সম্পাদকীয়

কৃষিজমি সুরক্ষা জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৯-২০১৮ ইং ০০:২৭:৪৯ | সংবাদটি ১৫৬ বার পঠিত

গত ৪০ বছরে দেশের কৃষিজমি কমেছে প্রায় অর্ধেক। ১৯৭১ সালে দেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিলো দুই কোটি ১৭ লাখ একর। ২০১২ সালে এই জমির পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৫৪ হাজার একর। এর মধ্যে বসতবাড়ি নির্মাণে কৃষিজমি কমেছে ৮০ শতাংশ। আর ইটভাটা খেয়েছে ১৭ শতাংশের বেশি জমি। এভাবে কমতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞগণ যেখানে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং ইটভাটা স্থাপন বন্ধ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রচলিত ইটভাটা অর্থাৎ মাটি দিয়ে ইট তৈরির প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এর বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী কংক্রিট ব্লক নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। ইটের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করলে ভবন নির্মাণে ৩০ শতাংশ ব্যয় সাশ্রয় হবে। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তাগণ এ কথা বলেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি ও জলাশয় ভূমি। এই জমি আবাসন নির্মাণ, ইটভাটা, তামাক চাষসহ অন্যান্য অকৃষি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। যা ভবিষ্যতে দেশের জন্য খাদ্য ঘাটতির অশুভ সংকেত হিসেবে রূপ নিচ্ছে। এই প্রবণতা দূর করার জন্য জমি কেনাবেচা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর আইন তৈরি করা প্রয়োজন বলে বুদ্ধিজীবীগণ অভিমত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে অচিরেই এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মূলত পরিকল্পনাহীন নগরায়নের ফলে কৃষিজমিতে নির্মিত হচ্ছে আবাসন ও শিল্প কারখানা। ইটভাটার জন্যও প্রতি বছর হাজার হাজার একর আবাদি জমি অনাবাদি জমিতে পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দশকে দেশে কৃষিজমির ব্যাপক সংকট হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। অথচ এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সরকারের কোন সমন্বিত পদক্ষেপ নেই। নেই আধুনিক বাস্তবসম্মত কোন আইনও। সবচেয়ে বড় কথা আবাসন সমস্যা নিরসনে বেশীর ভাগ কৃষিজমি বিনষ্ট হচ্ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন হচ্ছে নতুন নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণের। তখন হাত পড়ছে কৃষিজমির ওপর।
কৃষিজমি অকৃষি খাতে ব্যবহারের এই ধারাবাহিকতা বন্ধ করতে হবে। আর তাই দরকার কঠোর আইন। বন্ধ করতে হবে অপরিকল্পিত নগরায়ন। মফস্বলে কৃষিজমিতে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। তাছাড়া, ইটভাটা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি বিনষ্ট করছে। অর্থাৎ কৃষিজমির টপ সয়েল উপরিভাগের মাটি দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ইট। এতে জমির উর্বরা শক্তি বিনষ্ট হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মাটি দিয়ে ইট তৈরির পদ্ধতি পরিহার করতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। কিন্তু তা মানছে না কেউ। কৃষিজমি সুরক্ষার পাশাপাশি মাটি দিয়ে তৈরী ইটের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব কংক্রিট ব্লক দিয়ে বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT