সম্পাদকীয় অসত্যের দাপট ক্ষণস্থায়ী এবং সত্যের দাপট দীর্ঘস্থায়ী। - হজরত সোলায়মান (রহ.)

তথ্য অধিকার দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৯-২০১৮ ইং ০১:২১:৩৪ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

প্রতিটি নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষে আজ দেশে পালিত হচ্ছে তথ্য অধিকার দিবস। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হবে দিবসটি। তথ্য জানার অধিকার রয়েছে প্রতিটি নাগরিকের। এটা তাদের মৌলিক অধিকার। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা প্রমাণের জন্য তথ্য সরবরাহ করা উচিত। তাছাড়া, বিশ্বায়নের এই যুগে অগ্রসর জাতি ও দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তথ্যের আদান প্রদান নির্বিঘœ এবং আরও ব্যাপক করতে হবে। আর বর্তমান সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং রূপকল্প ’২০২১ বাস্তবায়নে তথ্য জানানো যেমন জরুরি, তেমনি তথ্য জানারও অধিকার রয়েছে সকলের। সেই সঙ্গে সরকারও তথ্যের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপিত হয়েছে তথ্য সেবা কেন্দ্র। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও রয়েছে অনুরূপ তথ্যকেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে আজ দেশে পালিত হচ্ছে তথ্য অধিকার দিবস।
আমাদের সংবিধানও তথ্য জানার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানে বলা হয়েছে, তথ্য চাওয়া পাওয়া এবং তা প্রমাণ করা একটি নাগরিক অধিকার। এই অধিকার ভোগ করতে হলে নাগরিককে অবশ্যই তথ্য জানতে হবে। আর তথ্য জানতে হলে তথ্য চাইতে হবে। তথ্য চেয়েও না পাওয়া গেলে, কেন পাওয়া যাবেনা-তার কারণ জানতে চাইবে জনগণ। আর কর্তৃপক্ষও তা জানাতে বাধ্য থাকবেন। এটাই হচ্ছে তথ্য অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নিয়েছে নানা কর্মসূচি। এমনি একটি কর্মসূচি হচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি বেইজড ই-সেন্টার বা তথ্যকেন্দ্র স্থাপন। দেশের প্রায় সব ইউনিয়নে ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এই ই-সেন্টার। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ পাচ্ছে ইন্টারনেটসহ অন্যান্য আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সুযোগ সুবিধা।
আধুনিক বিশ্বে তথ্যকে একটা শক্তি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। কিন্তু তথ্য যে শক্তি এই স্বীকৃতি কি সব পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত আছে? তথ্যের শক্তি জনগণের জীবনমানের সার্বিক পরিবর্তনে কী ভূমিকা পালন করতে পারে? সেই পরিবর্তনের আকাক্সক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ আসলে কী ধরনের তথ্য চান? তারা তা কোন প্রক্রিয়ায় পেতে চান? সর্বোপরি তৃণমূল পর্যায়ে কি তথ্য সচেতনতা তৈরি হয়েছে? না-কি তথ্য-চাহিদা তৈরি হয়, তার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ রয়েছে? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা সবার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। সেইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হচ্ছে এই জন্য যে, মানুষ যাতে সহজেই তথ্য পেতে পারে এবং তা কাজে লাগিয়ে তাদের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সেক্ষেত্রে মানুষের কাছে সরকার এবং ইউনিয়ন পরিষদ কী ভূমিকা রাখতে পারে তার জন্যই শুরু হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি সেবা।
গ্রামকেই ধরা হচ্ছে আমাদের উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা, তথা গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করাই হচ্ছে সবচেয়ে জরুরি বিষয়। সেজন্য স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতেই হবে। আর তাই সেদিকেই নজর দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের সবচেয়ে প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালীকরণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এই নিয়ে কর্মযজ্ঞ চলছে নানাভাবে। তথ্য জানার অধিকারের ব্যাপারে সচেতন করে তোলার জন্যই ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি সেবা। তথ্যকে চেপে না রেখে সবার জন্য অবারিত করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার-তা দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত হোক, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে যাক এর সুফল-আজকের তথ্য অধিকার দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT