প্রথম পাতা

আজ পবিত্র আশুরা

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৯-২০১৮ ইং ০৪:১০:৩৩ | সংবাদটি ৯৩ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : আজ মহররমের দশ তারিখ, পবিত্র আশুরা। এই দিন ইসলামের ইতিহাসে অসামান্য তাৎপর্যে উজ্জ্বল। ইবাদত-বন্দেগীর জন্যও এ দিবস অতুলনীয়। সবকিছু ছাপিয়ে কারবালার করুণ শোকগাঁথা এ দিবসকে গভীর কালো রেখায় উৎকীর্ণ করে রেখেছে। ৬১ হিজরি সালের এই দিনে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালার ময়দানে শহীদ হন। পবিত্র আশুরা তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। দিনটি মুসলমানদের কাছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠারও দিন। এ দিনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে খুবই প্রিয়। তাই, তিনি এ দিনে রোজা পালনের সওয়াব প্রদান করে থাকেন বহুগুণ। বিগত বছরের গুনাহ এর কাফফারা হিসেবে মহররমের দু’টি রোজা রাখা মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
আশুরা কেবল কারবালার শোকাবহ স্মৃতিতেই ভাস্বর নয়। ইতিহাসের আরো অনেক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এ দিনেই আরশ, কুরছি, লওহ, কলম আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এ দিনেই আদমকে (আ.) সৃষ্টি করে তাকে বেহেশতে স্থান দিয়েছেন। পরবর্তীতে শয়তানের প্ররোচণায় ভুলের কারণে এ দিনেই তাঁকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। হযরত নূহ (আ.) সাড়ে নয়শত বছর ধরে তাওহীদের বাণী প্রচারের পর যখন সে যুগের মানুষ আল্লাহর বিধি-নিষেধ পালনে অস্বীকৃতি জানায়, তখন নেমে আসে আল্লাহর গজব। ফলে হযরত নূহ (আ.) এর সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছে। শুধু রক্ষা পেয়েছে তাওহীদে বিশ্বাসী নূহ (আ.) এর অনুসারীবৃন্দ। পবিত্র আশুরার দিনে মহাপ্লাবনের সময় হযরত নূহ (আ.) এর নৌকা তার অনুসারীদের নিয়ে জুদি পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল। আজো তার কিছু নিদর্শন সেখানে পাওয়া যায়। পবিত্র আশুরার দিনেই হযরত ইব্রাহীম (আ.) শত বিধি-নিষেধের মধ্য দিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি নমরুদের অগ্নিকু- থেকে উদ্ধার লাভ করেন এবং নিজের প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর নামে কোরবানি দিতে উদ্যত হলে খলিলুল্লাহ বা আল্লাহর বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিলেন পবিত্র আশুরার দিনে।
এদিনেই হযরত আইউব (আ.) কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং কাফেরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হলে আল্লাহ তাকে চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেন। এদিনেই হযরত দাউদ (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেছিলেন, হযরত সোলায়মান (আ.) তাঁর হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন, হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন, হযরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর হারানো পুত্র হযরত ইউসূফকে (আ.) চল্লিশ বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন। পবিত্র আশুরার দিনে ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশু মুসাকে গ্রহণ করেছিলেন। আবার স্বীয় কওমের লোকজনসহ হযরত মূসা (আ.) নীল নদ অতিক্রম করে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি লাভ করেন। পক্ষান্তরে ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে মারা যায়। পবিত্র আশুরা সমগ্র জগৎ সৃষ্টির দিন হিসেবে যেমন স্বীকৃত, তেমনি এদিন কেয়ামত অনুষ্ঠিত হয়ে জগৎ ধ্বংস প্রাপ্ত হবে।
পবিত্র আশুরার দিন মুসলিম জাহানের জন্য যে কারণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো, এদিনে স্বৈরাচারী ইয়াজিদ বাহিনী হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) কে একজন ব্যতীত সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে। হযরত ইমাম হোসাইন ক্ষমতার জন্য ইয়াজিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেননি। বরং তিনি লড়াই করেছিলেন ইয়াজিদের ইসলাম বিরোধী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে। সত্যের পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য তিনি সপরিবারে জীবন দিয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সারাদেশের মতো সিলেটেও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। আজ সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদপত্র অফিসসমূহে ছুটি থাকবে। মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সংগঠন গতকাল বৃহস্পতিবারও পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি পালন করেছে।
জালালপুর খতিরা দাখিল মাদরাসা : পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দক্ষিণ সুরমার জালালপুর খতিরা হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার উদ্যোগে “সোহাদায়ে কারবালা, মুসলমানদের শিক্ষা” শীর্ষক সেমিনার, খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ সিলেট জেলার প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও হযরত শাহজালাল রহ. যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুল মালিক।
খতিরা হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, মদন মোহন কলেজ তালামীযের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁনপুর হাফিজিয়া মাদরাসার সাবেক প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. আব্দুন নূর, খতিরা হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান হাফিজ মো. রমদ্বান আলী, মোগলাবাজার থানা তালামীযের সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফিজ খসরুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন, জালালপুর ইউনিয়ন তালামীযের যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান রায়হান, ইলাশপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা হোসাইন আহমদ, খতিরা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা হাফিজ সালাউদ্দিন, মাওলানা আশফাক আহমদ জুয়েল, মাস্টার দেলওয়ার হোসেন, মোছাঃ সুমিনা আক্তার সুমি, ফাহিমা আক্তার ইয়াসমিন। খতিরা মাদরাসা তালামীযের সভাপতি হাফিজ জুবায়ের আহমদের পরিচালনায় সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লতিফিয়া ছাত্র সংসদের জিএস হোসাইন মিয়া, অফিস সম্পাদক রোমন আহমদ সুজন, মাদরাসা শাখা তালামীযের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুর রহিম আকিফ প্রমুখ। সেমিনারের আগে খতমে কুরআন এবং অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
লতিফিয়া ইসলামী সুন্নী যুব সংঘ : পবিত্র আশুরা উপলক্ষে লতিফিয়া ইসলামী সুন্নী যুব সংঘের উদ্যোগে পবিত্র আশুরার তাৎপর্য ও আহলে বাইয়েতদের স্মরণে এক ইসলামী সুন্নী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার আলতাফ আলী খান রাইচ মিল মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা নজমুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। লতিফিয়া ইসলামী সুন্নী যুব সংঘের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা কাজী ইসমাইল আলী ও উপদেষ্টা মন্ডলীর সিনিয়র সদস্য মো. আলতাফ আলী খানের সভাপতিত্বে এবং যুব সংঘের সভাপতি মো. আব্দুল আলীম ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহিবুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় সুন্নী সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন, মাওলানা আব্দুল আহাদ জিহাদী। বয়ান পেশ করেন, আল্লামা মরতুজ আলী আমানতপুরী, প্রভাষক মাওলানা আলী আকবর, মাওলানা আব্দুল বাছিত ভালকী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমাদ উদ্দিন নাসিরী। সম্মেলনের শুরুতে খতমে খাজেগান পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল আজিজ সুনামগঞ্জী। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আল ইসলাহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জয়নাল আবেদীন, উপজেলা তালামীযের সভাপতি আলাউদ্দিন পাশা, বিশ^নাথ থানার সভাপতি হাফিজ ইসলাম উদ্দিন, লতিফিয়া ইসলামী সুন্নী যুব সংঘের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মো. আব্দুল গফফার, সাবেক সভাপতি জুয়েল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, মো. আনোয়ার ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, হাফিজ কামরান আহমদ, হাফিজ উসমান আলী, হাফিজ ফয়জুল ইসলাম, মো. আব্দুস শহীদ, মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, আল ইমরান, মো. আনছার আলী, আব্দুল কাদির দৌলা, হাফিজ জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • প্রার্থিতা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিট
  • মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ভোট দিয়ে তরুণরা ইতিহাসের অংশীদার হবেন
  • ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন সিলেট বিভাগের ৩৮ প্রার্থী
  • সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মেয়াদ বাড়লো
  • সিলেট বিভাগের ১২ আসনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করবে জাপা ও খেলাফত মজলিস
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ
  • সিলেট বিভাগে চূড়ান্ত ভোট যুদ্ধে ১১৪ প্রার্থী
  • খালেদা জিয়া মামলা নিয়ে কানামাছি খেলেছেন: কাদের
  • সন্তানদের বেগম রোকেয়ার আদর্শে গড়ে তুলতে হবে
  • নৌকার প্রার্থী ২৭২, আওয়ামী লীগের ২৫৮
  • ধানের শীষের প্রার্থী ২৯৮ আসনে, বিএনপির ২৪২
  • টেকনোক্র্যাট ৪ মন্ত্রীকে অব্যাহতি
  • বিজয়ের মাস
  • ড. কামালের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখছে এনবিআর
  • সিলেট-১সহ বিভাগের অন্য আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হলেন যারা
  • আ.ন.ম শফিক সভাপতি মাহমুদ রাজা সম্পাদক
  • বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার চিঠি
  • সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে তিন আসনে খালেদার প্রার্থিতা বাতিল
  • সিলেটে শীতের আমেজ বাড়তে শুরু করেছে
  • হবিগঞ্জের বাহুবল ও লাখাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫৫
  • Developed by: Sparkle IT