সম্পাদকীয় কখনও অপমানিতবোধ করলেও অন্যকে তা বুঝতে দিও না। - বেকন

ক্যান্সারের আগ্রাসন বাড়ছে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৯-২০১৮ ইং ০২:১৫:৩৪ | সংবাদটি ১৯৫ বার পঠিত

বছরে তিন লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে মারা যাচ্ছে এক লাখ। তামাক, দূষণ ও অনিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই ধরনের রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন- এ বিষয়ে জনসচেতনতা ও চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন ক্যান্সার রোগ চিকিৎসার পরিধি বৃদ্ধি, সহজলভ্য ও মানোন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ক্যান্সার চিকিৎসার ওষুধ বিনামূল্যে রোগীদের প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য সাহায্যও দেয়া হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতি বছর বিশ্বে ১২ কোটির বেশি মানুষের দেহে ক্যান্সার সনাক্ত হয় এবং সাত কোটির বেশি মানুষ মারা যায় ক্যান্সারে। অথচ এর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অতীতে ছিলো এই রোগটি দূরারোগ্য। বলা হতো ‘ক্যান্সার নেই আনসার’। কিন্তু আজকাল এই ধারণা পাল্টে গেছে। এখন ক্যান্সার মানে অবধারিত মৃত্যু নয়। এরও ‘জবাব’ আছে। মানে ক্যান্সার আর ‘দূরারোগ্য’ নয়। এরও চিকিৎসা আছে। বেশ কয়েক ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধ করাও সম্ভব। আবার অনেক ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসাও রয়েছে। আসল কথা, সবার মধ্যে এই ধারণার জন্ম দিতে হবে যে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও লড়াই করা যায়। নানা চড়াই-উৎরাই, উত্থান-পতন আর বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় মানুষের জীবন ধারা। অসুখ-বিসুখ হচ্ছে তেমনি একটি বিপত্তি। যা জীবনের গতি অনেক সময় আটকে দেয় মাঝপথে। কখনও জীবনের গল্প শুরু না হতেই জীবনকে স্তব্ধ করে দেয় কোন ঘাতক ব্যাধি। ক্যান্সার একটি ‘মরণ ব্যাধি’ হিসেবে পরিচিত অতীত থেকে। তখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ না ঘটায় মানুষ এই রোগ সম্বন্ধে অবগতই ছিলো না, চিকিৎসা তো দূরের কথা। ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে কিছু কিছু কারণ উদঘাটন করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ। তাদের মতে, মানবদেহ তৈরি যেসব কোষ দিয়ে সেগুলো প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে আবার নতুন নতুন কোষ জন্ম হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অস্বাভাবিক কোষ এর জন্ম হতে পারে। এই কোষ ধংস করার ক্ষমতা রয়েছে মানব দেহে। যদি কোন কারণে সেই কোষ ধ্বংস না হয়, তবে তার থেকে নতুন ধারার কোষ এর জন্ম হয়। যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ থেকেই ক্যান্সারের জন্ম হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের জীবনাচারে সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যায়। তবে তার জন্য দরকার সতর্কতা অবলম্বন। কোন রোগ হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যেহেতু ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল, তাই ক্যান্সার যাতে না হয় সেদিকেই নজর দিতে হবে বেশি। দেশের বেশির ভাগ রোগীর পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। তাদের পরিণতি বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গোনা। আর সমৃদ্ধশালীরা দেশে বা বিদেশে গিয়েও উন্নত চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দেশে ক্যান্সারের উন্নত ও স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও সহজতর করতে হবে। সর্বোপরি, সকলের মধ্যে সর্বাত্মক সচেতনতা সৃষ্টি করে ক্যান্সারকে মোকাবেলা করার মানসিক শক্তি সঞ্চার করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT