৃষকের গলার কাঁটা
  • এবার ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ খেলবো: কাদের
  • এতিমদের সঙ্গে ইফতার করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • কৃষক রক্ষা না করলে অভিশাপ নেমে আসবে: রিজভী
  • গোয়াইনঘাটের তোয়াকুলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ ॥ আহত ২০
  • কৃষক বাঁচাতে চাল আমদানি বন্ধ করা হবে: অর্থমন্ত্রী
  • মন্ত্রিসভার দপ্তর পুনর্বিন্যাস
  • রমজানুল মোবারক আস-সালাম
  • বালির দূষণে ধুঁকছে জীবন
  • রবীন্দ্রনাথের সিলেট আগমনের শতবর্ষ উদযাপনে নানা আয়োজন
  • রোহিঙ্গাদের আশ্রয় মানবতার অন্যতম উদাহরণ
  • আজ থেকে অফিস করবেন ওবায়দুল কাদের
  • খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন ------------জমির উদ্দিন
  • সিলেটের প্রথম মহিলা জেলা শিক্ষা অফিসার নূর রওশন চৌধুরী আর নেই॥ আজ জানাজা
  • রমজানুল মোবারক আস-সালাম
  • কাজিরবাজার এলাকা থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
  • আবুসিনা ছাত্রাবাস ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করার সুযোগ নেই --------- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি
  • ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির ব্যাপারে সতর্ক থাকুন
  • Developed by: Sparkle IT