স্বাস্থ্য কুশল

স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচার ১০টি উপায়

ডা. মাও. লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৯-২০১৮ ইং ০২:২২:৫৪ | সংবাদটি ১১৬ বার পঠিত

পুরুষের স্বাস্থ্যের যে ঝুঁকি রয়েছে ,এগুলো সবই প্রতিরোধ করা যায়। দীর্ঘ, সুস্থ ও জীবনের জন্য মাত্র ১০টি স্বাস্থ্যঝুঁকি সামলালেই চলে। বিখ্যাত স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা সিডিসি এবং আরোও কয়েকটি স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া ১০ টি স্বাস্থ্যঝুঁকি নি¤œরূপ :
১। হৃদরোগ: পুরুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান ঝুঁকি তো বটেই। আর স্বাস্থ্যকর জীবন প্রণালী মানলে হৃদস্বাস্থ্য ভালো থাকবে অবশ্যই । ধূমপান করা যাবে না। তামাক, জর্দা, গুল চিবানো চলবে না। কেউ ধূমপান যদি করে ,তার পাশে থাকা যাবে না। বারণ করতে ব্যর্থ হলে দূরে সরে যেতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। প্রচুর শাকসবজি, টাটকা ফল, গোটা শস্যদানা, আঁশ ও মাছ। যেসব খাবারে চর্বি বেশি, নুন বেশি সেসব খাবার বর্জন করা ভালো। রক্তে যদি থাকে উচ্চমান কোলেস্টেরল, থাকে যদি উচ্চ রক্তচাপ তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো চিকিৎসা নিতে হবে। প্রতিদিন জীবনযাপনের অংশ হবে শরীরচর্চা। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে। ডায়াবেটিস যদি থাকে, তাহলে রক্তের সুগার মান বজায় রাখতে হবে। মানসিক চাপকে মোকাবিলা করতে হবে।
২. ক্যান্সার : পুরুষরা ক্যান্সারের কারণে মারা যায়, সেগুলোর শীর্ষে রয়েছে ফুসফুসের ক্যান্সার। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির অভিমত:এর কারণ হলো ধূমপান। এরপর রয়েছে পোস্টেট ক্যান্সার ও কোলেস্টেরল ক্যান্সার । প্রতিরোধ করতে হলে- ধূমপান করা যাবে না। তামাকপাতা, জর্দা, গুল চিবানো যাবে না। পাশে কেউ ধূমপান করলে দূরে সরে যেতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চা থাকতেই হবে। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে। ফল ও শাকসবজিসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর আহার। এড়িয়ে যেতে হবে চর্বিবহুল খাবার। কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয়। ছাতা ব্যবহার, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও সাহায্য নিতে হবে।
৩. আঘাত : সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল সিডিসির মত অনুযায়ী পুরুষের মধ্যে মারাতœক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো, মোটরগাড়ি দুর্ঘটনা।্ অভয়ানক দুর্ঘটনা এড়াতে হলে- গাড়িতে সিটবেল্ট পরতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় গতিসীমা মেনে চলা উচিত। মদ বা অন্য কোন নেশা করে গাড়ি চালানো উচিত নয়। ঘুম ঘুম চোখে গাড়ি চালানো ঠিক নয়। মারাত্মক দুর্ঘটনার অন্যান্য কারণ হলো- পতন, পিছলে পড়ে যাওয়া, বিষক্রিয়া বায়ূ চলাচল হয় এমন স্থানে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা উচিত,বাথরুমে পিছলে যায় না এমন ম্যাট ব্যবহার করা উচিত।
৪. স্ট্রোক : স্ট্রোকের কিছু ঝুঁকি আছে, যা পরিবর্তন করা যায় না। যেমন- পারিবারিক ইতিহাস, বয়স ও গোত্র। তবে আরও কিছু ঝুঁকি আছে যেগুলো বেশ বদলানো যায়। এক্ষেত্রে- ধূমপান করা ঠিক নয়। রক্তচাপ বেশি হলে বা রক্তে কোলেস্টেরল মান বেশি থাকলে চিকিৎসকের চিকিৎসা ও পরামর্শ মেনে চলা উচিত। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা উচিত। প্রতিদিনের দিন যাপনে ব্যায়াম অবশ্যই থাকা উচিত। ডায়াবেটিস যদি থাকে,তাহলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৫. সিওপিডি : শ্বাসযন্ত্রের ক্রনিক রোগ যেমন-ব্রংকাইটিস এবং এমফাইসেমা-এদের বলে সিওপিডি। পুরো মানে করলে দাঁড়ায় কুনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। এ রোগ ঠেকাতে হলে- ধূমপান কখনোই নয়। রাসায়নিক বস্তু এবং বায়ূ দূষণের মুখোমুখি যত কম হওয়া যায় ,ততই মঙ্গল।
৬. টাইপ ২ ডায়াবেটিস: সচরাচর ডায়াবেটিস টাইপ ২ ডায়াবেটিস রক্তে সুগার বেড়ে যায়। একে নিয়ন্ত্রণ না করলে হয় নানা রকমের জটিলতা, হৃদরোগ, অন্ধত্ব, ¯œায়ূ রোগ, কিডনি রোগ। একে প্রতিরোধ করতে হলে- শরীরে বাড়তি ওজন থাকলে তা ঝরাতে হবে। ফল, শাকসবজি ও কম চর্বি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। দৈনন্দিন জীবনযাপনে থাকবে অবশ্যই ব্যায়াম।
৭. ফ্লু : ইনফ্লুয়েঞ্জা হলো সচরাচর একটি ভাইরান সংক্রমণ। সুস্থ শরীরের মানুষের জন্য ফ্লু এত গুরুতর নয় বটে, তবে ফ্লুর জটিলতা কখনো কখনো মারাত্মক হতে পারে, বিশেষ করে যাদের দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা যাদের ক্রনিক রোগ রয়েছে। ফ্লু থেকে রক্ষা পেতে হলে বছরে একবার ফ্লুর টিকা নিতে হবে।
৮.আত্মহত্যার মতো দুর্ঘটনা: পুরুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বড় একটি হলো আত্মহত্যা। অনেক দেশে, সমাজে পুরুষের মধ্যে আত্মহত্যার কারণ হলো বিষণœতা। মন বিষণœ মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৯. কিডনির রোগ : ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের প্রথম জটিলতা হলো কিডনি বিকল হওয়া। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া- স্বাস্থ্যকর আহার। লবণ কম খেতে হবে। প্রতিদিন ব্যয়াম। ওজন বেশি থাকলে ওজন ঝরানো। ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ।
১০. আলঝাইমারস : এই রোগ প্রতিরোধ করার কোন প্রমাণিত উপায় নেই। তবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়- হৃদযন্ত্রের যতœ নেওয়া ভালো। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক,ডায়াবেটিস উচুমান কোলেস্টেরল থাকলে আলঝাইমার রোগের ঝুঁকি বাড়ে। মাথায় যাতে আঘাত না লাগে, সতর্ক থাকা উচিত। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা উচিত। মানসিক ফিটনেস বজায় রাখতে হবে। মগজ খেলানোর জন্য চর্চা, ব্যায়াম, শেষ কথা : স্বাস্থ্যের ঝুঁকিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ঝুঁকিগুলোকে মনে হবে ভয়ের কিছু, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য যা কিছু দরকার তা করা উচিত।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  •   হৃদরোগীদের খাবার-দাবার
  • ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়
  • মুখে ঘা হলে করণীয়
  • পায়ের গোড়ালি ব্যথায় কী করবেন
  • নীরব রোগ হৃদরোগ
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে অর্শের চিকিৎসা
  • অনিদ্রার অন্যতম কারণ বিষন্নতা
  • রক্তশূন্যতায় করণীয়
  • চোখে যখন অ্যালার্জি
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
  • রোগ প্রতিরোধে লেবু
  •  স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন
  • শিশুর উচ্চতা কমবেশি কেন হয়
  • গরমে পানি খাবেন কতটুকু ডা. তানজিয়া নাহার তিনা
  • অধূমপায়ীদের কি ফুসফুসের রোগ হয়?
  • বিষন্নতা একটি মানসিক রোগ
  • ঘাতক ব্যাধি এইডস : ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ
  • স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন পুরুষও
  • মেপে খান মাংস
  •  গরমে ঘামাচি থেকে রক্ষা পেতে
  • Developed by: Sparkle IT