স্বাস্থ্য কুশল

পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে অর্শের চিকিৎসা

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৯-২০১৮ ইং ০২:২৬:৪৫ | সংবাদটি ২৪৮ বার পঠিত

মলদ্বারে বলি উঠে। কখনো বলির উপস্থিতি হাতে অনুভব করা যায়, কখনো বলি মলদ্বারের ভিতরের দিকে হয় বলে হাতে অনুভব করা যায় না। এই রোগীদের কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে। মলদ্বারে জ্বালা, অস্বস্তিকর যন্ত্রণা। পায়খানায় রক্ত মিশ্রিত মল নির্গত হয়। কখনো পায়খানার শেষে ফোঁটা ফোঁটা তাজা রক্ত ঝরতে থাকে। অর্শ একটি মারাত্মক রোগ। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, এমন কোন রোগ নেই যা অর্শের সাথে যোগ রাখে না। গোটা দেহই অর্শের জ্বালা ভোগ করে। রোগ আল্লাহ দিয়েছেন, নিরাময়ও একমাত্র তাঁর কাছেই রয়েছে। নিরাময়কে তিনি আমাদের জন্য সহজ করে আমাদের হাতের নাগালেই দিয়েছেন। আমাদের চারপাশের গাছগাছড়ার মধ্যেও আল্লাহ তায়ালা অনেক নিরাময় রেখেছেন, আমরা জেনে নিয়ে সুফল পেতে পারি। একটি কথা মনে রাখার প্রয়োজন, যা মানুষের খুব বেশী প্রয়োজন, আল্লাহ তায়ালা তা খুব সহজলভ্য করে দিয়েছেন, যেমন,- পানি, বাতাস, সূর্যের আলো ইত্যাদি। আসুন জেনে নেই কিভাবে সহজে আমরা অর্শ রোগ থেকে নিরাময় পেতে পারি :
১। নিম : নিম ফলের শাঁস ৭টি। প্রতিদিন ভোরে পানিসহ চিবিয়ে খেতে হবে।
২। মেহেদী পাতা : তাজা মেহেদী পাতা ১২ গ্রাম ও ভাজা সোহাগা ১২৫ মি. গ্রা.। মেহেদী পাতা পানিতে পিষে নিয়ে সোহাগা চূর্ণ মিশিয়ে নিতে হবে। তা প্রতিদিন দুই বার সেবন করতে হবে।
৩। কামরাঙা : পাকা কামরাঙা খেলে রক্ত অর্শে খুব উপকার হয়।
৪। তেঁতুল: পুরনো তেঁতুল সিদ্ধ করে পানি খেলে অর্শ ভাল হয়ে যায়। ৩-৪ গ্রাম তেঁতুলের কচি পাতাকে সিদ্ধ করে সরবত বানিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
৫। শিমুল: শুকনো ফুল ৩ গ্রাম, পোস্তদানা ৩ গ্রাম ও ছাগলের দুধ আধা কাপ তিন কাপ পানির সাথে মিশির জ্বাল দিন। আধা কাপ থাকতে নামিয়ে ঠান্ডা করে চটকে নিন। ছেঁকে এটাকে সকাল বিকাল খেলে অর্শ ভাল হয়ে যায়।
৬। হরিতকি : হরিতকি গুড়া ৩-৫ গ্রাম পরিমাণ ঘোলের সাথে একটু সৈন্ধব লবন মিশিয়ে খেলে অর্শ সেরে যায়। রক্ত অর্শে আখের গুড়ের সাথে হরিতকি গুড়ো মিশিয়ে খেলে রোগ ভাল হয়ে যায়।
৭। আকন্দ : যাদের অর্শের বলি বাইরে বেরিয়ে আছে। তাদের আকন্দ পাতকার গুড়ো আগুনে দিয়ে সেই ধুম লাগালে কয়েকদিনের মধ্যে বলি চুপসে যাবে।
৮। গন্ধবিরজা : ৭ গ্রাম গন্ধবিরজা নিয়ে সকালে খালিপেটে পানি সহ সেবন করুন।
৯। রীঠা : রীঠার পোড়ানো খোসা ও খয়ের সমপরিমাণ নিয়ে একসাথে চূর্ণ করে নিতে হবে। ৫০০ মিঃ গ্রাঃ থেকে ১ গ্রাম পর্যন্ত দিনে ২ বার সেবন করতে হবে।
১০। বেগুন : বেগুন শুকিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে নিতে হবে। ঐ ছাই অর্শ বলিতে লাগাতে হবে।
১১। কুঁচিলা : কুঁচিলা পানি সহ পাথরে ঘষে অর্শ বলিতে লাগাতে অর্শ ভাল হয়ে যায়।
১২। ধনে পাতা : তাজা ধনে পাতা ২ গ্রাম গেরুমাটি ১ গ্রাম একসাথে পিষে প্রলেপ দিতে হবে।
১৩। লাউ : পায়খানা পরিস্কার হচ্ছে না। চটচটে মল যাচ্ছে সাথে দু এক ফোটা রক্তও ঝরছে অসহ্য যন্ত্রণা। তখন লাউ ঝলসিয়ে পোড়া লাউয়ের রস চিনি সহ খেলে খুব উপকার হয়।
১৪। বেল : কাঁচা বেল পোড়া শাঁস সাদা দইয়ের ঘোলে মিশিয়ে খেলে উপকার হয়।
১৫। অনন্তমূল : ৩ গ্রাম অনন্তমূল পানিতে বেটে দুধের সাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে সেই দুধ দই পেতে পরের দিন সকালে খেলে খাওয়ার রুচি হবে, ক্ষুধা বাড়বে এবং অর্শ রোগ ভাল হয়ে যাবে।
১৬। বেতোশাক : বেতোশাকের ৩-৪ চামচ রস আধা গরম করে দুধ মিশিয়ে খেলে অর্শের রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
১৭। পেঁয়াজ : অর্শের রক্ত পড়া বেশী হলে এক চামচ পেঁয়াজের রস সম পরিমাণ পানি সহ মিশিয়ে নিয়মিত খেতে হবে।
১৮। ঘৃতকুমারী : ৫-৭ গ্রাম ঘৃতকুমারীর শাঁস একটু ঘি মিশিয়ে দু’বেলা খেলে পায়খানা পরিস্কার হয় এবং অর্শে উপশম হয়।
১৯। অশোক : মলদ্বারে ব্যথা নেই কিন্তু রক্ত ঝরছে। অশোক ছাল কুটে ১ গ্লাস গরম পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেকে দুবেলা খেতে হবে।
২০। কুল : পায়খানার পর মলদ্বার দপদপ করছে, বসতে অস্বস্তি লাগছে। ১০-১২ গ্রাম কুল পাতা সিদ্ধ করে ছেঁকে ন্যাকড়া ভিজিয়ে কাথটা লাগালে উপশম হয়।
২১। পেঁপে : কাঁচা পেঁপের আঠা ৫-৭ ফোঁটা বাতাসার মধ্যে ভরে সকালে খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই অর্শ ভাল হয়ে যায়।
২২। তিল : ২০ গ্রাম তিল ৫০০ মিঃলিঃ পানিতে সিদ্ধ করে ১-৩ অংশ কমিয়ে পেষ্ট বানিয়ে প্রলেপ দিলে অর্শ ভাল হয়।
২৩। আাদা : আধা চা চামচ আদার রস ১ চা চামচ চুনের পানি ও পুদিনা পাতার রস ১ চামচ মধু সহ সেবন করলে অর্শ ভাল হয়।
২৪। করলা : ৩ চামচ করলা পাতার রস মাঠার সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকাল বেলা খেলে উপকার পাওয়া যায়।
২৫। শালগম : শালগম পাতার রস ১৫০ মিঃলিঃ প্রতিদিন খেতে হয়।
২৬। আম : আমের বীজ রক্ত অর্শে খুব উপকারী। আমের বীজ ছায়ায় শুকিয়ে গুড়ো করে রেখে দিন। এক থেকে দেড় গ্রাম প্রতিদিন সেবন করুন।
২৭। ডুমুর : ৩-৪ টি ডুমুর ভালভাবে ধৌত করে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পানি সহ খেয়ে নিন। একই ভাবে সকালে ভিজিয়ে রেখে বিকালে সেবন করুন।
২৮। শিশু গাছ : পায়খানার সাথে প্রায়ই রক্ত পড়ে। এ ক্ষেত্রে শিশু গাছের শুকনো ছাল ৫ গ্রাম (কাঁচা হলে ১০ গ্রাম) থেঁতো করে ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে প্রতিদিন একবার খেলে রোগ ভাল হয়।
২৯। শালুক : শালুকের মূল ২০-২৫ গ্রাম সিদ্ধ করে প্রতিদিন একটু ঘি ও লবনের সাথে খেলে উপকার হয়।
৩০। গাঁদাফুল : গাঁদাফুলের পাপড়ির রস ১ চা চামচ। একটু মাখনের সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বেলা খেলে রক্তপড়া ও যন্ত্রণা বন্ধ হয়ে যাবে।
৩১। কাঞ্চন : কাঞ্চন ছালের গুড়ো ৫০০ মিঃগ্রাঃ টাটকা দই দিয়ে প্রতিদিন একবার খেলে উপকার হয়।
৩২। মাষকলাই : ১০ গ্রাম মাষকলাই ৪-৫ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এককাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সকালে ও বিকালে খেলে এবং তুলায় ভিজিয়ে অর্শের বলি মুছে দিলে রোগ ভাল হয়ে যায়।
৩৩। দারুচিনি : সিকি গ্রাম দারুচিনি একট মাখনের সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার খেলে অর্শ ভাল হয়।
৩৪। আপাং : আপাং গাছের রস উপকারী। মলদ্বারে বাইরে অর্শের বলি দেখা যায় না। অথচ অর্শ আছে। এ অবস্থায় আপাং গাছের ভস্ম এক গ্রাম করে দিনে দুই বার আহারের পর খেতে হবে।
৩৫। লজ্জাবতী : জ্বালা বেশী, রক্তস্রাব ও বেশী। এমন হলে ১০ গ্রাম লজ্জাবতী গাছ ও শিকড় এক কাপ দুধ ও ৩ কাপ পানির সাথে সিদ্ধ করে ১ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সকাল বিকাল ব্যবহার করতে হবে।
৩৬। কুরচি : কুরচির ছাল ১০ গ্রাম কুটে চার কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এককাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে দিনে ২ বার ব্যবহার করলে অর্শ ভাল হয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT