সম্পাদকীয়

পরিবেশ দূষণে মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৯-২০১৮ ইং ০০:১৭:০৭ | সংবাদটি ১২৯ বার পঠিত

বছরে আশি হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে পরিবেশ দূষণজনিত রোগে। এক বছরে সারাদেশে বিভিন্ন রোগে বা চিহ্নিত কারণে যতো মৃত্যু হয়, তার ২৮ শতাংশই হয় পরিবেশ দূষণজনিত রোগে; যা প্রতি বছরে বৈশ্বিক দূষণজনিত মৃত্যুহারের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। বিশ্ব ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইতোপূর্বে দেশী-বিদেশী দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণায় বলা হয়- বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে এক লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। দুটি প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এলেও এদেশে পরিবেশ দূষণ বা বায়ু দূষণ যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এটা স্পষ্ট হয়েছে। গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে বায়ু দূষণ; আর বায়ু দূষণের বড় অংশ হচ্ছে ধুলা। তাদের মতে, বর্তমানে দেশে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের প্রকোপ দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে বায়ুর সঙ্গে মিশে থাকা নানা রাসায়নিক দূষণ।
বায়ু দূষণ অবশ্য সারা বিশ্বের জন্যই এখন চিন্তার বিষয়। বায়ু দূষণ বা পরিবেশ দূষণজনিত রোগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রতি বছর যতো সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, তার মধ্যে বেশি প্রাণহানি ঘটে বাংলাদেশে। এরপর রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল। বিশ্ব ব্যাংকের মতে বাংলাদেশে ২০১৫ সালে বিভিন্ন রোগ ও কারণ চিহ্নিত করা মৃত্যু হয়েছে আট লাখ ৪৩ হাজার মানুষের। যার মধ্যে দুই লাখ ৩৪ হাজারের মৃত্যু হয়েছে পরিবেশ দূষণজনিত রোগে। পরিবেশ তথা বায়ু দূষণজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে নারী, শিশু ও দরিদ্র শ্রেণি। বিশেষ করে মনুষ্য সৃষ্ট বর্জ্য ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য, নারী, শিশু ও দরিদ্র শ্রেণিকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। বায়ু, ধোয়া ও ধুলা দূষণজনিত কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, এর মধ্যে রয়েছে- শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, যক্ষ্মা, হাঁপানী, চক্ষুরোগ, ব্রংকাইটিস ইত্যাদি। এমনকি ক্যান্সারের মতো দূরারোগ্য ব্যাধিও হতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ খবর হচ্ছে পরিবেশ দূষণ থেকে দূষিত হচ্ছে পানিও।
বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে যায় শীতকালে। এসময় বাতাসে সবচেয়ে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম বস্তুকণা অস্বাভাবিক মাত্রায় থাকে। তাছাড়া, এই সময়ে ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন ধরণের কল-কারখানার মাধ্যমে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। বায়ুর সঙ্গে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো চোখে না দেখা গেলেও মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং নানা ধরণের রোগের জন্ম দেয়।
উল্লেখ করা যেতে পারে, সিলেট মহানগরীসহ আশপাশ এলাকার বায়ু দূষণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। আসছে শুষ্ক মওসুম। নানা কারণে বাতাসে ক্ষতিকর পদার্থের মাত্রা বেড়ে যাবে। বাড়বে মানুষের দুর্ভোগ। তাই বায়ু তথা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সকলকেই সচেতন হতে হবে। বায়ু দূষণের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য আরও কয়েকটি শহরের মতো সিলেটেও স্থাপিত হয়েছে বায়ুমান পরীক্ষা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নগরীর বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেই আমরা আশা করছি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT