সম্পাদকীয়

আবাসিক এলাকায় ব্যবসা

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৯-২০১৮ ইং ০০:৩১:২৮ | সংবাদটি ১৫১ বার পঠিত

আবাসিক এলাকায় ব্যবসা। নগরীর আবাসিক এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশ দুটোই বিনষ্ট হচ্ছে। সিলেট নগরীতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকাগুলোতে বলা যায় যেখানে সেখানে গড়ে ওঠেছে দোকানপাট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এগুলোতে সার্বক্ষণিক কোলাহলময় পরিবেশ বিরাজ করে। ফলে বিনষ্ট হয়েছে আবাসিক এলাকার নীরব পরিবেশ। দু’তিন দশক আগে যেসব আবাসিক এলাকায় বিশেষ করে দিনের বেলায় এক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করতো আজ সেখানে রাস্তার দু’পাশে নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দিন রাত ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনা গোনা, ওয়েল্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের মেশিনের টুং টাং শব্দ। এইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে বখাটেদের আড্ডা। ফলে ঘটছে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা। সব মিলিয়ে এলাকাবাসী অতীষ্ট। আবাসিক এলাকায় এই ধরনের অনাবাসিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
সিলেট মহানগরীতে জনসংখ্যা বাড়ছে। গড়ে উঠছে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা। বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্যই গড়ে উঠছে এইসব আবাসিক এলাকা। কিন্তু এগুলো গড়ে ওঠার পেছনে পরিকল্পনার ছাপ খুব একটা রয়েছে, এমনটি বলা যায় না। আবার কোনটি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হলেও এক পর্যায়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়, ভ-ুল হয়ে যায় সব পরিকল্পনা। প্রথমদিকে আবাসিক এলাকায় দোকানপাট গড়ে না উঠলেও, পরবর্তীতে ছোট বড় নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তাছাড়া অনেক প্রাচীন আবাসিক এলাকায়ও গজিয়ে ওঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সময়ের তাগিদে আবাসিক এলাকায় রাস্তাগুলো বড় করে দু’পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে ফুটপাত। এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্যই এইসব উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অথচ এই সুযোগ নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তারা আবাসিক এলাকার ফুটপাতকে ব্যবহার করেই গড়ে তুলছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নগরীকে বাসযোগ্য করে তোলার জন্য বিশেষ করে আবাসিক এলাকার পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখতে হবে। তাই বন্ধ করতে হবে আবাসিক এলাকায় অনাবাসিক কার্যক্রম। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীকেও সচেতন হতে হবে। দেখা গেছে, রাস্তার পাশের আবাসিক ভবনের মালিকেরা বাড়তি আয়ের জন্য বাসার সাথেই দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দিচ্ছেন। এতে পক্ষান্তরে তারা নিজেরাই নিজের এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট করছেন। আর আবাসিক এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টারও গড়ে উঠছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যস্ততা শুধুই বেড়ে চলেছে।
তবে এই সবকিছুর সঙ্গে সঙ্গে এ-ও বলা উচিত যে, আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকা দরকার। আর সেজন্য আবাসিক এলাকার নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়া যায়। আর সেটা হতে হবে পরিকল্পিতভাবে- সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে। সবচেয়ে আশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে, আবাসিক এলাকার ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায়, আজ কাল ব্যস্ত রাজপথ ছাড়াও অলিগলিতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আবাসিক এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা তথা এর সৌন্দর্য রক্ষায় এলাকাকে ‘বাণিজ্যিকীকরণের’ হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নীতিমালা বা আইন প্রণয়ন করা দরকার। আমরা আশা করি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা সজাগ হবেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT