ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সিলেটে মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সাহিত্য সাময়িকী

সেলিম আউয়াল প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৯-২০১৮ ইং ০০:১২:৫২ | সংবাদটি ১৭৪ বার পঠিত

‘মুসলমান সম্পাদিত সিলেটের প্রথম সাহিত্য সাময়িকী’ বাক্যটির মধ্যে কেউ সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু এটি একটি বাস্তব ঘটনা। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আ¤্রকাননে স্বাধীনতার সূর্য ডুবে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এই উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের বিদায়ের ঘন্টা বেজে উঠে। তখন রাজভাষা ছিলো ফারসি। কিন্তু ব্রিটিশরা শাসন ক্ষমতা নিজেদের হাতে নেবার পর ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ফারসির বদলে ইংরেজিকে রাজভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। মুসলমানদের মধ্যে যারা লেখাপড়া জানতো, তারা মুলত আরবি-ফারসিই জানতো। দেশ দখলকারী, স্বাধীনতা হরণকারী নছরা’র জবান মুসলমানরা শিখবে কি না এই দ্বন্দ্বে ভুগছে, এই সময়কালে হিন্দু যুবকরা দ্রুত ইংরেজি শিখে নেয়। ফলে দেশের সমস্ত রাজকার্য প্রধানত হিন্দু কলেজের শিক্ষিত যুবকদের হাতে চলে যায়। চাকরির ক্ষেত্রে, অর্থনীতির ক্ষেত্রে মুসলমানরা পড়ে যায় পেছনে। পড়াশোনা শেখার জন্যে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় ও প্রেরণা। কিন্তু মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় তারা বিত্ত, বিদ্যা ও শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত হয়ে পেছনে পড়ে যায়। শুধু ইংরেজি নয়, বাংলা ভাষা চর্চা নিয়েও মুসলমানদের মধ্যে একটি দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিলো। তখন মুসলিম সমাজের শীর্ষ পর্যায়ের মানুষজন ফারসি-উর্দু চর্চা করতেন। এজন্যে পৃষ্ঠপোষকতাহীন অসংগঠিত বাঙালি মুসলমানেরা বাংলা ভাষার চর্চায়ও নিরুৎসাহিত হন। মুসলমানদের একটি বিরাট অংশ বাংলা ভাষা থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেয়। ‘যদিও বাংলা সাহিত্যের চর্চায় হিন্দু ও মুসলমানের আগমন ঘটে প্রায় একইকালে।’ চর্যাপদ ১৩ শতকে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালের রচনা এবং এর ভাষাও খাঁটি বাংলা নয়। খাঁটি বাংলায় সর্বজনস্বীকৃত লিখিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম নিদর্শন বাসুলির সেবক অনন্ত্য বড়– চন্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ আর, মুসলমান রচিত প্রথম কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ-জোলেখা’ প্রায় সমসাময়িক কালের রচনা। তবুও এই প্রেক্ষাপটেও কিছু কিছু মুসলমান বাংলা ভাষা চর্চা করতে থাকেন।
উনিশ শতকে এই উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে একটি রেনেসাঁস দেখা গেলেও তা ছিলো মুলত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই রেনেসাঁস হিন্দুদেরকে এগিয়ে দেয় অনেক দূর, মুসলমানদের চেয়ে। এই রেনেসাঁস সৃষ্টিতে বাংলা সাময়িকীগুলো পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তবে এইসব সাময়িকীর সম্পাদক, মালিক, প্রকাশক সবাই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তবুও এই সকল সাময়িকীর প্রভাব মুসলমানদের উপরও পড়ে। এজন্যে উনিশ শতকের সত্তর দশকের গোড়ার দিকে মুসলমানদের মধ্যে সাময়িকী প্রকাশের ধারা সূচিত হয়। বিশ শতকের প্রথম দিকেই মুসলমানরা সাময়িকী সম্পাদনার দিকে বেশ ঝুঁকে পড়ে। এই ধারাটি বিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং পত্রপত্রিকা সাময়িকী প্রকাশের সংখ্যাও যথেষ্ট বাড়তে থাকে। এই দশকেই ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পূর্ববঙ্গের মুসলমান সমাজে নতুন মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় গড়ে উঠার পথ খুলে যায়। কলকাতার পাশাপাশি ঢাকাও সাংস্কৃতিক কেন্দ্ররূপে বিকশিত হয়। প্রাগ্রসর হিন্দু সমাজের অনুকরণে মুসলমানদের মধ্যেও নানান সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার বলেছেন,‘হিন্দু কলেজ ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হিন্দুদের এবং আলীগড় কলেজ ও আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের মুসলমানের শিক্ষা ও সংস্কৃতির যেরূপ উন্নতির কারণ, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও পূর্ববঙ্গ ও আসামের মধ্যবিত্ত মুসলমান সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঠিক সেইরূপই উন্নতি সাধন করিয়াছে।’ এই দশকেই ঢাকা কেন্দ্রিক বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এবং ‘শিখা’ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠিত হয়। শিখার প্রথম সংখ্যাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল থেকে আবদুল কাদের প্রকাশ করেছিলেন ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজের তরফ হতে’। ‘পত্র-পত্রিকা বের করে বাঙালি মুসলমানেরা সামাজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা তথা মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করলেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চায় তাঁরা দক্ষতা দেখাতে পারেননি। ১৯৩০ পর্যন্ত মুসলমান সমাজে এই বিতর্ক অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে চলেছিলো যে, তাঁদের মাতৃভাষা কি হওয়া উচিতÑউর্দু না বাংলা! ১৯২৭ সনে প্রকাশিত ‘শিখা’ এবং ১৯৩৩ সনের বুলবুল-এ এই বিতর্ক চলে বলে অনুমান করা চলে যে,বাংলা সাহিত্যচর্চায় মুসলমানেরা কেনো দক্ষতা দেখাতে দেরী করেছিলেন।’ তবে ১৯২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত সময়ে মুসলমানদের দ্বারা অনেকগুলো সাময়িকী বের হয়। এইসব সাময়িকীর প্রভাবে রাজনীতি-সমাজ-শিক্ষা-অর্থনীতিতে পিছিয়ে মুসলমানদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়, এগিয়ে যাওয়া হিন্দুদের পাশে দাঁড়াবার ইচ্ছে-শক্তি জেগে উঠে। যার পরিণতিতে বাঙালি মুসলমানকে সার্বিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। তারপর একসময় পূণর্জাগরণ শুরু হয়। মুসলিম লীগ, কাজী নজরুল, মোহামেডান, আব্বাস উদ্দীন এইসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মাধ্যমে মুসলমানদের সাংস্কৃতিক রেনেঁসার সূচনা হয়। বিশেষ করে কবি নজরুলের আত্মপ্রকাশ মুসলমানদের জাগরণকে ত্বরান্বিত করেছিলো। ১৯১১ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ। পূণর্জাগরণের ঢেউ লাগে আসাম বাংলার শহর সিলেটেও এবং এরই একটি ধাপ আল ইসলাহ’র মতো একটি সাহিত্য সাময়িকীর প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের গোড়াপত্তন।
প্রখ্যাত গবেষক ইসরাইল খান তার ‘মুসলিম সম্পাদিত ও প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকা (১৯৩১-৪৭)’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ-এর উপক্রমণিকা’য় বলেছেন, ‘কাজী নজরুলের সাহিত্যচর্চার সূচনাকালে এবং কিঞ্চিৎ পরে (১৯১৮ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত ধরা যাক) মুসলমান সমাজের মধ্যে ঐতিহাসিক গুরুত্ব লাভকারী কতিপয় পত্রপত্রিকা ঝট্পট্ প্রকাশিত হয়ে যায়। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮); সওগাত (১৯১৮); -আল-ইসলাহ (১৯৩২); -বুলবুল (১৯৩৩); -প্রভৃতি এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সাতচল্লিশের বিভাগ পূর্ববর্তীকালে মুসলমান সমাজ থেকে প্রকাশিত খ্যাতিলাভকারী সাহিত্যপত্রিকা বলতে এগুলোর নামই কতে হয়। উপরিউক্ত পত্রপত্রিকাই প্রধানত সক্রিয় ও নিয়মিতভাবে পাঠকমন গঠন করার উদ্দেশ্যে ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে উপস্থাপিত হয়।’
আল ইসলাহ’র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক হচ্ছেন মুহম্মদ নূরুল হক। তার বাড়ি সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর গ্রামে। তিনি যখন সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় বার্ষিক শ্রেণীর ছাত্র, তখন হাতে লিখে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা বের করতেন। পত্রিকার নাম ছিলো অভিযান। তারপর ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে নূরুল হক তার বন্ধুদের সহযোগিতায় আল ইসলাহ নামে একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বের করেন। অবশ্য আল ইসলাহ পত্রিকাটি অভিযান নামে বের করার কথা ছিলো। আল ইসলাহ-এর প্রথম সংখ্যায় অভিযান-এর পরিবর্তে ‘আল ইসলাহ’ নাম রাখার ব্যাপারে ব্যাখা দিয়েছেন, সম্পাদক। আল ইসলাহ-এর প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যায় ‘সম্পাদকের খাছ মহল’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে ‘কৈফিয়ত’ শিরোনামে সম্পাদক বলেন, ‘এতদিন যাবত আমরা ‘অভিযান’ (ত্রৈমাসিক) বাহির করিব বলিয়া পত্রিকা স্তম্ভে বিজ্ঞাপন দিয়া আসিতেছিলাম। কিন্তু সমাজের বিভিন্ন স্তর হইতে এই পত্রিকার নাম পরিবর্তন করিয়া ইসলামী কোনও নামে উহাকে মাসিক আকারে বাহির করিতে তাকিদ পাই। ইত্যাকার নানা দিক দিয়া বিবেচনা করিয়া আমরা উহাকে ‘আল ইসলাহ’ নাম দিয়া মাসিক আকারেই বাহির করিলাম। এখন সহৃদয় মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ উহাকে ¯েœহের চক্ষে নিরীক্ষণ করিলেই সে তার কর্তব্য পথে যাত্রা করিবে। আল ইসলাহ যদিও ক্ষুদ্র কলেবরে বাহির হইল কিন্তু সমাজের সহানুভূতির সাথে সাথে আমরা উহাকে ক্রমশঃ বর্দ্ধিত কলেবরে বাহির করিবÑইনশা আল্লাহ।’
আল ইসলাহ’র প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যা বের হয় শাবান ১৩৫১ হিজরি, অগ্রহায়ণ-১৩৩৯ বাংলা (নভেম্বর-ডিসেম্বর ১৯৩২) মাসে। সম্পাদক : মোহাম্মদ নূরুল হক দশঘরী। অফিসÑ রিকাবী বাজার, সিলহেট্। তৃতীয় বর্ষ চতূর্থ সংখ্যার পর সম্পাদকের নাম থেকে ‘দশঘরী’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। ৫ম বর্ষ ১ম সংখ্যা থেকে সম্পাদকের নামের প্রথম শব্দ ‘মোহাম্মদ’-এর পরিবর্তে মুহম্মদ লেখা হয়েছে। ‘আল ইসলাহ’-এর কভার পৃষ্ঠার পরই শুরুতে লেখা থাকতোÑ‘ইসলাম আল্লার একমাত্র মনোনীত ধর্ম্ম।’ (কুরআন) পরে অফিস দরগাহ মহল্লায় স্থানান্তরিত হয়। প্রথমাবস্থায় মোহাম্মদ মকবুল হোসেন চৌধুরী সম্পাদিত সিলেটের সাপ্তাহিক যুগভেরীর নিজেদের ছাপাখানা ‘মিনার প্রেস’ থেকে আল্ ইসলাহ নিয়মিত ছাপা হতো।
আল ইসলাহ পত্রিকাটি ধর্মীয় নামের হলেও সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি সবগুলো বিষয় নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতো। পত্রিকাটি মুসলিম জাতীয়তাবাদী (স্বাতন্ত্র্যবাদী), ধর্মীয় পুনর্জাগরণবাদী ধারার হলেও তার ছিলো মানবতাবাদী প্রগতিশীল উদারনৈতিক বৈশিষ্ট্য। পত্রিকাটি এজন্যে স্থানীয় মুসলিম জনমানসে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সিলেট আসাম অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় মুসলিম নেতৃবৃন্দকে আকৃষ্ট করতে, উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয় ‘আল ইসলাহ’। ধীরে ধীরে সিলেটসহ আসাম অঞ্চলের মুসলিম সমাজের বিশেষ প্রিয় হয়ে ওঠে পত্রিকাটি। আল ইসলাহ এ অঞ্চলের মানুষের উপর কতোটুকু প্রভাব ফেলেছিলো অনুমান করা যায় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে। এই আল ইসলাহকে কেন্দ্র করেই মুসলিম সাহিত্য সংসদের গোড়াপত্তন।
গবেষক ইসরাইল খান বলেছেন, ‘বাঙলা-বিহার-আসাম-বার্মার মুসলমানদের মধ্যে যে-কজন মহৎপ্রাণ-ব্যক্তি সমাজের কল্যাণ-চিন্তায় নিতান্ত দরিদ্র হওয়া সত্বেও, কেবল নিজের সমাজ-হিতৈষণা, সাহিত্যপ্রেম, শ্রম ও অধ্যাবসায় সম্বল করে সাফল্যের চূড়া স্পর্শ করেছিলেন, তাদের মধ্যে আল-ইসলাহ-সম্পাদক মুহম্মদ নূরুল হক (১৯০৭-৮৭) অন্যতম। তিনি আপন সাংগঠনিক প্রতিভাবলে একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম-সাহিত্যপত্রিকা (মাসিক আল-ইসলাহ) এবং সিলেটের ‘কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ’ গড়ে তুলেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি এখনও সমাজকে দান করে যাচ্ছে।’ নূরুল হক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে মুসলমানদেরকে সংশ্লিষ্ট করার জন্য প্রাণান্ত সাধনা করেন। আল ইসলাহ হয়তো সেই সময়ের মোহাম্মদী সওগাত বুলবুলের মতো এতো চৌকষ নয়, কিন্তু এর ইনার স্ট্রেংগথ লক্ষণীয়। সেই সময়ের মুসলমানদেরকে জাগিয়ে তোলার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার একটি প্রামাণ্য দলিল।
বাংলাদেশে এখন বোধ হয় সবচেয়ে পুরনো সাহিত্য পত্রিকা ‘আল-ইসলাহ’। পত্রিকাটি প্রকাশের ৮৬ বছর পেরিয়ে গেলো। আর কিছু দিন কাটলেই আল-ইসলাহ শতবর্ষী হবে। বাংলাদেশে এতো পুরনো সাহিত্য পত্রিকা আছে বলে মনে হয় না। পত্রিকাটি মাসিক হলেও নিয়মিতভাবে প্রতিমাসে বের হয়েছে খুব কম সময়। কখনো দু’মাসে, কখনো ৩/৪ মাসে। মুহম্মদ নূরুল হক পরবর্তী সময়ে আল ইসলাহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারীরা হচ্ছেন রাগিব হোসেন চৌধুরী (১৯৯৪Ñ১৯৯৮), ডা. আবদুল হাই মিনার (১৯৯৯-২০০০), আজিজুল হক মানিক (২০০১-২০০২), আবদুল হামিদ মানিক (২০০৩Ñ২০০৬), সেলিম আউয়াল (২০০৭Ñ২০১০), নাজমুল আনসারী (২০১১-২০১২), সৈয়দ মুমিন আহমদ মবনু (২০১৩-২০১৪), এডভোকেট আবদুস সাদেক লিপন (২০১৫-২০১৬), এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি (২০১৭Ñ অদ্যাবধি)। তবে এসময়ে এম এ করিম চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে আল-ইসলাহর একটি সংখ্যা (জুলাই ১৯৯৮) বের করেছিলেন।
আল ইসলাহ একদল লেখক সৃষ্টিতে সাহিত্যের লালনে প্রয়োজন মাফিক রাজনৈতিক ভূমিকার মাধ্যমে ব্রিটিশ পরাধীনতার জিঞ্জির ছিন্ন, ‘৪৭-এর গণভোট, মহান ভাষা আন্দোলনসহ পরবর্তীকালেও মুহম্মদ নূরুল হক মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত একটি অগ্রসর সমাজ বিনির্মাণে আল ইসলাহের মাধ্যমে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে গিয়েছেন। এটি তার উত্তরসূরীদের জন্য এক চরম পাওয়া এবং তার যথার্থ মূল্যায়নের মাধ্যমে তার প্রতি তার উত্তরসূরীদের কৃতজ্ঞতার পুস্পবৃষ্টি ঝরবে দিনের পর দিন। বিশেষ করে একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে সীমিত পরিসরে হলেও ভাষা আন্দোলনে আল ইসলাহ স্পষ্ট বক্তব্য রাখতে সমর্থ হয়। আল ইসলাহ সম্পাদক মূহম্মদ নূরুল হক ১৯শে মার্চ ১৯০৭ সালে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। (সিলেট প্রেসক্লাব ফেলোশিপ প্রবন্ধ ২০১৮)

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • সাত মার্চের কবিতা ও সিলেট বেতার কেন্দ্র
  • পার্বত্য তথ্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সিলেটের প্রাচীন ‘গড়’ কিভাবে ‘গৌড়’ হলো
  • ৮৭ বছরের গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় জিন্দাবাজার
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের কিছু ঘটনা
  • খাদিমনগরে বুনো পরিবেশে একটি দিন
  • ফিরে দেখা ৭ নভেম্বর
  • শ্রীরামসি গণহত্যা
  • প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের ধারক মৃৎশিল্প
  • বিপ্লবী লীলা নাগ ও সিলেটের কয়েকজন সম্পাদিকা
  • গ্রামের নাম আনোয়ারপুর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বিবি রহিমার মাজার
  • তিন সন্তানের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি
  • হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর ও দীঘি
  • শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বিলুপ্তির পথে সার্কাস
  • Developed by: Sparkle IT