সম্পাদকীয় অহংকারী ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। - আল হাদিস

বিশ্ব পর্যটন দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৯-২০১৮ ইং ০০:৪৩:৪৯ | সংবাদটি ১৪৫ বার পঠিত

এসে পড়েছে পর্যটন মওসুম। জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন দর্শনীয় স্থানগুলো। শুধু এ মওসুম নয়, বলা যায় সারা বছরই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের আগমন ঘটে। আর এখন যেহেতু শরৎকাল, এই সময়টিই মূলত বেড়ানোর উপযুক্ত সময়। বেড়ানোকেই বলা হয় পর্যটন। পর্যটন একটি লাভজনক শিল্প। বিশ্বের অনেকগুলো দেশে এই শিল্প থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছে। বিশ্বে অনেক দেশ রয়েছে, যাদের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎসই হচ্ছে পর্যটন। আমাদের দেশে এই শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, বেকারত্ব নিরসনেও তা ভূমিকা রাখবে। অথচ আমাদের পর্যটন শিল্প অবহেলিত। দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে দেশি-বিদেশি এমন পিপাসুদের ভিড় জমে শুষ্ক মওসুমে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর প্রতি ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণ আরও বাড়ানো সম্ভব। আর এই সম্ভাবনাকে উপজীব্য করে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস।
অজানাকে জানার আগ্রহ মানুষের চিরকালের। সেই আগ্রহ থেকেই মানুষ বের হয় ভ্রমণে। সময়ের ব্যবধানে মানুষ এখন শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও যাচ্ছে ভ্রমণে। বরং যতো দিন যাচ্ছে, ততোই মানুষের ভ্রমণের পিপাসা বেড়ে চলেছে। আর অতীতে যেটাকে ভ্রমণ বা বেড়ানো হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হতো, আজ তা-ই হয়েছে পর্যটন। এই পর্যটন এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশে পর্যটনের অবস্থা কী? অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত এই বাংলাদেশে পর্যটনের অসংখ্য স্পট রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। এগুলো আমাদের জাতীয় সম্পদ-গৌরবের বিষয়। এগুলো বহন করছে আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে। এইসব ঐতিহাসিক নিদর্শনকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
সত্যি বলতে কি, পর্যটনের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ আশানুরূপ নয়। নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা দূরের কথা, অনেক সময় বিদ্যমান পর্যটন কেন্দ্রগুলোও ভ্রমণকারীদের জন্য অস্বস্থিকর হিসেবেই আবির্ভুত হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, কুয়াকাটা কিংবা সিলেটের প্রাকৃতিক ঝর্ণা মাধবকুন্ড ও হামহাম জলপ্রপাত, পর্যটন কেন্দ্র জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দিসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নানা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। রয়েছে দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিরাপত্তার ব্যাপারেও পর্যটকেরা সন্তষ্ট নয়। উল্লিখিত পর্যটন স্পট ছাড়াও ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য রয়েছে দেশের আনাচে কানাচে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, পাহাড়-পর্বত, হাওর-বাওর; রয়েছে অনেক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন।
বলতে গেলে পুরো দেশটাই যেন একটা পর্যটন কেন্দ্র। মানে পুরো বাংলাদেশটাকেই বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় এবং দর্শনীয় হিসেবে তুলে ধরা যায়। এর সব ধরনের উপকরণ এখানে রয়েছে। শুধু দরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সুপরিকল্পনা। তবে যে সরকারের একার পক্ষে এই শিল্পের যথাযথ উন্নয়ন সম্ভব, তা নয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। পর্যটন খাতকে উন্নত করতে পারলে রাজস্ব আয়ের নতুন পথ উন্মোচিত হবে। সরকার এবং ব্যক্তি উদ্যোগের সমন্বয়ে বিদ্যমান পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নতুন পর্যটন স্পট তৈরি হোক; বিশ্ব পর্যটন দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT