প্রথম পাতা

ফলোআপ : বিশ্বনাথে কিশোরী রুমী হত্যাকান্ড ঘাতক শফিকসহ গ্রেফতারকৃত ৪ জনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৯-২০১৮ ইং ০৪:২৭:২৮ | সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত

বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্বনাথে কিশোরী রুমী আক্তার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শফিক মিয়া (৩২) হত্যাকান্ড ও ধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে গ্রেফতারকৃত শফিক মিয়া, তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হিরা (২৪), তার দুই ভাবী দিপা বেগম (৩২) ও লাভলী বেগমকে (২৫) হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বনাথ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ।
গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পাঠাকইন গ্রামের জনৈক তবারক আলীর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে অজ্ঞাতনামা হিসেবে রুমী আক্তারের লাশ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানার পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার ৭ দিনের মাথায় অজ্ঞাতনামা ওই কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। এরপর গত বুধবার এ বিষয়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান পিপিএম ও বিশ্বনাথ থানায় ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম প্রেস ব্রিফিং করেন।
এ সময় তারা বলেন, অজ্ঞাতনামা ওই কিশোরীর গলায় প্যাঁচানো ওড়নার দুই পাশের দুই মাথায় পলিথিন দ্বারা মোড়ানো সাদা কাগজে লেখা দুটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাচক্রে পুলিশ ওই ঘটনার সাথে গত ১৭ মাস আগে একই জায়গায় আরো একটি হত্যাকান্ডের মিল পায়। তদন্তের এক পর্যায়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বনাথ থানা পুলিশ লাশের সাথে পাওয়া মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে মামলা অগ্রগতির দিকে এগুতে থাকে। এরপর টাঙ্গাইল থানার কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে রুমী আক্তার নামের এক রোগী নিখোঁজের সূত্র ধরে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে-অজ্ঞাতনামা লাশটি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার নগরভাত আউতপাড়া গ্রামের মো. আতাউর রহমানের মেয়ে রুমী আক্তারের। তদন্তের একপর্যায়ে মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানায় নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরি থেকে শফিক মিয়াকে আটক করে পুলিশ। সে বিশ্বনাথ থানাধীন রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওহাব উল্লার পুত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়- ‘থেলাসেমিয়া রোগে’ আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো রুমী আক্তার। রুমীর পাশের বেডেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ঘাতক শফিকের আরেক শাশুড়ি। গত ৪ সেপ্টেম্বর শাশুড়ির চিকিৎসার খোঁজ নিতে গিয়েই রুমী আক্তারের সাথে পরিচয় হয় লম্পট শফিক মিয়ার। আর এই পরিচয় থেকেই শফিকের প্রেমের ফাঁদে পড়েন রুমি আক্তার। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে রুমী বেগমকে বের করে ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে নিজ বাড়িতে উঠেন শফিক মিয়া। ছোট ভাবী লাভলী বেগম ঘরের দরজা খুলে তাদেরকে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে দেন। বিশ্বনাথে আসার পর শফিকের পারিবারিক অবস্থা খারাপ দেখে রুমী ছটফট করতে থাকে। এ সময় শফিক রুমীর মুখ-হাত বেঁধে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন করে। এরপর পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিলেও শফিকের চিন্তাভাবনায় ছিল অন্যবিষয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাত-পা বেঁধে নিজেদের বসত ঘরের পিছনে থাকা খালে ডুবিয়ে শফিক রুমীকে হত্যা করে এবং সন্ধ্যার পর রুমীর মরদেহটি স্থানীয় তবারক আলীর বাড়ির রাস্তায় রেখে সে পালিয়ে প্রথমে ছাতকে থাকা নিজের বোনের বাড়িতে যায়। এরপর সে পুনরায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরস্থ নিজ কর্মস্থল ‘নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরি’তে চলে যায়।
অন্যদিকে, শফিককে বাঁচানোর চেষ্টা করায় তার দুই ভাবী দিপা বেগম ও লাভলী বেগম এবং ওসি’কে ফোন করে হত্যাকান্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করায় সফিক মিয়ার স্ত্রী সোনালী আক্তার হিরাকে আটক করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শফিক মিয়া একজন নারী পিপাসু ও লম্পট প্রকৃতির লোক। সে মোট ৮টি বিয়ে করেছে। বর্তমানে সে ৪ জন স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছে। একটি গণধর্ষণ মামলার পলাতক আসামী হয়ে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে নিরীহ মেয়েদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একের পর এক হত্যা ও পাশবিক নির্যাতন করে আসছিলো। এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় মোট ১৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল
  • জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিলেটের সমাবেশ পেছালো
  • ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি
  • বহিষ্কৃতদের নেতৃত্বে বিকল্প ধারার পাল্টা কমিটি
  • প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব
  • বিশ্বকাপের ট্রফি দেখলো সিলেটবাসী
  • সরকারের উন্নয়ন ও জনবান্ধব উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজন জনগণের ঐক্য ও সহযোগিতা
  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ
  • সমাবেশের অনুমতি দিয়ে নিয়ে নেওয়া হলো: মওদুদ
  • বিদেশীদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পেয়েছে : কাদের
  • তারেককে ফেরত পাঠাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের চিঠি
  • ওমরাহ শেষে দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন প্রধানমন্ত্রী
  • জোট নয়, বি. চৌধুরীর দোয়া চায় ন্যাপ-এনডিপি
  • সংসদের ২৩তম অধিবেশন শুরু আগামী রোববার
  • সিভিল সার্জন ভবনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী
  • পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে
  • ওসমানীনগরে সালিশ বৈঠকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০
  • কমলগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু
  • জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ যান : বিদেশে
  • ট্রান্সকমের লতিফুরকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
  • Developed by: Sparkle IT