সম্পাদকীয়

ঝিমিয়ে পড়েছে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১০-২০১৮ ইং ০০:২৯:২৫ | সংবাদটি ৭৪ বার পঠিত

ঝিমিয়ে পড়েছে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। কাগজে-কলমে পরিবার পরিকল্পনার সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বললেই চলে। যার ফলে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণে অজ্ঞতা আর অনীহা দূর হচ্ছেনা দম্পতিদের মধ্যে। জন্ম নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার অভাব রয়েছে গ্রামাঞ্চলে এবং শহরের বস্তি এলাকায়। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়-দেশে এখন জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬২ দশমিক চার জন। আর ১২ শতাংশ দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহী; কিন্তু তাদের কাছে এই সেবা পৌঁছুচ্ছেনা। সরকারি পরিসংখ্যানেই বলা হয়েছে, প্রতি বছর পদ্ধতি ব্যবহারকারী গড়ে মাত্র এক দশমিক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে ড্রপ আউটের হার এখনও ৪২ শতাংশের ওপরে। জন্ম নিয়ন্ত্রণে এই ব্যর্থতার কারণে দেশে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে হু হু করে। যা দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন রীতিমতো ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আবার কোন কোন দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং হ্রাস পাওয়াটাই সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আমাদের দেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতি আলোচনার অবকাশ রয়েছে। এখানে প্রতি মিনিটে জনসংখ্যা বাড়ছে চারজন। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৬০ দশমিক সাত শতাংশ বসবাস করে শুধু এশিয়া মহাদেশে। এক লাখ ৪৭ হাজার পাঁচশ ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। ১৯৬১ সালে যেখানে জনসংখ্যা ছিলো তিন কোটির কিছু ওপরে। সেই জনসংখ্যা এখন বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে জনসংখ্যা ২০ কোটিতে পৌঁছুবে কয়েক বছরের মধ্যেই। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এদেশে শুরু হয় স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই। এক পর্যায়ে এই কার্যক্রমে সফলতা আসে। কিন্তু তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিককালে এই কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই ব্যাপারে সচেতনতা নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামি। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত-সচেতন দম্পতিও অধিক সন্তান নিচ্ছেন। অনাকাংখিত শিশুরও জন্ম হচ্ছে। বিশেষ করে, অনগ্রসর দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ ব্যাপারে বলা যায় অন্ধকারেই।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করে চলেছে। এই খাতে ব্যয়ও হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু যতো উদ্যোগ আয়োজনই হোক না কেন, যতোই অর্থ ব্যয় হোক না কেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সীমিত পর্যায়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জনসংখ্যা বাড়ছে মাত্রাতিরিক্ত হারে কী শহর, কী গ্রাম সর্বত্র। বাস্তবতা হলো, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে মানুষ এখনও সচেতন হয়নি। পরিবার কল্যাণ সহকারি বা মাঠকর্মীরা বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষদের পরিবার পরিকল্পনার পরামর্শ দেয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতে হলে নতুন করে চিন্তা ভাবনা করতে হবে। প্রথমেই ধর্মীয় এ সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। সামগ্রিকভাবে এই সমস্যাটিকে প্রথম জাতীয় সমস্যা হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT