ধর্ম ও জীবন

আশুরা : ইতিহাস ও ঘটনাবলী

আব্দুল হান্নান তুরুকখলী প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৯-২০১৮ ইং ০১:২৪:৪৫ | সংবাদটি ১২১ বার পঠিত

দুনিয়া সৃষ্টির সূচনা থেকেই যে মাসটি মহান আল্লাহর নিকট সম্মানিত ছিলো সেই মাসটিই হলো মহররম। ইরশাদ হচ্ছেÑ ‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনার মাস বারোটি, তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত, ইহাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং ইহার মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না’। (সূরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)
উক্ত আয়াতে চারটি মাসকে সম্মানিত বলা হয়েছে। এই চারটি মাস হচ্ছেÑ মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ্ব। প্রাচীন আরবরা ছিলো যুদ্ধাজাতি। তাদের মধ্যে কথায় কথায় যুদ্ধ লেগে যেত এবং বছরের পর বছর এই যুদ্ধ স্থায়ী থাকত। কিন্তু সেই আরববাসীরাও উক্ত চার মাসকে এতো সম্মান করতো। তারা উক্ত চার মাসে কোনো প্রকার যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। মোটকথা সম্মানিত সেই চার মাসের একটি হচ্ছে মহররম। সেই মহররম মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মাস হয়েছে পবিত্র আশুরার কারণে। মহররম মাসের দশ তারিখ হচ্ছে পবিত্র আশুরা। মহান আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাবলী মহররম মাসের দশ তারিখে সংঘটিত হয়েছে বলেই পবিত্র আশুরার দিনটি ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। পবিত্র আশুরার তারিখে ইতিহাস বিখ্যাত যেসব বিস্ময়কর ঘটনাবলী সংঘটিত হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হচ্ছেÑ ১) পবিত্র আশুরার তারিখে মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়, তাঁকে জান্নাতে পাঠানো হয়, তাঁকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয় এবং তাঁর তাওবা কবুল করা হয়। ২) এই তারিখে হযরত নুহ (আ.) এর নৌকা ৪০ দিন পর জুদী পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলো। ৩) এই দিনেই হযরত ইবরাহিম (আ.) এর জন্ম হয়, এই দিনেই তাঁকে ‘খলিলুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং এই দিনেই তিনি নমরুদের অগ্নিকুন্ড থেকে রক্ষা পান। ৪) এই আশুরার দিনেই হযরত ইদ্রিস (আ.) কে জীবিত অবস্থায় আকাশে ওঠিয়ে নেয়া হয়। ৫) এই দিনেই হযরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন এবং এই আশুরার দিনেই আল্লাহপাক হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুচরগণকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে সদলবলে ধ্বংস করেছিলেন। ৬) দীর্ঘ ১৮ বছর কুষ্ঠরোগে ভোগার পর হযরত আইয়ুব (আ.) রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন এই আশুরার দিনেই। ৭) এই দিনেই হযরত ইয়াকুব (আ.) চল্লিশ বছর বিচ্ছেদের পর তাঁর পুত্র হযরত ইউসুফ (আ.) এর দর্শন লাভ করেন। ৮) হযরত সুলাইমান (আ.) তাঁর রাজত্ব ফিরে পেয়েছিলেন এই আশুরার দিনে। ৯) হযরত ইউনুস (আ.) ৪০ দিন মাছে পেটে থাকার পর মুক্তি লাভ করেছিলেন এই পবিত্র আশুরার দিনেই। ১০) এই দিনে হযরত ঈসা (আ.) এর জন্ম হয় এবং ইহুদীরা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলে আল্লাহপাক তাঁকে ফেরেস্তার মাধ্যমে আসমানে উঠিয়ে নেন এই আশুরার দিনে। ১১) এই দিনে মহান আল্লাহপাক ফেরেস্তাদেরকে সৃষ্টি করেন। ১২) কা’বা শরীফকে গিলাফ দ্বারা সর্বপ্রথম আবৃত করা হয় এই আশুরার দিনে। ১৩) এই আশুরার দিনেই আল্লাহপাক এই বিশাল পৃথিবী, আকাশ-পাতাল, চন্দ্র-সূর্য, লৌহ-কলম সৃষ্টি করেন। ১৪) আকাশ থেকে প্রথম বৃষ্টিপাত হয় এই আশুরার দিনেই। ১৫) এই আশুরার দিনেই আল্লাহপাক নিজ আরশে আ’জীমে অধিষ্ঠিত হন। ১৬) কিয়ামত সংঘটিত হবে এই পবিত্র আশুরার দিনেই। ১৭) কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা সংঘটিত হয় এই দিনে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছেÑ ‘ওয়া জাককিরহুম বিআইয়্যা মিল্লাহি’ অর্থাৎ, তাদেরকে আল্লাহর দিবসগুলির দ্বারা উপদেশ দাও। (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৫)
উক্ত আয়াতে আইয়্যামিল্লাহ বা আল্লাহর দিবসসমূহ বলতে যেসব দিবসে মানবজাতির উত্থান-পতন, জয়-পরাজয় হয়েছে সেসব দিবসকে বুঝানো হয়েছে। পবিত্র আশুরা মহান আল্লাহর মহান দিবসসমূহের একটি। অতএব এই দিনকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা আমাদের সকলের উচিত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT