উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

পদ্মার সর্বনাশা ভাঙন রোধ প্রসঙ্গে

ঝরনা বেগম প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৯-২০১৮ ইং ০০:৫৬:০৭ | সংবাদটি ৩৫ বার পঠিত

পদ্মা আমাদের প্রধান নদী। হিমালয়ের উৎস থেকে ভারতে এটি গঙ্গা, রাজশাহীর পাশ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এর নাম হয়েছে পদ্মা। আর চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিশে বিপুল জলরাশিতে পরিণত হয়ে এই যুগ্মধারা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। বাংলাদেশ রয়েছে এই প্রশস্ত দীর্ঘ নদীর ভাটিতে। বলা যায়, গোটা ভারতবর্ষের দোয়াব অঞ্চলের পলিমাটি ধুয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে নিয়েছে এ নদী। ফলে এখানে নদী ভর্তি থাকে পানিতে, একটু ভারি বৃষ্টিতে হয়ে ওঠে কূলপল্লবী। শিকস্তি ছাপিয়ে আশপাশ নিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। বর্ষায় টানা বৃষ্টিতে নদীতে ¯্রােত বাড়ে, তাতে আর আগ্রাসী রূপও ফুটে ওঠে বেশি। উজানে বৃষ্টি বাড়লে এখানে ভাটিতেও তার প্রভাব পড়ে। পদ্মা আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এমন মেজাজি নদীর সঙ্গে আবহমানকাল ধরেই এর তীরবর্তী সব জনপদের মানুষের বসবাস।
পদ্মার বিশেষণ হলো প্রমত্তা, আর তার আরেক নাম কীর্তিনাশা। এ বছর পদ্মার প্রমত্তা রূপ, বলা যায় বিকট আকার নিয়েছে, তার কীর্তিনাশা রূপটিও পদ্মা দেখাচ্ছে ভালই। এই ধ্বংসযজ্ঞের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার মানুষের ওপর দিয়ে। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার গৃহচ্যুত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা, দালানকোঠা, বাজারহাট, ঘরবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে পদ্মা সর্বনাশা নদীতে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসে মানুষ এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখছেন।
কেবল যে পদ্মাই পাড় ভেঙে চলেছে তা নয়, দেশের আরও বিভিন্ন নদী অনবরত ভূমিক্ষয়ের কারণ হচ্ছে। তবে নদী যেমন পাড় ভাঙে, তেমনি বিপরীত দিকে উর্বর চরেরও জন্ম দেয়। কিন্তু তার দখল নেওয়া যার তার কর্ম নয়। চর দখল নিয়ে আমাদের দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ‘খুন-জখমের খবর আমরা প্রায়ই পেয়ে থাকি। এ নিয়ে উন্নতমানের সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের খবরও আমরা রাখি।
বাংলাদেশের উন্নয়নের বিভোর রথযাত্রীদের অল্প-স্বল্প ভাবতে হবে আদতে আমাদের নদীমাতৃক ভূখন্ডটি কতটা টেকসই, কতটা স্থিতিশীল। একে পলি মাটি অত্যন্ত নরম, কবির ভাষায় নরম ক্ষীরের মতো, তার ওপর এ মাটির বুক চিরে প্রবাহিত বড় বড় নদী বড্ড খামখেয়ালি। প্রতিবছর আমাদের দেশে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ নদীর ভাঙনে গৃহহারা হন। প্রশ্ন হচ্ছে, এত মানুষকে প্রকৃতির লীলা ও ভাগ্যের কাছে রেখে দিয়ে যে উন্নয়ন তা কতটা টেকসই হবে?
নদী শাসনের কথা আমরা শুনি। কিন্তু এ রকম ভূমিতে তাও বা কত দিন টিকবে সে প্রশ্ন তো থেকেই যায়। হল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেও সে প্রযুক্তি লাগসই নাও হতে পারে। ফলে উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হলে উপযুক্ত প্রযুক্তি চাই। অর্থাৎ, আমি বলবো টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই লাগসই প্রযুক্তি।
পদ্মার এক পাড় ভাঙবে আর অন্য পাড় গড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তবে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করে বড় প্রকল্পের মাধ্যমে ভাঙনরোধে উদ্যোগ নিলে পদ্মার ¯্রােতের তীব্রতায় শরীয়তপুরের নড়িয়ার মাটিতে যে ভাঙন বেড়ে গেছে, তা কিছুটা হলেও কমবে। তাই নড়িয়াকে বাঁচাতে হলে ওই এলাকার ভৌগলিক গঠন ও ভাঙনের কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। অর্থাৎ, তথ্যবহ একটি সামাজিক সমীক্ষা করতে হবে। তারপর ভাঙনরোধে উদ্যোগ নিতে হবে। শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলার মূলফৎগঞ্জ এলাকার সকল জনগণের মঙ্গল হোক। পদ্মার ভাঙন থেকে তাঁদের জান-মাল নিরাপদে থাকুক। সুখে আছে যাঁরা, সুখে থাক তাঁরা। আহা! আজি এই দুর্দিনে!
লেখক : আইনজীবী।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • মূর্তিতেই দুর্গা : বিশ্বাসের বিষয় তর্কের নয়
  • শিক্ষার্থীর মনোজগৎ বিকাশে কার কী ভূমিকা
  • দুর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
  • রাশিয়ার কাছে কি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাচ্ছে
  • দারিদ্র বিমোচনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ-সম্প্রীতি সমাবেশ ও কিছু কথা
  • পর্যটন নীতিমালার বাস্তবায়ন কত দূর
  • ওসমানীর দন্তরোগ বিভাগ
  • দুর্গার আগমন শুভ হোক
  • Developed by: Sparkle IT