সম্পাদকীয়

গৃহঋণ পাবেন কৃষকেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১০-২০১৮ ইং ০০:৪৬:৩৫ | সংবাদটি ৯০৮ বার পঠিত

গৃহঋণ পাবেন কৃষকেরাও। বাড়ি নির্মাণের জন্য দেয়া হবে ঋণ কৃষকদের। আর এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা চলতি মাসের এক তারিখ থেকে। গৃহনির্মাণে ঋণদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন এই উদ্যেগে নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি এতোদিন শুধু বিভিন্ন শহর এবং পার্শ্ববর্তী গ্রোথ সেন্টারগুলোতে গৃহনির্মাণ ঋণ দিয়ে আসছিলো। এখন শুরু হচ্ছে কৃষকদের ঋণ দেয়া। ইতোমধ্যেই এই সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। এই ঋণের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ। এর সুদ দিতে হবে আট শতাংশ হারে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে পাঁচ থেকে ২৫ বছর। এই ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০১৭ সালের মে মাসে। ‘কৃষক আবাসন ঋণ কর্মসূচি নামে এই ঋণদান কার্যক্রম যেদিন শুরু হলো, সেইদিন থেকেই সরকারি চাকুরীজীবীদের স্বল্প সুদে গৃহ ঋণ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংবাদে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও ঋণ প্রদানে যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে তাতে অসন্তোষ্ট কৃষকেরা। তারা বলছেন এটা ঋণ দেয়ার নামে কৃষকদের সঙ্গে প্রহসন করারই নামান্তর। বলা হয়েছে, সচ্ছল কৃষকদের দেয়া হবে ঋণ। কিন্তু বাস্তবে সচ্ছল কৃষকদের তো নিজের অর্থেই আবাসন তৈরি করার সামর্থ্য রয়েছে। আরও আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, যে কৃষকদের ঋণ দেয়া হবে তাদের উপজেলা সদরে জমি থাকতে হবে এবং তাদেরকে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তাছাড়া, শহরের উপকন্ঠে উপশহর কিংবা গ্রোথ সেন্টারে জমি আছে এবং সেখানে স্থায়ী বসবাস করেন, এমন কৃষকদেরও ঋণ দেয়া হবে। এইসব শর্ত আরোপ করণ কৃষকদের নিয়ে রীতিমতো উপহাস হিসেবেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ। সেই সঙ্গে ঋণ প্রদানে যতোসব কাগজপত্র দলিলের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সরকারি ঋণে বাড়ি নির্মাণের স্বপ্নটাই ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ‘কৃষক আবাসন ঋণ কর্মসূচি’র সুবিধা কৃষকরা পাবে না; পাবে অন্য কেউ।
আবাসন সমস্যা নিরসনে সরকারের আদৌ কোন ইচ্ছা যদি থেকে থাকে; তবে প্রকৃত কৃষকদের সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে। সরকারি চাকুরীজীবীদের ঋণ দেয়া হচ্ছে মাত্র পাঁচ শতাংশ সুদে। কৃষকদের তার চেয়ে কম সুদে ঋণ দেয়া উচিত। কারণ কৃষিপ্রধান এই দেশে কৃষকদের মর্যাদা সরকারি চাকুরীজীবীদের ওপরে। আর এই কৃষকদের দেয়া ট্যাক্স-এর অর্থেই সরকারি চাকুরীজীবীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স থেকে বর্তমানে যে গৃহঋণ দেয়া হচ্ছে, তা-ও অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন করা হচ্ছে। যার ফলে প্রকৃত অর্থে আবাসন সমস্যা নিরসনে এই প্রতিষ্ঠান খুব একটা অবদান রাখতে পারছে না; এমনটি ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সুতরাং এই ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT